বড়লেখার কাঠালতলিতে বানর আতঙ্ক

|

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
একাধিক নয়, তাও একটি মাত্র বানর। যখন-তখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে পুরো এলাকা। প্রতিদিনই আক্রমণ করছে মানুষকে। বানরটির আক্রমণ থেকে বাদ যাচ্ছে না ছোট-বড় কেউই। তবে বেশির ভাগ আক্রমণের শিকার হচ্ছে শিশুরা। ভয়ে অনেক শিশু স্কুলে আসা-যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। বানরটির ভয়ে রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে পুরো এলাকায়। গত এক মাস ধরে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার (কাঠালতলী) দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নে এই অবস্থা বিরাজ করছে।

স্থানীয়রা জানায়, বানরটি গত এক মাসে দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের রোকনপুর, বড়খলা, কাঠালতলী ও গৌরনগর এলাকার শিশুসহ প্রায় ৩০জনকে আঁচড়ে-কামড়ে আহত করেছে। সর্বশেষ রোববার (১৭ নভেম্বর) রাতে বানরটির আক্রমণে দক্ষিণভাগ উত্তর ইউপি যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন আলম আহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তানিয়া বেগম (৮) নামের এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নে গত এক মাস আগে গলায় লাল রঙের ফিতা বাঁধা অবস্থায় একটি বানরকে লোকালয়ে দেখা যায়। হঠাৎ করে বানরটি মানুষের ওপর আক্রমণ শুরু করে। ছোট-বড় সবাইকে আক্রমণ করছে বানরটি। বেশিরভাগ আক্রমণের শিকার হচ্ছে স্কুলগামী শিশুরা। এতে শিশুসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ভয়ে অনেক শিশু স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। বানরের ভয়ে কেউ একা বের হচ্ছেন না। বানরের আক্রমণ থেকে পরিত্রাণ পেতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এনাম উদ্দিন গত বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) বড়লেখা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বন বিভাগের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান এনাম উদ্দিন বলেন, ‘বানরের আক্রমণ থেকে বড়-ছোট কেউই বাদ যাচ্ছে না। যাকে যখন পাচ্ছে, তাকে আক্রমণ করছে। গত একমাসে কমপক্ষে ৩০জনকে আহত করেছে। বানরটির ভয়ে একা কেউ বের হচ্ছেন না। স্কুলের বাচ্চাদের বেশি আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। প্রাথমিকের সমাপনী পরীক্ষা চলছে। অভিভাবকরা খুব আতঙ্কে আছেন। কখন কাকে একা পেয়ে আক্রমণ করে। বন বিভাগকে জানিয়েছিলাম। তাদের লোকজন স্পট দেখে গেছেন।’

এব্যাপারে বন বিভাগের বড়লেখা রেঞ্জের সহযোগী কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন দাস বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে খবর পেয়ে এলাকা পরিদর্শন করেছি। বানরটির গলায় লাল রঙের ফিতা বাঁধা। মনে হচ্ছে কারো পোষা বানর হতে পারে। অস্বাভাবিক আচরণ করায় ছেড়ে দিয়েছে। আমাদের অফিসে বানর ধরার কোনো যন্ত্রপাতি নেই। বিষয়টি মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী রেঞ্জকে জানানো হয়েছে। তারা সরেজমিনে দেখে গেছেন। দুই-এক দিনের মধ্যে তারা ঢাকা থেকে যন্ত্রপাতি নিয়ে আসবে। বানরটির অবস্থান কোথায়-কোথায় আছে, তারা ম্যাপ করে নিয়ে গেছেন।’









Leave a reply