ভিসি নাসিরের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

|

আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিন।

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্রে করে উপাচার্য গত ১১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্রী ও ডেইলি সানের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি ফাতেমা-তুজ-জিনিয়াকে সাময়িক বহিস্কার করেন। এ নিয়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। উপাচার্যের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে টানা আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা।

এই আন্দোলন চলাকালীন খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের বিরুদ্ধে উঠে এসেছে অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে, ভিসি নাসিরউদ্দিন নিয়োগ দিয়েছেন নিজ পরিবারের ২০ জনের অধিক আত্মীয়-স্বজনকে। এর মধ্যে নিজের ভাগ্নী জামাই এবং ভাতিজাকে করেছেন শিক্ষক।

বিগত ৫ বছরে অতিরিক্ত মূল্যে ভর্তি ফরম বিক্রি করে লোপাট করেছেন প্রায় ২০ কোটি টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েই প্রথমে ‘ভিসি কোটা’ চালু করে শিক্ষাথী ভর্তির মাধ্যমে ‘বাণিজ্য’ শুরু করেন। পরে চাপের মুখে তিনি ভিসি কোটাকে ‘বিশেষ কোটা’য় পরিণত করে শিক্ষার্থী ভর্তির নামে কোটি কোটি টাকা লুটে নেন।

এছাড়া ফোনে এক ছাত্রীকে ভিসি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কী, তা তোর আব্বার কাছে শুনিস! গেছে কোনো দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে? এটা (ল ডিপার্টমেন্ট) আমি খুলছিলাম বলেই তো তোর চান্স হইছে, নইলে তুই রাস্তা দিয়ে ঘুরে বেড়াতি। বেয়াদব ছেলে-মেয়ে। তিন দিনের বাছুর তুই আবার জানতে চাস বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কী?

অভিযোগ আছে, তিনি শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করে এমএলএসএস পদে নিয়োগ দিয়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে এসএসসি বা সমমানের পাস বলা হলেও অষ্টম শ্রেণি পাস প্রার্থীদেরও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী পদে শিক্ষাজীবনে তৃতীয় বিভাগ বা ২.৫০ জিপিএপ্রাপ্ত প্রার্থীদেরও নিয়োগ দিয়েছেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগবিধির পরিপন্থী। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সময় ব্যয় না হওয়া প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ টাকা ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে তুলে নিয়ে আত্মসাত্ করার অভিযোগও আছে। প্রায় দুই কোটি টাকার অধিক মূল্যের বই ক্রয় এবং দুই থেকে তিন গুণ অধিক মূল্যে কোটি টাকার বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ক্রয়সহ অসংখ্য অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে।

এদিকে উপাচার্য খোন্দকার নাসিরউদ্দিনকে অপসারণের সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তদন্ত কমিটি। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়ারও সুপারিশ করেছে এই কমিটি।

পরে অব্যাহত আন্দোলনের মুখে রোববার রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবন থেকে পুলিশ পাহারায় ভিসি নাসির ক্যাম্পাস ছেড়ে যান।









Leave a reply