নৌকার প্রার্থী আবদুল খালেককে নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণা হাইকোর্টের

|

তালিকাভুক্ত নদী দখলকারী হওয়ায় কক্সবাজারের মহেশখালীর শাপলাপুর ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এস এম আবদুল খালেককে নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। বুধবার সকালে এক রিটের প্রেক্ষিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা করেন বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খন্দকার দিলারুজ্জামানের আদালত।

আবদুল খালেকের প্রার্থিতা বাতিলের জন্য আবেদন করেছিলের চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল হক। যার রিট পিটিশন নাম্বার ১৩২০৮/২০১৯। তার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক।

রিটকারীর আইনজীবী জগলুল হায়দার আফ্রিক জানান, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবদুল খালেকের বিরুদ্ধে নদী দখলের ৩টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে। ভূমি তহসিল অফিস, এসি ল্যান্ড ও নদী কমিশনের রিপোর্টে নদী দখলদার হিসেবে তার নাম আছে। এ বিষয়ে অন্য প্রার্থীরা আপত্তি তোলা সত্ত্বেও উপজেলা ও জেলা নির্বাচন অফিসার আবদুল খালেকের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে। সেটির বিরুদ্ধে আমরা রিট করি। আদালত দু’পক্ষের বক্তব্য শুনে আবদুল খালেককে নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

আগামী ১২ ডিসেম্বর কক্সবাজার মহেশখালীর শাপলাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনু্ষ্ঠিত হবে। চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন বিআইডব্লিউটিএ’র তালিকাভুক্ত নদী দখলকারী ও মহেশখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক নেতা আবদুল খালেক চৌধুরী। কক্সবাজারে বাঁকখালী নদী দখলের কারণে বাংলাদেশ নদী কমিশনের তালিকাভুক্ত দখলকারী হিসেবে নাম রয়েছে মহেশখালীর শাপলাপুরের অ্যাডভোকেট আবদুল খালেকের।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ নদ-নদী দখলের অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি যেন জাতীয় বা স্থানীয় কোনো ধরনের নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন এবং একইসাথে কোনো ব্যাংক ঋণও না পান এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে যথাক্রমে নির্বাচন কমিশন ও বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছেন।

জানা যায়, আবদুল খালেক দীর্ঘ ২০ বছর বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। ২০০৫ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রকাশিত বই ‘সমৃদ্ধ কক্সবাজার’ ও ‘তৃণমূল’ নামে দু’টি বইয়ে আবদুল খালেকের নাম পরিচয় রয়েছে গ্রামের ঠিকানাসহ। এছাড়া কক্সবাজার বিএনপি’র জেলা কমিটির তালিকায় এখনো নাম আছে তার। মহেশখালী থানা বিএনপির সভাপতি ড. আবদুল মোতালেব-সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলামের কমিটির ২৮ নম্বর সদস্য ছিলেন সদ্য নৌকা প্রতীকে চেয়ারম্যান নির্বাচনের মনোনয়ন পাওয়া আবদুল খালেক।

অভিযোগ আছে, ২০১৪ সালের নির্বাচনের পরে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করেন ‘বিতর্কিত’ খালেক চেয়ারম্যান। উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ এক নেতার আত্মীয় হওয়ার সুযোগ নিয়ে মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বনে যান আবদুল খালেক। পরবর্তীতে জেলা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতাকে ম্যানেজ করে নৌকার প্রতীক বাগিয়ে নেন তিনি।

এর প্রতিবাদে গত ১৯ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড। লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, বিএনপি থেকে অনুপ্রবেশকারী, ভূমিদস্যু, নদী দখলবাজ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন অগ্নিসংযোগকারীর পুত্র আবদুল খালেককে নৌকা প্রতীক প্রদান করা হয়েছে। জনশ্রুত যে, আবদুল খালেক ইতিপূর্বে শিবিরের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে আবদুল খালেকের নাম লিপিবদ্ধ করা আছে। আব্দুল খালেককে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেয়ায় আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

সংগঠনটির সভাপতি মেহেদি হাসান জানান, শাপলাপুর ইউনিয়নে প্রার্থী হিসেবে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম নূরুল আমিন হেলালীর পুত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র ও বিশিষ্ট সাংবাদিক সালাহ উদ্দিন হেলালী কমল নৌকা প্রতীক প্রার্থনা করলে তৃণমূল থেকে নাম প্রেরণ করা হলেও তাকেসহ তৃণমূল প্রস্তাবিত অন্য প্রার্থীদের উপেক্ষা করে কোন বিবেচনায় অনুপ্রবেশকারী এবং নদী দখলদার হিসেবে অভিযুক্ত বিতর্কিত ব্যক্তিকে নৌকা প্রতীক প্রদান করা হল সেটা আমরা জানতে আগ্রহী!

উল্লেখ্য, গত ২৫ নভেম্বর কক্সবাজারের মহেশখালীর শাপলাপুর ইউনিয়ন নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ করা হয়।









Leave a reply