পরমাণু সমৃদ্ধকরণ ১০ গুণ বাড়িয়েছে ইরান

|

পরমাণু চুক্তির শর্ত সীমিতকরণে ইউরেনিয়াম উৎপাদন ১০ গুণ বাড়িয়ে দৈনিক পাঁচ কেজিতে এনেছে ইরান। নিজস্ব নকশায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির নতুন ৩০টিসহ চালু করেছে মোট ৬০টি সেন্ট্রিফিউজ।

ইরানের সাথে ছয় জাতির পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাম প্রত্যাহারের পরই এ সংকটের শুরু। অপরদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের একের পর এক নিষেধাজ্ঞায় নিম্নমুখী ইরানের অর্থনীতি। একারণে গেলো ক’মাসে ধাপে-ধাপে তেহরানও সরে এসেছে চুক্তির বেশ কিছু শর্ত থেকে সেইসাথে নাকচ করে দিয়েছে ওয়াশিংটনের সাথে আলোচনাও।

সোমবার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণে উন্নত প্রযুক্তির ৩০টি যন্ত্র উদ্বোধন করেছে তেহরান। জানিয়েছে,চুক্তিতে উল্লেখিত পরিমাণের ৫০ গুণ ইউরেনিয়াম উৎপাদনই লক্ষ্যমাত্রা। একে উস্কানিমূলক পদক্ষেপ আখ্যা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্ররা।

ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান আলি আকবর সালেহি বলেন, “সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করবে ইরান। আমরা কৃতজ্ঞ শত্রু রাষ্ট্রগুলোর প্রতি। অল্প সময়ে নিজস্ব নকশায় সম্পূর্ণ নতুন যন্ত্রাংশ উৎপাদন করেছি।”

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেন,”ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রকে প্রভাব বিস্তার করতে দেয়া হবে না। উত্তর কোরিয়ার সাথে পরমাণু কর্মসূচি ইস্যুতে আলোচনা, দুই রাষ্ট্রপ্রধানের ভালোবাসা বিনিময়- কিছু বাদ নেই। কিন্তু দিনশেষে নিষেধাজ্ঞা থাকছেই। এটাই যুক্তরাষ্ট্রের চরিত্র। তবে ইরানের মাথা নত করানোর স্বপ্ন তাদের পূরণ হবার নয়।”

জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেইকো মাস বলেন, “পরমাণু চুক্তির বাধ্যবাধকতা মেনে না চলার যে সিদ্ধান্ত ইরান নিয়েছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা আশা করছি শান্তি রক্ষার স্বার্থে চুক্তিতে ফিরবে দেশটি। চুক্তিবিরোধী প্রতিটি পদক্ষেপ ইরানকেই ঝুঁকিতে ফেলবে।”

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্টিভেন মিউচিন বলেন, “ইরানের তেলবাণিজ্য বন্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কারণ একটাই। পরমাণু অস্ত্র, ব্যালিস্টিক মিসাইল, কিংবা সন্ত্রাসে মদদে পৃষ্ঠপোষকতা করতে না দেয়া। ইরানের জনগণের সাথে নিছক শত্রুতাবশত কোনো সিদ্ধান্ত আমরা নেইনি।”

পরমাণু সমৃদ্ধকরণের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের চিফ অব স্টাফসহ সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার ঘনিষ্ঠ ৯ সহযোগীর ওপর নতুনভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।









Leave a reply