শাহবাগে ফুটপাতে ফুলের মার্কেট, যানজট, দুর্ভোগ

|

দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথ শাহবাগ মোড় বটতলার এলাকার ফুটপাত ফুল ব্যবসায়ীদের দখলে রয়েছে- যা আবার শাহবাগ থানার সামনে। ফুটপাত দখলের ফলে পথচারীদের সড়ক দিয়ে হাঁটতে হয়। আবার মেট্রোরেলের কাজ শুরু হওয়ায় রাস্তা অনেক সরু হয়ে গেছে। একদিকে নেই ফুটপাত। অন্যদিকে রাস্তা ছোট হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। এখানে সব সময় লেগে থাকে যানজট।

জানা যায়, ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাদের ম্যানেজ করে ব্যবসা পরিচালা করছে। সাম্প্রতিক সময়ে চাঁদা না দেয়ায় ছাত্রলীগের এক নেতার হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন শাহবাগ বটতলা ক্ষুদ্র ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ।

শাহবাগ মোড় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথে ফুটপাতে বসেছে প্রায় ৪২টি খুচরা ফুলের দোকান। এসব দোকানদার রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশকে চাঁদা দিয়ে চলছে। যদিও প্রায় সময় উচ্ছেদ করা হয়, তারপর আবার বসে।

অন্যদিকে ভোর ৪টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত শিশু পার্কের সামনের অংশ থেকে শাহবাগ ফুটওভার ব্রিজের নিচ পর্যন্ত সড়ক ও ফুটপাতের ওপর বিভিন্ন প্রকার ফুল নিয়ে বসে পাইকারি ফুল ব্যবসায়ীরা। এদের বেশিরভাগ ঢাকার আশপাশের জেলা থেকে আসে। শাহবাগের পাইকারি ব্যবসায়ীরা ২ থেকে আড়াই হাত জায়গায় দোকান নিয়ে বসেছে সিটি কর্পোরেশনের নির্মাণাধীন ভবনের নিচে। অন্যদিকে ফুটপাতে বসে প্রতিদিন ফুলের মালা বানিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে ১৫-২০ জন নারী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম বলেন, থানার সামনে মানুষের হাঁটার জায়গা দখল করে রাখা দুঃখজনক। পুলিশ চাইলে একদিনে ওদের তুলে দিতে পারে। কিন্তু পুলিশি পাহারায় এখানে ব্যবসা করা হচ্ছে। এ দোকানগুলোর কারণে ফুটপাত দিয়ে হাঁটা যায় না, গাড়ির জটলা লেগে থাকে।

শাহবাগে পাইকারি ফুলের দোকানের সংখ্যা ১২০টি। ১৯৯০ সাল থেকে এখানে ব্যবসা করা হচ্ছে। এসব দোকানের মাসিক ভাড়া গুনতে হয় ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ব্যবসায়ীদের ময়লা পরিষ্কারের জন্য নেয়া হয় ৫০ টাকা। এছাড়াও ভিতরে রয়েছে অনেক ককসিটের ও সাজসজ্জার দোকান- যা স্থানীয় রাজননৈতিক নেতা ও পুলিশকে ম্যানেজ করে চলে।

শাহবাগ বটতলা ক্ষুদ্র ফুল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, চার বছর আগে মেয়র সাহেব বলেছিলেন এখানে একটা স্থায়ী ভবন করে দেবেন। কিন্তু তা আজও করেননি। প্রতি সপ্তাহে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সিটি কর্পোরেশনে ফুল পাঠাই, অনেক ফ্রি ফুল নেয়। কাজ শুরু হওয়ার আগে মেট্রোরেলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা ব্যবসায়ীদের নিয়ে বসেছিল। তখন তারা বলেছিল কাজ শুরু করলে আমাদের কোনো সমস্যা হবে না। চলাচলের সুবিধার জন্য ফুটপাতের এক হাত জায়গা ছেড়ে দিয়েছি।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বলেন, এ জায়গার ব্যাপারে আমরা উদ্যোগ নিয়েছিলাম। ব্যবসায়ীরা মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বসেছিল। তারপর কি হয়েছে আমি জানি না। ফুটপাতের দোকান তোলার দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের। সিটি কর্পোরেশন বললে আমি পুলিশ দিয়ে সহায়তা করতে পারব। এছাড়া আমি আর কিছুই বলতে পারছি না।

ডিএসসিসি ২০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতন বলেন, আমি এখানকার ফুটপাত উচ্ছেদ করার জন্য সিটি কর্পোরেশনকে একাধিকবার চিঠি দিয়েছি। কিন্তু তারা একেক সময় একেক অজুহাতের কথা বলে- পুলিশ পায় না, ম্যাজিস্ট্রেট পায় না এ সব। তাদের উচ্ছেদ করার ক্ষমতা আমার হাতে নেই।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. রাসেল সাবরিন বলেন, এ জায়গাটা আমাদের উচ্ছেদের তালিকায় আছে। পরিদর্শন করার জন্য আমরা লোক পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু ফুল দোকানদার যারা আছে তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা দরকার। আমরা অচিরেই উচ্ছেদ উভিযান চালাব।









Leave a reply