‘মানুষ মিন্নিকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে, মুক্তির জন্য নামাজ-রোজা করে’

|

মানুষ মিন্নিকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে। অনেক মানুষ মিন্নির কারামুক্তির জন্য নামাজ পড়ে দোয়া করছে। অনেকে রোজা রেখেছে, মানত করেছে। এসব কথা জানিয়েছেন বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি ও রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির বাবা মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর।

তিনি বলেন, মিন্নির আইনজীবীরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন, এবং সে যে নির্দোষ এটা প্রমাণ করবেন। স্বামী রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় মিন্নিকে জড়ানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা সাজানো নাটক। কুচক্রী মহল দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এটা করানো হয়েছে। যারা এর পেছনে আসে তাদেরও পরবর্তীতে আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন মিন্নির আইনজীবীরা।

বাবার সাথে মিন্নির ঘুরতে যাওয়ার একটি ক্লিপ পাওয়া গেছে। সেখানে মিন্নির বাবা বলেন, মিন্নিকে ডাক্তার দেখানো হয়েছে। ডাক্তারের পরামর্শে তাকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছি। আমরা হবিগঞ্জ গিয়েছিলাম। আমরা যেখানেই যাই, মানুষের স্বতঃস্ফূর্তভাব ও আন্তরিকতা দেখেছি। তারা আমাদের খোঁজ নিয়েছে। তারা মিন্নিকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে, আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে, বলে, আপনারা যে ষড়যন্ত্রের শিকার, সারা দেশবাসী আপনাদের জন্য দোয়া করছে। তারা মিন্নির জন্য নামাজ পড়ছে, রোজা করছে, মানত করছে মিন্নির মুক্তির জন্য।

গত ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজ রোডে প্রকাশ্য দিবালোকে স্ত্রী মিন্নির সামনে কুপিয়ে জখম করা হয় রিফাত শরীফকে। পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত নয়ন বন্ড ২ জুলাই ভোরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। এর মধ্যে মামলার অন্য আসামিদেরও গ্রেফতার করা হয়।

১৬ জুলাই বাসা থেকে মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বরগুনার পুলিশ লাইনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রিফাত হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় ওই দিন রাত ৯টার দিকে মিন্নিকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। রিমান্ডের বরগুনা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মিন্নি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। গত ২৯ আগস্ট হাইকোর্ট তাকে জামিন দেন। জামিনের শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, মিন্নি তার বাবার জিম্মায় থাকবে এবং মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না।









Leave a reply