গাছ কাটা সেই নারীর ছেলে যা বললেন…

|

সাভারের সিআরপি রোডে বাসার ছাদের গাছ দা দিয়ে তছনছ করার ঘটনায় খালেদা আক্তার নামের এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। এরআগে, গতকাল গাছকাটার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নিন্দার ঝড় ওঠে। ভিডিওটি পোস্ট করেছেন সুমাইয়া হাবিব নামের এক নারী যিনি গাছগুলোর মালিক। এদিকে, গাছ কাটা সেই নারীর ছেলে লিখন ফেসবুক লাইভে এসে বলেছেন, আমাকে আর আমার আম্মুকে নিয়ে তামাশা শুরু হয়েছে সারাদেশে। ভিডিওটা দেখে আপনারা যেভাবে জাজ করছেন, এটা কিন্তু ঠিক হচ্ছে না। আসল জিনিসটা আপনারা কিন্তু জানেন না। ভিডিওতে কত কিছু দেখা যায়, জাস্ট ইনস্ট্যান্ট যে ঘটনাটা হয়েছে সেটা দেখা যাচ্ছে, কিন্তু আসল ঘটনা এটি না।

লিখনের কথা, এই বিল্ডিংয়ে অনেকে ফ্ল্যাট কিনছে। মালিক কিন্তু আমরা একা না। এটা ওনার ব্যক্তিগত ছাদ না। আমাদের বিল্ডিংটা আন্ডার কনস্ট্রাকশন। হয়তো কোনো একদিন কোনো শ্রমিক তার গাছের পাতা ছিড়ে ছিল বা ডাল ভেঙ্গেছিল, প্রত্যেকটা ফ্যামিলিতে গিয়ে তিনি শাসিয়ে এসেছেন। পুরো বিল্ডিংয়ে একটি অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে। সব মালিকরা মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে গাছগুলো আর ছাদে রাখা হবে না। গত মাসের সেপ্টেম্বরের ৭ তারিখে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন, সব গাছ সরিয়ে ফেলবেন। ২২ তারিখে তাকে বলা হয়েছিল। তিনি বলে গাছ সরাবেন না। যা পারি করতে। তিনি আমাদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন।

এদিকে, গাছের মালিক সুমাইয়া হাবিব লিখনের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেটি তার বানানরীতিসহ হুবহু তুলে ধরা হলো-

১. উনি মাস্তান নিয়ে আসছে আপনারা সবাই দেখছেন, তার পরেও লাইভে এসে মিথ্যা বলতাছে!
২. ছাদে বিশাল যায়গা, ছাদ কারো একার না, ছাদে আমাদের যায়গা ছিলো, ছাদের গাছ লাগানো কি অপরাধ..? ঢাকা শহরের পরিবেশ ঠিক রাখার জন্য অন্তত সব বাসায় গাছ লাগানো প্রয়োজন আমি মনে করি! এটা কি অপরাধ..?
৩. উনি যে বল্লো, সবাই বলছে গাছ কাটার জন্য, তাহলে সবাই ছাদে আসে নাই কেন গাছ কাটার সময়! সবাই মিলে এসে কেটে ফেলতো, উনারা একা কেন আসছে??
৪. উনি বললেন আমাদের গাছের পাতা ছিড়ছে এই জন্য আমরা সবাইকে শাসাইছি, ফ্লাটে ফ্লাটে গিয়ে। আল্লাহর গজব পড়ুক এই মিথ্যার উপর। আমরা কাউকে শাসাই নাই। আমাদের গাছের ডাল এই ছেলের ফ্যামিলি ভাংতো তাই আমার আম্মু এই বিল্ডিং এর প্রায় সবাইকে সেই ভাংগা ডাল দেখিয়ে শেয়ার করছিলো জিনিসটা যে এটা কি ঠিক আমরা গাছ লাগিয়েছি আর কে জেনো ভাংতেছে। আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম যে আমাদের এত শখের গাছ নষ্ট করতেছে তার যেন হাত নোলা হয়ে যায়। এই কথাটা আমার আম্মু দুঃখ করে বলে ফেলছিল। কিন্তু আমরা কাউকে শাসাই নাই। এখন লাইভে এসে বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা বললেই আপনারা নিষ্পাপ হয়ে যাবেন না।
৫. উনি বললো যে, আমরা উনাদেরকে হুমকি দিছি যে, বিল্ডিং থেকে নামিয়ে দিবো আরও কত কি নাকি বলে হুমকি দিয়েছি, এটি সম্পূর্ণ বানোয়াট কথা।
৬. সে বললো তার মায়ের গায়ে নাকি আমরা হাত তুলিতে গেছি, মানে মিথ্যা কথার একটা লিমিট থাকে। এই ছেলে মিটিংয়ে সবার সামনে আমার বাবার গায়ে হাত তুলতে গেছে, এই বিল্ডিং এর সবাই সাক্ষী। এই বিল্ডিং এর সবাইকে জিজ্ঞাসা করেন।
৭.এই ছেলে বললো যে আমরা লোকজন নিয়ে আসছিলাম। হ্যা, যখন এই ছেলের মা দা নিয়ে ছাদে আসে, আর ছেলে গ্যাং নিয়ে আসে, তখন আমি ছাদে ছিলাম। আমি এটা দেখেই আমার বাবাকে কল দিয়ে জানাই। তখন আমার বাবা এই এলাকার ২ জন মুরব্বী বাড়িওয়ালাদের নিয়ে আসে। সেই মুরব্বিরা এসে ওনার আম্মাকে বুঝাচ্ছিলেন আর তখনও ওনার মা দাপট দেখাচ্ছিলেন যে ওনারা এখানের স্থানীয়, ওনারা চাইলে যা খুশি করার ক্ষমতা রাখে। আমরা তো কাউকে হামলা করার জন্য বাহিরে থেকে গ্যাং নিয়ে আসি নাই। যদি আনতাম তাহলে নিশ্চয়ই এই ছেলে সেটা প্রমাণ করতে পারতো কিংবা ভিডিও করে রাখতে পারতো।
৮. ওরা এখানের স্থানীয় ওরা সবসময় সেটার পাওয়ার দেখায়। আর কিছু একটা হলেই এই ছেলে গ্যাং নিয়ে আসতো। সেদিন মিটিং এ রড নিয়ে আসছিল আমাদের মারার জন্য।
৯. গাছ ছাদে রাখা যাবে না এটা সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু আমরা বরাবরই একটা কথা বলেছিলাম যে,বিল্ডিং এর সবাই উঠুক একটা কমিটি হোক তারপর যে সিদ্ধান্ত হয় আমরা মেনে নিবো। কারণ ওনারা ৬ জন গাছ পছন্দ করে না, ওনারা গাছ লাগায় নি তাই বলে যে আমরাও লাগাতে পারবো না। এটা কতটা যুক্তিযুক্ত?


সম্পর্কিত আরও পড়ুন




Leave a reply