সাকিবকে আইনি নোটিশ পাঠাবে বোর্ড, কিন্তু কেনো?

|

ক্রিকেটে দুর্যোগের ঘনঘটা এখনও কাটেনি। এবার বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে আইনি নোটিশ পাঠাতে যাচ্ছে বিসিবি। একটি জাতীয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন খোদ বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। প্রশ্ন জাগতেই পারে- কারণ কী? বোর্ড সভাপতিই জানালেন, সম্প্রতি একটি টেলিকম কোম্পানির সাথে চুক্তি করার আগে বিসিবি’র এনওসি বা অনাপত্তিপত্র নেননি তিনি। এ কারণেই আইনি নোটিশ।

ক্রিকেটে গেল কিছুদিন ধরে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই সাকিব আল হাসান গ্রামীণফোনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হন। এ খবর গণমাধ্যমেও এসেছে। সমস্যা বেঁধেছে এই চুক্তি নিয়েই। গ্রামীণফোন-রবি-এয়ারটেল-বাংলালিংক এমন টেলিকম প্রতিষ্ঠানের সাথে ক্রিকেটারদের চুক্তি করার ক্ষেত্রে বিসিবি থেকে এক ধরনের বিধিনিষেধ রয়েছে। টেলিকম কোম্পানি রবি বাংলাদেশ জাতীয় দলের স্পন্সর ছিল, আর তখনই ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত চুক্তি নিয়ে কিছু ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্টে’র কারণে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এছাড়া সাব্বির রহমানের করা একটি বিজ্ঞাপণ নিয়ে বিতর্কের পর এ ব্যাপারে আরও কড়াকড়ি আরোপ করে বিসিবি। বর্তমান বিধি অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় চুক্তিভুক্ত কোনো ক্রিকেটাররা যেকোনো প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে চুক্তি করতে চাইলে বোর্ডের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে এনওসি বা অনাপত্তিপত্র নিতে হবে। গ্রামীণফোনের সঙ্গে চুক্তির আগে সেটি নাকি নেননি সাকিব। এমনকি বোর্ডকে এ সম্পর্ক কোনো তথ্যও অবহিত করেননি।

এ বিষয়ে বোর্ড সভাপতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া, এই চুক্তি কোনোভাবেই করতে পারে না। কেন পারে না, চুক্তিতে সব লেখা আছে। লিখিতভাবে ওদের বলে দেওয়া আছে। রবি আমাদের টাইটেল স্পন্সর হলো। গ্রামীণ বিডই করল না। না করে এক-দুই কোটি দিয়ে খেলোয়াড়দের নিয়ে ফেলল। এতে শেষ পর্যন্ত কী হলো? তিন বছরে বোর্ডের ৯০ কোটি টাকা লস হলো। খেলোয়াড় লাভবান হলো। কিন্তু বোর্ডের তো ১২টা বেজে গেল। এটি তো হতে পারে না। তাই লিখিতভাবে ওদের জানিয়ে রাখা আছে। এমনকি আমার জানামতে মন্ত্রণালয় থেকেও ওদের বলা আছে যে না জানিয়ে টেলকোর সঙ্গে চুক্তি করা যাবে না। আমাদের সঙ্গে চুক্তি তো আছেই। তারপরও আমাদের না জানিয়ে কী করে চুক্তি করে? টাইমিংটা দেখুন। খেলা বন্ধ করে চুক্তি! এগুলো তো ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ।

সাকিবের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠাবেন বলেও জানিয়েছেন পাপন। বলেন, আমরা লিগ্যাল অ্যাকশনে যাচ্ছি। কাউকে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা ক্ষতিপূরণ দাবি করব এখন। সেটি কোম্পানির কাছেও দাবি করব আর খেলোয়াড়ের কাছেও। আমরা কি ছেড়ে দেবো নাকি? কাল (গত বৃহস্পতিবার) শুনলাম প্রথম। আমি বলে দিয়েছি, গ্রামীণফোনকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠাও। বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ চাও। বলেছি, চিঠি পাঠাও সাকিবকেও। আমাদের ব্যাখ্যা চাই। সে আইন ভঙ্গ করে গেল কেন? এখন সে যদি দেখাতে পারে যে আইন ভঙ্গ করেনি, ওকে তো বলার সুযোগ দিতে হবে। আমাদের কাছে ব্যাপারটিকে মনে হয়েছে, ‘বোর্ডের কোনো নিয়ম-কানুন মানি না।’ এ রকম হলে কঠোর ব্যবস্থা নেবই।

এ প্রসঙ্গে বিসিবি’র সিইও নিজামউদ্দিনের যুক্তি, আমরা খেলোয়াড়দের জানিয়ে দিয়েছি, এমন কারও সঙ্গে যেন চুক্তিবদ্ধ না হয় যাতে কেন্দ্রীয় স্পন্সরের সঙ্গে কোনো জটিলতা তৈরি হয়। এখন আমাদের সঙ্গে ইউনিলিভারের চুক্তি রয়েছে, এই চুক্তি খুব দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে। আর এখনই যদি কোনো ক্রিকেটার কোনো টেলকম কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে, তাহলে আর কোনো কোম্পানি আমাদের স্পন্সর করতে রাজি হবে না।

তবে এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত সাকিব আল হাসান কোনো ধরনের মন্তব্য করেননি। শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রস্তুতির অনুশীলন ক্যাম্পেও যোগ দেননি সাকিব আল হাসান। তবে, তিনি কোচিং স্টাফদের সাথে যোগাযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।









Leave a reply