শরিফ ওসমান হাদি: যার স্বপ্নিল চোখে ছিল ইনসাফের বাংলাদেশ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৩৪ পিএম
২৪'র জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ের আলোচিত তরুণ রাজনীতিক, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য এমপি পদপ্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি আর নেই। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
শরিফ ওসমান হাদি, পারিবারিক নামের শেষাংশ ওসমান হাদি নামেই পরিচিত ছিলেন তিনি। দক্ষিণবঙ্গের ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৯৩ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। হাদির বাবা মরহুম মাওলানা আব্দুল হাদি ছিলেন নলছিটি ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার শিক্ষক। পরিবারের ছয় ভাইবোনের মধ্যে হাদি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ।
শিক্ষাজীবনে তিনি বাবার কর্মস্থল নলছিটি ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসায় তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। এরপর জেলার ঐতিহ্যবাহী নেছারাবাদ কামিল মাদরাসায় ভর্তি হন এবং সেখান থেকে আলিম পাস করেন। পরে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন।
রাজধানীর রামপুরা এলাকায় বসবাস করতেন হাদি। ব্যক্তিজীবনে এক পুত্রসন্তানের বাবা তিনি। ঢাকার বাসায় স্ত্রী-সন্তান ও মা'কে নিয়ে থাকতেন তিনি।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং পরে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনে ওসমান হাদি ছিলেন সামনের সারির যোদ্ধা। রামপুরা এলাকার সমন্বয়ক হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। জুলাই শহিদদের অধিকার রক্ষা, ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থান এবং 'ন্যাশনাল অ্যান্টি-ফ্যাসিস্ট ইউনিটি'র ব্যানারে তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন।
মূলত, গত বছর সরকার পতনের আন্দোলন এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সাধারণ মানুষের কাছে একটি পরিচিত মুখ হিসেবে আবির্ভূত হন।
গণঅভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতা ও দাবির ভিত্তিতে তিনি সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম 'ইনকিলাব মঞ্চ' প্রতিষ্ঠা করেন। সংগঠনটির লক্ষ্য ছিল আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম করা।
দেশে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন (মতিঝিল, শাহবাগ, রমনা, পল্টন ও শাহজাহানপুর) থেকে এমপি পদে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিলেন হাদি।
তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাঠামোগত দুর্বলতার সমালোচনা করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান করে একটি জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এছাড়া বিএনপি বা পুরানো ধারার রাজনীতির কঠোর সমালোচক ছিলেন তিনি। তার মতে, পুরানো ধারায় রাজনীতি করে কেউ ক্ষমতায় এলে তারা বেশিদিন টিকতে পারবে না। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ধাঁচ ও তার আপসহীন স্বভাব রাজনীতির মাঠে তার মানসিক রসদ হিসেবে কাজ করেছে— একধিকবার এ কথা বলেছেন হাদি।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই মানুষের মধ্যে ওসমান হাদিকে নিয়ে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ছিল। তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে দিনভর সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা চলছিল। দিবাগত রাত পৌনে ১০টার দিকে তিনি মারা যান।
/এমএইচআর