সেই পিআইও’র বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন

|

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

দুর্নীতি-লুটপাট ও নানা অনিয়মে অভিযুক্ত গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নুরুন্নবী সরকারের বিরুদ্ধে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। দুর্নীতি-লুটপাটের ঘটনায় যমুনা টেলিভিশনে একাধিক প্রতিবেদন প্রচারের পর পিআইও’র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এই কমিটি গঠন করা হয়।

শনিবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মো. রোখছানা বেগম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তদন্ত কমিটির দুই সদস্য হলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আলমগীর কবীর সৈকত ও জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলহাজ মো. ইদ্রিস আলী।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) রোখছানা বেগম বলেন, পিআইও নুরুন্নবীর বিরুদ্ধে সম্প্রতি যমুনা টেলিভিশনে দুর্নীতি-লুটপাটের প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে দ্রুতই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। পিআইও’র বিরুদ্ধে জুন ক্লোজিংয়ে ৬ কোটি টাকার বিল উত্তোলনের ঘটনায় হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতেও তদন্ত কার্যক্রম চলমান। এছাড়াও দুর্নীতি-লুটপাটের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে গঠিত তদন্ত কমটি তদন্ত কার্যক্রম অব্যহত রেখেছে। তদন্ত কার্যক্রম শেষে প্রতিবেদন পেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এরআগে, পিআইও নুরুন্নবী সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-লুটপাটের ফিরিস্তি নিয়ে যমুনা টেলিভিশনে প্রতিবেদন প্রচার হলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এতে টনক নড়ে স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের। গত ২৪ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত পিআইও’র বদলি আদেশ দেয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। আদেশে আগামী ১৬ অক্টোবরের মধ্যে তাকে চট্টগ্রামের সন্দীপে যোগদানের নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়া পিআইও’র দুর্নীতির সিন্ডিকেট নিয়ে প্রতিবেদন প্রচারের পর থেকে কমিশন বাণিজ্যে পিআইও’র আস্থাভাজন পৌর এলাকার আবদুল হালিম আর অফিসে আসছেন না। দুর্নীতির টাকায় অল্প সময়ে হালিম আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। এখন আত্মগোপনে তিনি।

এদিকে, পিআইও’র বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশ ও বদলির খবরের পর থেকে নতুন করে আরও দুর্নীতি-লুটপাটের তথ্য বেরিয়ে আসছে। এছাড়া পিআইও’র বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ক্ষমতাসীন দলের নেতারাও। শুধু বদলিই নয়, দুর্নীতিতে অভিযুক্ত পিআইওর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও তাদের।

২০১৫ সালে সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় যোগদানের পর থেকে সরকারের নানা উন্নয়ন প্রকল্পে দৃশ্যমাণ দুর্নীতি-লুটপাট চালায় পিআইও নুরুন্নবী। গত ৫ বছরে দুর্নীতি-লুটপাট ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা আছে ৫টি। এরমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় চারটি।









Leave a reply