অভাবের তাড়নায় বিক্রির জন্য নাতিকেই চুরি করলেন নানী!

|

মাত্র আঠাশ দিনের শিশু। বিক্রি করে দেওয়ার জন্য সেই একরত্তিকেই চুরি করার অভিযোগ উঠল নানীর বিরুদ্ধে। শেষ পর্যন্ত পুলিশের তৎপরতায় শিশুটিকে উদ্ধার করে তুলে দেওয়া হল বাবা- মায়ের হাতে। সদ্যোজাতকে ফিরে পেয়ে তাই কৃষ্ণগঞ্জ থানার ওসি-কে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন শিশুটির বাবা- মা।

গত বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের শিব নিবাস হাইস্কুল সংলগ্ন এলাকা থেকে ওই শিশুপুত্রটি চুরি যায়। জানা গিয়েছে, শিশুটির বাবা নারায়ণ দাস মন্দিরে ভিক্ষাবৃত্তি করার পাশাপাশি টুকটাক কাজ করেন। ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পরদিনই নিজের শাশুড়ির বিরুদ্ধে কৃষ্ণগঞ্জ থানায় অভিযোগ জানান শিশুটির বাবা নারায়ণ দাস।

নারায়ণবাবুর দাবি, গত ১ সেপ্টেম্বর কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে শিশুপুত্রের জন্ম দিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী। এর পর থেকেই তাঁর শাশুড়ি শিশুটিকে বিক্রি করার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ নারায়ণবাবুর। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। ফলে শিশু চুরি যেতেই শাশুড়ির উপরেই সন্দেহ হয় নারায়ণবাবুর।

শিশু চুরির অভিযোগ পাওয়ার পরেই তৎপর হন কৃষ্ণগঞ্জ থানার ওসি রাজশেখর পাল। শনিবার কলকাতার বাগুইআটি থানা এলাকার কেষ্টপুরে নারায়ণবাবুর শাশুড়ি নমিতা গোলদারের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। সেখান থেকেই ওই সদ্যোজাতকে উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার করা হয় নমিতা গোলদারকে। পুলিশের ধারণা, বিক্রি করে দেওয়ার জন্যই নিজের নাতিকে নিয়ে এসেছিল ওই বৃদ্ধা।

শিশুটি সুস্থই রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। রবিবার শিশুটিকে তার বাবা- মার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। নারায়ণবাবুর নিজে যেহেতু ভিক্ষা করেই উপার্জন করেন, তাই শিশুটির দেখাশোনার জন্য কৃষ্ণগঞ্জ থানার ওসি-ই কিছু আর্থিক সাহায্য করেছেন। প্রশাসনিক স্তরেও কোনও সাহায্যের ব্যবস্থা করা যায় কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: এশিয়া নিউজ নেট









Leave a reply