আবরার হত্যা: মিলেছে সিসিটিভির ফুটেজ (ভিডিও)

|

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে নির্যাতনের পর হল থেকে বের করে আনার সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে। সোমবার সন্ধ্যায় এ ফুটেজটি যমুনা নিউজের হাতে এসে পৌঁছে। এর আগে, এ ফুটেজ প্রকাশ নিয়ে বুয়েটের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রভোস্টের কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রাখেন। সাধারণ শিক্ষার্থীরা সিসিটিভির সম্পূর্ণ ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও অবরুদ্ধ করে রাখে।

প্রকাশ হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, রাতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আবরারকে ধরাধরি করে নিয়ে যাচ্ছেন। ওই শিক্ষার্থীদের পেছন পেছন কয়েকজনকে হেঁটে যেতে দেখা যাচ্ছে। এদিকে, সিসিটিভির সম্পূর্ণ ভিডিও প্রকাশ নিয়ে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, বুয়েট প্রশাসন যদি সিসিটিভির ফুটেজ নিয়ে যদি কোনো ধরনের নাটক করে তাহলে সেই প্রশাসনকে বুয়েট ছাড়তে হবে। হত্যাকারীকে প্রশ্রয়ের জন্য কোনো আলামত লুকানোর চেষ্টা করলে তা আমরা হতে দেব না। আপনার চিন্তা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কী ধরনের প্রশাসন রয়েছে যে হত্যাকাণ্ডের পর হলের সিসিটিভির ফুটে সরিয়ে ফেলেছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে হওয়া চুক্তি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে রোববার রাতে শের-ই বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষের ভেতর ‘শিবির’ আখ্যা দিয়ে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে হলের দোতলা ও একতলার মাঝ খানের সিঁড়ির ওপর তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় হত্যাকারীরা। যে কক্ষটিতে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় ওই কক্ষটিতে ছাত্রলীগের নেতারা থাকতেন। তারা সবাই এখন পলাতক।

হলের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলের অনুসারী একদল নেতাকর্মী তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। এরইমধ্যে, ফুটেজ দেখে মোট ১৪ জনকে শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলসহ ৯ নেতাকর্মীকে। আটককৃতদের মধ্যে আরও আছেন- বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক মুহতাসিম ফুয়াদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক মেফতায়ুল ইসলাম জিয়ন, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইশতিয়াক মুন্না, সমাজসেবা উপ সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল এবং কর্মী তানভিরুল আবেদিন ইথান, মুনাতাসির আল জেমি ও রবিন।









Leave a reply