শীতের মৌসুমে বাজারে গেলে চোখ জুড়িয়ে যায় রঙিন সব ফলে। তবে পুষ্টিগুণে কমলা লেবু, জলপাই ও আমলকির জুড়ি মেলা দায়। এই ফলগুলো প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখা জরুরি। প্রতিটি ফলের রয়েছে আলাদা গুণ। চলুন এক নজরে দেখে নেয়া যাক ফলগুলোর উপকারিতা।
১. কমলা লেবু: কমলা লেবু দেখতে যেমন চমৎকার এর পুষ্টিগুণও অনেক। কমলা লেবু শুধু স্বাদে অনন্য নয়, এর পুষ্টিগুণও ব্যপক। শীতের এই সময়ে বাজারে বেশ সহজলভ্যও এটি। তাই কমলা লেবু খেতে খেতেই শরীরের জন্য করতে পারেন বেশ কিছু উপকার।
• রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: এতে থাকা উচ্চমাত্রার ভিটামিন-সি শরীরকে সাধারণ ফ্লু ও সর্দি-কাশি থেকে রক্ষা করে।
• ত্বকের উজ্জ্বলতা: অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট
সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায়, ফলে ত্বক থাকে টানটান ও সতেজ।
• রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: এতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।নিয়মিত কমলা খেলে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে
• টক স্বাদের কমলা খেলে শরীরের চর্বি কমে। তবে শরীরে বেশিমাত্রায় ও অনেক দিনের মেদ জমে থাকলে খুব একটা উপকার পাওয়া যায় না। সদ্য মেদ জমতে শুরু করলে, সেটি ঝরিয়ে ফেলতে বেশ উপকারী এটি।
২. জলপাই: শীতের শুরু থেকেই জলপাই পাওয়া যায়। টক স্বাদের এই ফলটি দিয়ে মুখরোচক আচার বানিয়ে বছরজুড়ে খেতে পছন্দ করেন অনেকেই। আবার তরকারি ও ডালে টক স্বাদ নিয়ে আসার জন্যও জলপাই বেশ উপাদেয়। টক এই ফলটিতে মেলে উপকারী নানা ধরনের ভিটামিন ও মিনারেল। এটি ভিটামিন-ই এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের চমৎকার উৎস। স্বাস্থ্যগত দিক দিয়ে এর উপকারিতাও অনেক।
• হার্টের সুরক্ষা: জলপাইয়কে
হার্টের বন্ধু বলা হয়।এতে থাকা মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদরোগের
ঝুঁকি কমায়।
• হাড়ের স্বাস্থ্য: এতে থাকা
ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁত মজবুত করতে সাহায্য করে।
• ক্যান্সার প্রতিরোধ: জলপাইয়ের ফিনোলিক যৌগ শরীরে ক্যান্সার কোষ গঠনে বাধা দেয়।
• ত্বক ও চুলের যত্নে: কালো জলপাইয়ের তেলে রয়েছে ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ত্বক ও চুলের যত্নে কাজ করে। জলপাইয়ের তেল চুলের গোড়ায় লাগালে চুলের গোড়া মজবুত হয়। এতে চুল পড়ার সমস্যা দূর হয়।
• লৌহের ঘাটতি: কালো জলপাই লৌহের বড় উৎস। রক্তের লোহিত কণিকা অক্সিজেন পরিবহন করে। শরীরে লৌহের অভাব হলে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয়। এ কারণে শরীর দুর্বল হয়।
• চোখের যত্নে: জলপাইয়ে ভিটামিন-এ পাওয়া যায়। ভিটামিন-এ চোখের জন্য ভালো। যাঁদের চোখ আলো ও অন্ধকারে সংবেদনশীল, তাঁদের জন্য ওষুধের কাজ করে জলপাই। এ ছাড়া জীবাণুর আক্রমণ, চোখ ওঠা, চোখের পাতায় সংক্রমণজনিত সমস্যা দূর করে এটি।
৩. আমলকী: প্রতিদিন একটি করে আমলকি খাওয়ার করুন। কারণ আমলকি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারি। বলা হয়, একটি আমলকি ২০টি কমলার সমান ভিটামিন-সি বহন করে। খেতে পারেন আমলকীর আচার কিংবা মোরব্বা। এই ছোট্ট ফলটি আপনাকে দেবে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার নিশ্চয়তা। চলুন জেনে নেই আমলকির বিশেষ কিছু উপকারিতা।
• চুলের যত্ন: আমলকী চুলের
গোড়া শক্ত করে এবং অকালে চুল পাকা রোধ করে।
• হজম শক্তি বৃদ্ধি: এটি
লিভারের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে জাদুর মতো কাজ করে।
• রক্ত পরিষ্কারক: আমলকী রক্ত থেকে টক্সিন বের করে শরীরকে ভেতর থেকে সতেজ রাখে।
• চোখের যত্নে: মধুর সঙ্গে আমলকীর রস মিশিয়ে পান করলে দৃষ্টিশক্তি উন্নত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে যে এটি চোখের ভিতরের চাপকে হ্রাস করে, দূরের জিনিস দেখতে পায় এবং ছানি পড়তে দেয় না।
• বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না: আমলা শরীরের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে শরীরে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত হাইপারলিপিডেমিয়া বন্ধ করে। মুক্ত কোষগুলো যেমন বলিরেখা এবং বয়সের ছো্প পড়ে না।
শেষে একটা কথা না বললেই নয়। এই ফলগুলো সরাসরি কাঁচা খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়। রান্নায় বা তাপে ভিটামিন-সি এর গুণাগুণ কিছুটা হলেও নষ্ট হয়।
/এমএইচআর