ম্যাজিস্ট্রেটকে অবরুদ্ধ করে আটককৃতদের ছিনতাই করলো আওয়ামী লীগ নেতা

|

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পদ্মা নদী থেকে খননযন্ত্র দিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করার সময় আট ব্যক্তিকে আটক করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার। ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে অবরুদ্ধ করে আটককৃত আট জনকে ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে নড়িয়া উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা সিকদারে বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তার ভাই সুমন সিকদকরকে আটক করেছে পুলিশ ।

নড়িয়া থানা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, নড়িয়ার পদ্মা নদী থেকে খননযন্ত্র দিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করছিলেন উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা সিকদার। তিনি উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা আক্তারের স্বামী। মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নড়িয়া উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার রাশেদুজ্জামান খননযন্ত্রসহ বালু উত্তোলনে জড়িত আট ব্যক্তিকে আটক করেন। দুপুর আড়াইটার দিকে আসামিদের নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দল নড়িয়া লঞ্চঘাট এলাকায় পৌঁছলে মোস্তাফা সিকদার ও তার ভাই সুমন সিকদারের নেতৃত্বে তার সমর্থকরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওই দলকে অবরুদ্ধ করে পাঁচ আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ সুমন সিকদারকে আটক করে।

এ ঘটনায় মোস্তফা সিকদারের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার স্ত্রী নড়িয়া উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা আক্তারের বলেন, আমার স্বামী অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের সাথে যুক্ত নয়। তিনি নড়িয়া লঞ্চঘাট এলাকায় বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলানোর কাজ করছেন। তখন সেখানে হৈ চৈ দেখে এগিয়ে যান। ওই সময় এসিল্যান্ড তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিলে সে দৌড়ে পালায়।

নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের সহকারি কমিশনার রাশেদুজ্জামান বলেন, নড়িয়ায় পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন করার সময় একটি খনন যন্ত্র জব্দ করি। এ কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগে আটজনকে আটক করি। স্থানীয় এক আ.লীগ নেতা ওই খনন যন্ত্র ও আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তিতে তাকে আটক করার নির্দেশ দিলে সে পালিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাঁধা দেয়ার অভিযোগে মামলা করা হবে।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক আকন্দ বলেন, সরকারি কাজে বাঁধা দেয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।









Leave a reply