জাহাজের খবর দিতে আসলো ‘জাহাজী’

|

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে চালু হলো অভ্যন্তরীণ নৌপথে পণ্যবাহী জাহাজের জন্য অ্যাপভিত্তিক বুকিং এবং ট্র্যাকিং সেবা। এর নামটাও বেশ আকর্ষণীয়-‘জাহাজী’। রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জাহাজী’ অ্যাপের উদ্বোধন করেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, এভাবে মেধাবী তরুণ উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে এ খাতের চেহারা বদলে যাবে। তরুণদের সকল ইতিবাচক উদ্যোগের সাথে থাকবে বর্তমান সরকার।

‘জাহাজী’র অ্যাপের উদ্যোক্তা দু’জন স্বপ্নবাজ তরুণ- কাজল আব্দুল্লাহ এবং অভিনন্দন জোতদার। খুলনার ছেলে কাজল এবং অভিনন্দন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগে পড়াশোনা করেছেন। লেখাপড়া শেষ করে কাজল দেশি-বিদেশি নানা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। বিবিসি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্প ছাড়াও কাজ করেছেন গণহত্যা জাদুঘর, ব্র্যাকের মতো প্রতিষ্ঠানে। অন্যদিকে, অভিনন্দন পড়াশোনা শেষে ব্যাংকে কাজ করেছেন কয়েক বছর। পরে এলাকায় গিয়ে ব্যবসা শুরু করেন।

‘জাহাজী’র বিষয়ে জানতে চাইলে কাজল আবদুল্লাহ বলেন, এই অ্যাপের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ রুটের জাহাজের পণ্য পরিবহনের তথ্য পাওয়া যাবে। পাশাপাশি, জাহাজ মালিকরা জাহাজ ট্র্যাক করতে পারবেন, আবার চলন্ত জাহাজ থেকেও পণ্য কিনতে পারবেন ক্রেতারা।

তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ পরিবহনের এই খাত নিয়ে ধর্মঘট আর পণ্যবাহী জাহাজ ডুবির খবরই শুধু আমরা দেখতে পাই। এ বিশাল খাতের সঠিক তথ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতেও নেই। পুরো খাতটি চলছে মুখের কথার ওপর চলছে। ক্লায়েন্ট জাহাজ ভাড়া করার সময়ও যেমন সঠিক তথ্য পায় না, তেমন কথার সাথে কাজের মিল দেখা যায় না। এভাবে এই সম্ভাবনাময় খাতের উন্নতি তো দূরের কথা, বরং আরও পিছিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমরা মনে করি আমাদের এ উদ্যোগের মাধ্যমে এ খাতে শৃঙ্খলা আসবে। মাননীয় নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রীও আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

কাজলের সহ-উদ্যোক্তা অভিনন্দন বেশ কয়েক বছর ধরেই এই খাতে কাজ করছিলেন। দুই বন্ধুর আড্ডাতে বিভিন্ন সময়ই উঠে আসে এই বিশাল খাতে প্রযুক্তির সংকট ও অব্যবস্থাপনার কথা। এক সময় তারা সিদ্ধান্ত নিলেন জরিপ করার। কাজল জানান, মাঠে নেমেই বুঝতে পারেন এ খাতটিতে কতটা অব্যবস্থাপনা। তখন কিছুটা ঝুঁকি নিয়েই চাকরি ছেড়ে দেই। দুই বন্ধু নেমে পড়ি অ্যাপ বানানোর মিশনে।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে দুই বন্ধু জাহাজ মালিক বাহাউদ্দীন রূপকের সঙ্গে ‘জাহাজী’ নামের প্রতিষ্ঠান শুরু করেন। বাহাউদ্দীন রূপক হন চেয়ারম্যান, কাজল আব্দুল্লাহ সিইও এবং অভিনন্দন অপারেশনাল হেড। শিরোনামহীনের ‘জাহাজী’ গানটি ছিল তাদের খুব পছন্দের। সেখান থেকেই প্রতিষ্ঠানের নামে বেছে নেন তারা।

‘জাহাজী’ অ্যাপের অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন পাওয়া যাচ্ছে গুগলের প্লে স্টোরে। টেকনিক্যাল সাপোর্টে কাজ করছে সরফরাজ- শিরাম সিস্টেমস যার প্রতিষ্ঠাতা তাদেরই বন্ধু সরফরাজ যিনি বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে খুলনাতেই শুরু করেন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। বন্ধুর ওপরই আস্থা রেখেছেন এই তরুণ উদ্যোক্তারা। তাদের স্বপ্ন সড়কে অ্যাপভিত্তিক রাইড সেবা সে সাফল্য পেয়েছে সেটি ছাপিয়ে যাবে ‘জাহাজী’। স্বপ্ন বড় হতে দোষ কী? পরিসরটাও যে বড়।









Leave a reply