‘রোহিঙ্গাদের আবাসনের ব্যবস্থা হলে আমাদের কেন হবে না’

|

আরিফুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা:

বাসন্তী রানী। বয়স ৭০ ছুঁই ছুঁই। দেশ স্বাধীনের আগে থেকেই বসবাস করেন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার উপজেলার কুমার নদীর একটি পাড়ে। সেখানে একটি ঝুপড়ি করে ৫ সদস্যর পরিবার নিয়ে বসবাস তার। দেশ স্বাধীনের ৪৮ বছর পর কঠিন সংকটে এই বাসন্তী রানী। মাথাগোঁজার জায়গা থেকে উচ্ছেদের চিঠি পেয়ে রাতে ঘুমাতে পারছেন না তিনি। প্রতিকারের দাবিতে রোববার রাস্তায় নেমেছিলেন তিনি। হাতে থাকা একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘আমরা গবির আমাদের উচ্ছেদ করবেন না’।

একই নদের পাড়ে বসবাসরত ভ্যান চালক আব্দুল গাফ্ফারের। বাসন্তী রানীর মতো তিনিও শিশুকন্যা নিয়ে উচ্ছেদ বন্ধের দাবিতে নেমেছিলেন রাস্তায়। গাফ্ফারের মতো তার শিশুকন্যা লাকির চোখে মুখেও ছিল উদ্বেগ উৎকন্ঠা ও ভিটে ছাড়ার আতঙ্ক।

শুধু বাসন্তী রানী বা আব্দুল গাফ্ফার নয়। আলমডাঙ্গার কুমার নদের তীরে বসবাসকারী প্রায় ৫ শতাধিক নারী পুরুষ রয়েছেন উচ্ছেদ আতঙ্কে। প্রতিকার চেয়ে রোববার দুুপুরে সবাই নেমেছিলেন রাস্তায়। উচ্ছেদ বন্ধসহ তাদের পুনর্বাসন করার দাবি নিয়ে দুপুর ১১টার কিছু পর আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেয় তারা। সড়কের দুই ধারে দাঁড়িয়ে মানববন্ধনে মিলিত হয়ে উচ্ছেদ বন্ধের আকুতি তাদের।

এ সময় তাদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে অংশগ্রহণ করেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান ফারুক, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহীন রেজা, আলমডাঙ্গা পৌরসভার কাউন্সিলর আলী আজগর সাচ্চু ও জহুরুল ইসলাম স্বপন এবং ব্যবসায়ী নেতা পিন্টু মিয়া।

মানববন্ধন শেষে তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকারের কাছে পুনর্বাসনের আগে তাদেরকে উচ্ছেদ না করার দাবি-দাওয়া তুলে ধরে একটি স্মারকলিপি জমা দেন।

বাসন্তী রানী জানান, শুনেছি আমাগো শেখের বেটি ভিনদেশি রোহিঙ্গাদের মাথাগোঁজার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আর আমরা তো এ দেশেরই নাগরিক। প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, তাদের আবাসনের ব্যবস্থা হলে আমাদের কেন হবে না।

কুমার নদের তীরে বসবসাকারী মনি ঠাকুর বলেন, শুনেছি যাদের বাড়ি ঘর নেই বর্তমান সরকার সেই সব গরিবদের বাড়ি ঘর তৈরি করে দিচ্ছেন। তাহলে আমাদের ঘর কেন উচ্ছেদ করা হবে।

আলমডাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, সরকারের কাছে আবেদন করব নদীর পাড়ে বসবাসকারীদের আগে মাথাগোঁজার ব্যবস্থা করা হোক। তারপর উচ্ছেদ হলে আমরাও সেই কাজে অংশগ্রহণ করবো।

চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহেদুল ইসলাম বলেন, আলমডাঙ্গার কুমার নদের দুই প্রান্তে প্রায় ৫ শতাধিক অবৈধ দখলকারী রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ৭ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে উচ্ছেদ নোটিশ পাঠানো হয়েছে তাদেরকে। ৭ দিনের মধ্যে নিজ দায়িত্বে সরে না গেলে ২৩ ডিসেম্বর উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করা হবে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, কুমার নদের দুই পাড়ের বসবাসকারীদের পক্ষে একটি আবেদন আমি হাতে পেয়েছি। আমি ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নিদের্শনা দিয়েছি প্রকৃত যাদের যাদের বাড়ি ঘর নেই তাদের একটি তালিকা করার জন্য। তালিকা অনুযায়ী বিভিন্ন আবাসনে তাদেরকে পূর্ণবাসন করা হবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে।









Leave a reply