পাপনের কথাই ফলে গেলো

|

বাংলাদেশের ক্রিকেটে বেশ ক’দিন ধরেই চলছে অস্থিরতা। খেলোয়াড়দের ধর্মঘট, সাকিবের নিষেধাজ্ঞার মতো বড় বড় ঘটনার উত্তাপ সইতে হয়েছে সমর্থকদের। এরমধ্যে, নানা কারণে আলোচিত-সমালোচিত হয়েছেন বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। কিন্তু, ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সাকিব-তামিমবিহীন এই দলকে নিয়েও দারুণ আশাবাদী ছিলেন বোর্ড সভাপতি। বলেছিলেন, এই বাংলাদেশই পারে ভারতকে হারাতে।
কী দারুণভাবেই না সেটি ফলে গেলো!

রোববার ভারতে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ভারত অনেক শক্তিশালী দল সবাই জানে। ভারতে এসে ভারতকে হারানো ভীষণ কঠিন। অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো বড় বড় দল ভারতে এসে হিমশিম খেয়েছে। ভারতে এসে যদি কোনো দল ওদের হারাতে পারে, সেটা বাংলাদেশ।

বোর্ড সভাপতির এমন আত্মবিশ্বাস রিয়াদ-মুশফিকদের কতটা অনুপ্রাণিত করেছে সেটি তো দেখাই গেলো। দিল্লির বায়ু দূষণের মধ্যেই সব সংশয় উড়িয়ে দিয়ে মাঠে গড়ানো ম্যাচে শুরু থেকেই ছন্দে ছিল বাংলাদেশ। ম্যাচের প্রথম ওভারে রোহিত শর্মাকে শফিউল এলবিডব্লিউ’র ফাঁদে ফেলেন পেসার শফিউল। প্রথম বলেই বাউন্ডারি খেয়ে শুরু করা শফিউল ওভারের শেষ বলেই এনে দেন সাফল্য। এরপর ৬.৩-তম ওভারে লোকেশ রাহুলকে তুলে নেন আমিনুল বিপ্লব। ৪ ওভার পর আবারও আমিনুলের আঘাত। শেখর ধাওয়ানের সাথে জুটি গড়ে তোলা স্রেয়াস আয়ারকে অভিষিক্ত নাঈমের তালুবন্দি করে ফেরান।

এরপর, ক্রমশ ভয়ংকর হয়ে উঠতে থাকা শিখর ধাওয়ানকে রান আউট করে ফেরান বাংলাদেশের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ১৬-তম ওভারের শেষ বলে দারুণ এক ফিরতি ক্যাচে অভিষিক্ত দ্যুবেকে সাজঘরে ফেরান আফিফ হোসেন। ১০২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় ভারত। ১৯-তম ওভারে এসে রিশভ পন্তকে তুলে নেন শফিউল। এরপর করুনাল পান্ডিয়া ও ওয়াশিংটন সুন্দরের ঝড়ো জুটিতে ১৪৮ রানের ভিত্তি পায় ভারত।

জবাবে, ব্যাট করতে নেমে বাউন্ডারি দিয়েই জবাব দেয় টাইগাররা। ওপেনার লিটন দাস ৪ বলে ৭ রান করে ফিরে গেলেও সৌম্য সরকারের সাথে অভিষিক্ত নাঈম শেখের ৪৬ রানে জুটিতে দারুণভাবে ম্যাচে টিকে থাকে বাংলাদেশ। ২৮ বলে ২৬ রান করে নাঈম ফিরে গেলেও মুশফিক-সৌম্য দারুণভাবে এগিয়ে নেয় বাংলাদেশকে। সৌম্য ৩৫ বলে ৩৯ রান করে সৌম্য বোল্ড হয়ে ফিরে গেলে বল ও রানের কঠিন সমীকরণে পড়ে বাংলাদেশ। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে সাথে নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন মুশফিক। ১৯-তম ওভারের শেষ ৪ বলে তার বাউন্ডারি অনেকদিন মনে গেঁথে থাকবে টাইগার ভক্তদের। ৪৩ বলে ৬০ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে তুলেন মুশফিক। আর কঠিন সময়ে মাঠে নেমে ৭ বলে ১৫ রানে ক্যাপ্টেনস নক করেন মাহমুদউল্লাহ।

দারুণ এক দলগত প্রচেষ্টার ফল আজকের এই জয়। দিব্যদৃষ্টিতে সেটিই যেন দেখে ফেলেছিলেন বোর্ড সভাপতি!









Leave a reply