জেরুজালেম প্রশ্নে নেতানিয়াহুর সাথে ম্যাকরনের দ্বিমত

|

ট্রাম্প প্রশাসনের জেরুজালেম স্বীকৃতি মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি স্থাপনের পথে অন্তরায়। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরনের পরামর্শ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ইসরায়েলের উচিৎ অবৈধ বসতি স্থাপন থেকে সরে আসা। অন্যদিক প্যারিস সফররত, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ঐতিহাসিকভাবেই ইসরায়েলের রাজধানী জেরুজালেম। এ বাস্তবতা বিশ্ব যতো দ্রুত মেনে নেবে, ততোই মঙ্গল।

বৈরুত থেকে রাবাত, ইস্তাম্বুল থেকে ইসলামাদ। রোববারও, ফিলিস্তিনিদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার ছিলেন বিভিন্ন দেশের লাখো মুসলিম। ছিলো বিভিন্ন দেশের মার্কিন দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি। লেবাননের বিক্ষোভ  গড়ায় সহিংসতায়।

একইদিন, প্যারিসে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরনের সাথে বৈঠক করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। সাম্প্রতিক জেরুজালেম ইস্যুতে কঠোর সমালোচনার মুখোমুখি হন। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ম্যাকরন পরামর্শ দেন, অবৈধ বসতি স্থাপনা থেকে সরে আসার।

ম্যাকরন বলেন, বরাবরই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে ফ্রান্স। আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন মেনে ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি স্থাপিত হোক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে বলেছি, ট্রাম্প প্রশাসনের স্বীকৃতির সাথে ফ্রান্স একমত নয়। কারণ, এটি স্পষ্টভাবে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং শান্তির জন্য হুমকি। আর, ইসরায়েলের জন্যেও এ ঘোষণা বয়ে এনেছে নিরাপত্তা ঝুঁকি।

পক্ষান্তরে, মিত্র দেশের আহ্বান উপেক্ষা করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফিলিস্তিন দ্রুত ‘জেরুজালেমের স্বীকৃতি’ মেনে নিলেই আসবে আঞ্চলিক শান্তি।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, জেরুজালেম ৩ হাজার বছর ধরেই ইসরায়েলের রাজধানী। নতুনভাবে এর মালিকানা দাবি করাটা হাস্যকর। তাই, ফিলিস্তিনের প্রতি আমাদের আহ্বান- যতো দ্রুত তারা এই সত্য মেনে নেবে, ততো তাড়াতাড়ি আসবে আঞ্চলিক সংকটের সমাধান। কারণ, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ।

রোববারও, অস্থির ছিলো গাজা উপত্যাকা, জেরুজালেম ও পশ্চিম তীর। ইসরায়েলি এক সেনাসদস্যকে ছুরিকাঘাতের দায়ে গ্রেফতার হন এক ফিলিস্তিনি। এছাড়া, বিচ্ছিন্ন সহিংসতা আর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় আহত হন কমপক্ষে ২৩০ জন।

এমন পরিস্থিতিতে, গাজা’র নিয়ন্ত্রণ ফাতাহ’র হাতে তুলে দেয়ার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করেছে হামাস। ১০ বছরের বৈরিতা ভুলে অক্টোবরে ফিলিস্তিনের স্বার্থে ঐকমত্যে পৌঁছেছিল দু’পক্ষ।

যমুনা অনলাইন: টিএফ









Leave a reply