দুবাই সিঙ্গাপুর থাইল্যান্ডে যৌনদাসী হিসেবে কাজ করে ৫ হাজার বাংলাদেশি

|

দুবাই, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের ডান্সবারে যৌনদাসী হিসেবে কাজ করছে অন্তত ৫ হাজার বাংলাদেশি। আর এর পিছনে প্রলোভনে বিদেশ পাড়ি আর পাচারের অভিনব কাহিনী সাথে উঠে আসছে ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেটের নাম। মূলত নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়েদের টার্গেট করেই চলে এই অবৈধ কারবার।

সারা দেশে গড়ে ওঠা মর্ডান ডান্স একাডেমি আর ট্যুর পার্টির আড়ালে চলছে এই চক্র। এমনই একটি চক্র সম্প্রতি ধরা পড়েছে র‍্যাবের জালে। নারায়ণগঞ্জে আটক চক্রের ৬ সদস্যের সাথে উদ্ধার হয় চার তরুনী।

উদ্ধার হওয়া কয়েকজন জানান, প্রচলিত পাচারের বদলে অভিনব পন্থায় তাদের ঢাকা-দুবাই, ঢাকা-কুয়ালামপুর ও ঢাকা-ব্যাংকক আনা নেয়া করে দালালরা। সেখানে বিভিন্ন ফ্লোরে ডান্সের আড়ালে চলছে অনৈতিক ব্যবসা।

ভুক্তভোগী নারীরা জানায়, তাদের মারধর করে রুমে পাঠানো হয়। যদি তারা ৩০০ টোকেন কালেকশন করতে পারে তবে জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা স্যালারী দেয় তারা।

পাচারকারীরা জানায়, ট্যুরিস্ট ভিসায় যাওয়া একেকটি টিমে থাকে ১৫ জন নারী। তিনমাস পরপর বদল হয় গোটা দল।

পাচারকারী চক্রের সদস্য মনির হোসেন বলেন, এখান থেকে যারা যায় তারা রাতেন ৯টা থেকে রাতের সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ডান্স করে। তিন মাস পরপর চেঞ্জ হয় তারা।

ভিসা আর ওয়ার্ক পারমিট হয় দুই দেশের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। উড়ালের আগে ঢাকায় বিমান বন্দরে প্রতি তরুনীর জন্য সিকিউরিটি এজেন্টের হাতে তুলে দেয়া হয় ৩০ হাজার টাকা করে।

মুবিন এয়ারওয়েজ এর মালিক মুবিন বলেন, আমি টিকিট করে দেই আর সিকিউরিটিকে প্রতি নারীর জন্য ৩০ হাজার টাকা করে দেই। তবে আগের মতো এখন আর লোক উঠেনা এভাবে।

র‍্যাব জানায়, তিনটি দেশে কমপক্ষে ৫০টি হোটেল ও ডান্স বারের মালিক নিয়ন্ত্রণ করছে এই ব্যবসা। যাদের বেশিরভাগই বাংলাদেশী ও ভারতীয়। ব্যবসা পরিচালনার জন্য নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়েদের টার্গেট করে মালিকরা।

র‍্যাব-১১ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক আলেপ উদ্দিন জানান, ম্যাক্সিমাম ক্ষেত্রে তারা ব্রোকেন ফ্যামিলি, যাদের ছোটবেলায় বিয়ে হয়ে গেছে পরবর্তীতে ডিভোর্সও হয়ে গেছে বা গার্মেন্টস-এ কাজ করে স্বল্প শিক্ষিত কিন্তু সুন্দরী নারীদের টার্গেট করে তারা।

এই নেটওয়ার্কে জড়িয়ে মালয়েশিয়া, দুবাই আর সিঙ্গাপুরের ডান্স বারে কাজ করছে বাংলাদেশের অন্তত ৫হাজার তরুনী।









Leave a reply