সহজ জয়ে ফাইনালে টাইগাররা

|

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সহজ জয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়েকে ৩৯ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। দুর্দান্ত ব্যাট করে ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ম্যাচে নিজের তৃতীয় বলেই উইকেটের দেখা পেয়েছেন ব্যাটসম্যান থেকে লেগ স্পিনার হয়ে যাওয়া আমিনুল ইসলাম বিপ্লব।

১৭৫ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোরে অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। ফিল্ডিংয়ে নেমে ৪ ওভার শেষেই জয় অনেকটাই নিশ্চিত করে ফেলে বাংলাদেশ। কারণ ততক্ষণেই ১৬ রান তুলে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে জিম্বাবুয়ে।

শেষ পর্যন্ত ১৩৬ রানে থেমেছে জিম্বাবুয়ের ইনিংস। ৩৯ রানের এ জয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল নিশ্চিত করল করল বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ বিবেচনায় অনেকেই এই জয়কে স্বস্তির বলতে অস্বস্তি বোধ করতে পারেন। তবে সাম্প্রতিক হতাশার মধ্যে কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠাকে সাফল্য বলাই যায়। ৩ ম্যাচে ২ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। আর জিম্বাবুয়ে ৩ ম্যাচেই হেরে বাদ পড়ল টুর্নামেন্ট থেকে।

দুই বছর পর টি-টোয়েন্টি দলে ফেরা শফিউলের নিয়েছেন ৩ উইকেট। পাশাপাশি আভিষিক্ত আমিনুল ২, মোস্তাফিজ ২টি করে উইকেট নেন। সাকিব আর সাইফুদ্দিনও খালি হাতে ফেরেননি। নিয়েছেন ১টি করে উইকেট।

এর আগে, টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে অভিষিক্ত নাজমুল হোসেন শান্তকে সঙ্গে নিয়ে উড়ন্ত সূচনা করেন লিটন কুমার দাস। ওপেনিংয়ে তারা ৪.৫ ওভারে ৪৯ রানের জুটি গড়েন। এরপর মাত্র ৬ রানের ব্যবধানে বিদায় নেন দুই ওপেনার। কাইল জার্ভিসের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হওয়া নাজমুল হোসেন শান্ত। তার আগে ৯ বলে মাত্র ১১ রান করার সুযোগ পান তরুণ এ ওপেনার।

আগের ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে শূন্য রানে আউট হওয়া জাতীয় দলের ওপেনার লিটন দাস আজ শুরু থেকেই অসাধারণ ব্যাটিং করেন। একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে যাওয়া এই ব্যাটসম্যান ক্রিস মফুর বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন।

সাজঘরে ফেরার আগে ২২ বলে চারটি চার ও দুই ছক্বায় ৩৮ রান করেন লিটন। তার বিদায়ে ৫.৫ ওভারে ৫৫ রানে দুই ওপেনারের উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

দলীয় ৫৫ রানে দুই ওপেনারের বিদায়ের পর ব্যাটিংয়ে নামেন সাকিব। প্রত্যাশা ছিল তিনি ব্যাটিংয়ে ঝলক দেখাবেন। আগের দুই ম্যাচে ১৬ রান করা সাকিব এদিন ফেরেন মাত্র ১০ রানে। তিন ম্যাচে সাকিবের সংগ্রহ মাত্র ২৬ রান। তার বিদায়ে ৭.২ ওভারে ৬৫ রানে তিন উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এরপর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরেন মুশফিকুর রহিম। চতুর্থ উইকেটে একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৭৮ রানের জুটি গড়েন তারা। রিয়াদ-মুশফিকের ব্যাটিং দেখে একটা সময়ে মনে হয়েছিল বাংলাদেশ দুইশ’ রানের কাছাকাছি যাবে।

কিন্তু ২৬ বলে ৩২ রান করে মুশফিক আউট হলে রান সংগ্রহের সেই অগ্রযাত্রা থেমে যায়। এরপর তরুণ ব্যাটসম্যান আফিফ হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে সেভাবে ব্যাটিং তাণ্ডব চালাতে পরেননি রিয়াদ। অভিষেক ম্যাচে অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলে বাংলাদেশকে জয় উপহার দেয়া আফিফ এদিন ফেরেন মাত্র ৭ রানে।

ইনিংসের শেষ ওভারে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন রিয়াদ। তার আগে ৪১ বলে এক চার ও ৪টি ছক্কায় ৬২ রান করেন তিনি। তার বিদায়ের পর ব্যাটিংয়ে নেমে কিছু বুঝে ওঠার আগেই আউট হয়ে যান মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

ইনিংসের শেষ ওভারে পরপর দুই বলে রিয়াদ-সৈকতের বিদায়ের পর ব্যাটিংয়ে নেমে দুই বলে এক চারের সাহায্যে ৬ রান আদায় করে নেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তাতে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৭৫/৭ রান। জিম্বাবুয়ের হয়ে ৪ ওভারে ৩২ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন কাইল জারভিস।









Leave a reply