বর্ষীয়ান রাজনীতিক ঝন্টু

|

সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টু। জীবনের আগাগোড়াই দিয়েছেন রাজনীতির জন্য। করেছেন মুক্তিযুদ্ধ। বিভিন্ন সময় বরণ করেছেন কারাবাস। নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌরসভা চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য হিসেবেও। তিনিই রংপুর সিটির বর্তমান মেয়র। গতবারের মতো এবারের নির্বাচনেও তার ওপরই আস্থা রেখেছে আওয়ামী লীগ।

রংপুরের রাজনীতিতে ঝন্টু একটি অতিপরিচিত নাম। উঠে এসেছেন একেবারে তৃণমূলের রাজনীতি করে। ১৯৫২ সালের ০৭ জুলাই রংপুরের ইঞ্জিনিয়ার পাড়ায়, সরকারি কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আহমেদ ও জোবেদা খাতুন দম্পতির ঘরে জন্ম সরফুদ্দীন আহম্মেদের। চার ভাই দুই বোনের সবচেয়ে আদরের ছিলেন তিনি।

১৯৫৮ সালে শালবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখায় হাতেখড়ি। ১৯৬৭ সালে জিলাস্কুল থেকে পাস করেন মাধ্যমিক। উচ্চ মাধ্যমিক করেন ১৯৬৯ সালে রংপুর সরকারি কলেজ থেকে। একই বিদ্যাপীঠ থেকে ১৯৭১ সালে পাস করেন বি.কম। ডিগ্রিতে পড়ার সময়ই যোগ দেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। সশস্ত্র যুদ্ধ করেন ৬ নম্বর সেক্টরে। তার নেতৃত্বেই রংপুর ক্যান্টনমেন্ট শত্রুমুক্ত হয়।

ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন ঝন্টু। ১৯৬৮ সালে রংপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন তিনি। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তিন তিনবার কারাবরণও করতে হয়েছে তাকে। প্রথমবার জনপ্রতিনিধি হন ১৯৮৭ সালে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে।

১৯৯২ সালে হন পৌরসভার চেয়ারম্যান। এর মাঝেই, ১৯৯৬ সালে রংপুর-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে। পরে ২০১২ সালে রংপুর সিটি কর্পোরেশনে প্রথম নির্বাচনে নগর পিতার দায়িত্ব পান তিনি। বর্তমানে দেশে ঝন্টুই একমাত্র জনপ্রতিনিধি যিনি- একাধারে উপজেলা, পৌর ও সিটি মেয়র এবং জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

রংপুর বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা, রংপুরে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করার আন্দোলনে জড়িত ছিলেন সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টু।









Leave a reply