পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি
দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় ঢাকার ক্ষোভ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৭ পিএম
পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ করে দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও তার চক্রের বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর কোনো স্থান নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বুধবার (৫ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, ভারত সরকারের অনুমতিতে আজ সন্ধ্যায় দিল্লিতে পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেছেন এবং সেখানে তিনি ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে বিষোদ্গারমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশ গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করছে।
বাংলাদেশ গভীর দুঃখ প্রকাশ করছে যে, এ ধরনের আয়োজনের সম্ভাব্য প্রভাব দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় কী ধরনের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে, সে বিষয়ে ভারত সরকারকে আগেই অবহিত করা হলেও, অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
আরও বলা হয়, বাংলাদেশের জনগণ যখন জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালন করছে, তখন ভারতীয় ভূখণ্ডে শেখ হাসিনার এ ধরনের গণমাধ্যমে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি চরম অসম্মান। জাতিসংঘ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সত্য, যার মধ্যে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে নিরীহ বেসামরিক নাগরিক, এমনকি অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডও অন্তর্ভুক্ত, তা অস্বীকার করা পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও তার অপরাধী সহযোগীদের ইতিহাসের গতিপথ উল্টে দেওয়ার এক ব্যর্থ প্রচেষ্টা মাত্র। বাংলাদেশের জনগণ অতীতেও এ ধরনের জঘন্য প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এখনও তা প্রত্যাখ্যান করে চলেছে।
জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশের জনগণ দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকার করেছে যে, দেশ আর কখনোই ফ্যাসিবাদের অন্ধকার যুগে ফিরে যাবে না এবং বাংলাদেশ কখনোই কোনো প্রভুত্বশীল রাষ্ট্রের অনুগত রাষ্ট্র হবে না। এমনকি দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও তার চক্রের বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর কোনো স্থান নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না।
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে প্রত্যর্পণ ইস্যুতে ভারতের অবস্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উল্লেখ করে বলা হয়, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের বারবার অনুরোধ জানানো হলেও ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। বরং তাকে যেকোনো অজুহাতে প্রকাশ্যে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে গভীর আঘাত হেনেছে এবং বাংলাদেশ-ভারতের সৌহার্দ্যপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিকাশের জন্য ক্ষতিকর।
/এসআইএন