আরেক ‘তারেক সালমন’!

|

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক মাহবুবুল হক ভুইয়াকে এক মাসের বাধ্যতামূলক ছুটি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ; বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস আদেশের মাধ্যেমে জানানো হয়-  ‘শোক দিবসে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত কর্মসূচি চলাকালীন সময়ে ক্লাস নেয়াকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এক মাসের ছুটি প্রদান করা হইল’। এদিকে শিক্ষক মাহবুবুল হক ভুঁইয়ার বাধ্যতামূলক ছুটির আদেশ বাতিলের দাবিতে ভিসিকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি

জাতীয় শোক দিবসের আলোচনায় অংশ না নিয়ে নিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়ার অভিযোগ এনে ওই শিক্ষকের বহিষ্কার দাবি করেছিল ছাত্রলীগ। যদিও শিক্ষক মাহবুবুল হকের দাবি, তিনি ক্লাস নেননি, ছাত্রদের সাথে একাডেমিক বিষয়ে আলোচনা করেছেন। ছাত্রলীগের দাবি শিক্ষক মাহবুবুল হক শোকের দিনে ক্লাস নিয়ে জাতির পিতাকে অবমাননা করেছেন। তাই তার বহিষ্কারের দাবিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেয় শাখা ছাত্রলীগ। বুধবার সকালে প্রশাসনিক ভবন ও একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে এবং ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে তারা।

এদিকে ক্লাস নেওয়া প্রসঙ্গে মাহবুবুল হক ভুঁইয়া দাবি করেছেন ‘এটা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। ফেসবুকে তিনি নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, “সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা চলছে। ইতিমধ্যে একটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতও হয়েছে। সুতরাং এখন তাদের ক্লাস নেওয়ার সুযোগ নেই। অামি অাজ সকালে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ক্যাম্পাসে অাসি। এরপর যথারীতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যে ফুল প্রদান শেষে ওইখানেই দাঁড়িয়ে ছিলাম। এর মধ্যে কিছু স্টুডেন্ট এসে বলে, তারা কিছু বিষয় বুঝছে না, একটু সময় দিতে। অামি তাদেরকে ডিপার্টমেন্টে অামার রুমের সামনে গিয়ে দাঁড়াতে বলি। এর কিছুক্ষণ পর ডিপার্টমেন্টে গিয়ে দেখি ওরা সংখ্যায় প্রায় ১০-১২ জন। অার এর মধ্যেই অামার অারেকজন সহকর্মী অন্য ডিপার্টমেন্টের অারও দুজন সহকর্মীসহ রুমে অাসেন। এ অবস্থায় তাদের সঙ্গে ওই রুমে বসে কথা বলা সম্ভব ছিল না, কারণে রুমে এত মানুষের বসার জায়গা ছিল না। অামি স্টুডেন্টদেরকে পাশের একটি রুমে বসতে বলি এবং নিজেও একটু পরে সেখানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করি। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ক্লাস নেওয়ার অভিযোগ তোলা হচ্ছে। সুতরাং ক্লাস নেওয়ার অভিযোগ একেবারেই সঠিক নয়। এখানে একটি ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে।”

এদিকে মাহবুবুল হকের বহিষ্কারের দাবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যোমে নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে, অনেকে বলছেন মাহবুবুল হক ভুঁইয়াকে তারেক সালমনের মতো ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

রাসেল মাহমুদ নামে একজন লিখেছেন “ছাত্রলীগতো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত। বঙ্গবন্ধুকে যতটুটু জেনেছি তাতে মনে হয়েছে, তিনি সাধারণের কল্যাণের জন্যই নিবেদিত ছিলেন। ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করে শিক্ষকের বহিষ্কার চাওয়া হচ্ছে। এটা কতটুকু কল্যাণকর সেটাও ভাবতে হবে।

মুহাম্মদ জুয়েল মিয়া বলেন, ‘রুটিন মাফিক ক্লাস নেয়া আর শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন বিবেচনায় তাদের সঙ্গে আলোচনা; দুই প্রেক্ষিত নিশ্চয়ই এক নয়। শিক্ষার্থীদের সাথে সময় না দিলে আপাত দৃষ্টিতে কোনো ক্ষতি হতো না এই শিক্ষকের। ক্ষতিগ্রস্ত হতো শিক্ষকের দায়িত্ববোধ, বিবেকবোধ আর নীতির। ‘আসল’ শিক্ষার্থীদের সময় না দিয়ে টাকার পিছনে ছুটে চলা শিক্ষকদের সংখ্যা যেখানে ক্রমেই বাড়ছে, সেখানে মাহবুবুল হক ভূঁইয়া ব্যতিক্রম। শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যাওয়ার এইতো প্রত্যয়’।

শরিফুল হাসান বলেন, “ছাত্রলীগ কোন আদর্শে বেড়ে উঠছে জানতে চাই কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে? শোক দিবসে কী পরীক্ষার্থী, ছাত্রছাত্রীদের সাথে কথা বলা যাবে না? আমি তো বলবো একজন শিক্ষক ২৪ ঘন্টাই যে শিক্ষক সেটা প্রমান করেছে মাহবুব। তোমাকে শ্রদ্ধা তাই। ছাত্রলীগের কাছে অনুরোধ বঙ্গবন্ধুর আদর্শটা আরেকটু অন্তর দিয়ে বুঝুন।”

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক ও বিভাগীয় প্রধান মাহবুবুল হক ভূঁইয়া’র বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ কর্তৃক উপাচার্য বরাবর মিথ্যা অভিযোগ দায়েরের প্রতিবাদে আজ দুপুর ১২টায় অপরাজেয় বাংলায় মানববন্ধন করেছেন বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা৷মানববন্ধন থেকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ ও সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃবৃন্দের প্রতি এ-মিথ্যা অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়৷

প্রসঙ্গত, গত বছর ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে আগৈলঝাড়ায় শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগীতার প্রথম হওয়া ছবি স্বাধীনতা দিবসের কার্ডের পেছনে ছাপা হয়। এতে বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃত করার অভিযোগে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ ওবায়দুল্লাহ সাজু মামলা করেন ইউএনও তারিক সালমনের বিরুদ্ধে। সারাদেশে সমালোচনার ঝড় উঠলে পরবর্তীতে সে মামলা তুলে নেয়া হয়।

টিবিজেড/









Leave a reply