ডিসির সাথে সেই নারী সহকর্মীর বিয়ের গুঞ্জন, কী বলছে পরিবার ?

|

অফিস সহকর্মীর সঙ্গে জামালপুরের বরখাস্ত হওয়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ কবীরের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে যে, ওই নারীকেই বিয়ে করছেন ডিসি। সানজিদা ইয়াসমিন সাধনার সঙ্গে আহমেদ কবীরের বিয়ের খবর নিয়ে মুখ খুলেছে তার পরিবার।

এ খবরকে ভুয়া ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সাধনার মা। মঙ্গলবার একাধিক সংবাদমাধ্যমে আহমেদ কবীর ও সাধনার বিয়ে সংক্রান্ত খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার (সাধনা) মা বলেছেন, ডিসির সঙ্গে সাধনার বিয়ে কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

ডিসির সঙ্গে গোপন ভিডিও প্রকাশ হওয়ার পর অনেকটা লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যান সাধনা। দু’দিন আগে আচমকা ডিসি অফিসে হাজির হন ছুটির দরখাস্ত নিয়ে। এ সময় তাকে ঘিরে সহকর্মীদের কানাঘুষায় হঠাৎ জ্ঞান হারান সাধনা। পরে তার জ্ঞান ফিরে আসে। এদিকে রাতের আঁধারে জামালপুর ত্যাগ করেছেন বরখাস্ত হওয়া ডিসি আহমেদ কবীর।

এরই মধ্যে মঙ্গলবার বিকালে নতুন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। দেশের একাধিক গণমাধমের খবরে বলা হয়, চাকরি বাঁচাতে সাধনাকেই বিয়ে করতে যাচ্ছেন আহমেদ কবীর।

এরপর ওই গুঞ্জনের সত্যতা জানতে সাধনার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাকে ফোনে পাওয়া না যাওয়ায় তার বাসায় যোগাযোগ করা হলে সাধনার মা বলেন, ‘এ ঘটনার পর আমার মেয়ে মানসিকভাবে খুব ভেঙে পড়েছে। ও মিডিয়ার লোকজন থেকে একটু দূরে থাকতে চাচ্ছে। আপনারা তাকে ডিস্টার্ব করবেন না, প্লিজ।’

আহমেদ কবীরের সঙ্গে সাধনার বিয়ের সম্ভাব্যতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো প্রস্তাব ডিসি কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের দেয়া হয়নি। আর দেয়া হলেও আমরা তা মেনে নেব না। ডিসির সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ে কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’

যুক্তি হিসেবে সাধনার মা বলেন, তার (আহমেদুল কবীর) নিজের একটা পরিবার আছে, অন্যদিকে আমার মেয়েরও সন্তান আছে। তাই এ ধরনের কিছুই সম্ভব নয়।

গত বৃহস্পতিবার সাধনার সঙ্গে আহমেদ কবীরের আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশ হয়। ভিডিওটিতে দুজনকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায়।

বৃহস্পতিবার মধ্য রাতে খন্দকার সোহেল আহমেদ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে জেলা প্রশাসকের আপত্তিকর ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। যদিও বিষয়টি অস্বীকার করে ঘটনাটি ‘সাজানো’ বলে দাবি করেন ডিসি আহমেদ কবীর। ওই ঘটনায় জামালপুরসহ সারা দেশের মানুষের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় রোববার জামালপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ কবীরকে ওএসডি করা হয়। তার বদলে নতুন ডিসি হিসেবে নিয়োগ পান পরিকল্পনামন্ত্রীর একান্ত সচিব (উপসচিব) মোহাম্মদ এনামুল হক। ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এরইমধ্যে জামালপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় পরিদর্শন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. মুশফিকুর রাহমানের নেতৃত্বাধীন তদন্ত দল। জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন সাবেক ডিসির সহকারী সানজিদা ইয়াসমিন সাধনাকেও।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে জামালপুরের ডিসি থেকে ওএসডি হওয়া আহমেদ কবীরের বিরুদ্ধে ‘উদাহরণ সৃষ্টির মতো’ শাস্তির ব্যবস্থা হবে বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।









Leave a reply