পিরোজপুরে আওয়ামী লীগে যারা যুবলীগেও তারা

|

পিরোজপুর প্রতিনিধি:

যুবলীগের গঠনতন্ত্রে অনুযায়ী সংগঠনের কেউ আওয়ামী লীগ কিংবা এর অন্য কোন সহযোগী সংগঠনের সাথে যুক্ত হলে, তাকে যুবলীগের ওই পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে। অন্যথায় পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই তার যুবলীগের ওই পদটি চলে যাবে।

তবে এসব নিয়মের কোন বাস্তবায়ন নাই পিরোজপুর জেলা যুবলীগের কমিটিতে। বিগত ৪ বছর ধরে জেলা যুবলীগের সভাপতি আক্তারুজ্জামান ফুলু জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে এবং সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল আহসান গাজী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

যুবলীগের গঠনতন্ত্র ভঙ্গ করে একইসাথে তারা আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার ফলে ভেঙে পড়েছে জেলা যুবলীগের সকল কার্যক্রম। আর যুবলীগ হয়ে গেছে মাত্র এই দুই নেতা নির্ভর। এতে ক্ষোভ বিরাজ করছে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মাঝে।

অন্যদিকে কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও, নতুন কমিটি গঠন না করায় হতাশ হয়ে পড়েছেন যুবলীগের নেতৃত্বে আসতে চাওয়া নেতাকর্মীরা।

২০১০ সালের ১ আগস্ট সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ ওমর ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম এর যৌথ স্বাক্ষরে অনুমোদন দেওয়া হয় ৭১ সদস্য বিশিষ্ট পিরোজপুর জেলা যুবলীগের কমিটি। এরপর ২০১৫ সালে জেলা আওয়ামী লীগের গঠিত কমিটিতে জেলা যুবলীগের কমপক্ষে ৬ জন নেতা স্থান পান। আওয়ামী লীগের কমিটিতে স্থান পাওয়া নেতাকর্মীরা গঠনতন্ত্র মেনে যুবলীগের সকল কার্যক্রম থেকে নিজেদের সরিয়ে নিলেও, সংগঠনটির সবচেয়ে বড় দুটি পদ অবৈধভাবে আঁকড়ে রেখেছেন ফুলু ও জিয়া। বিষয়টি স্বীকার করেছেন যুবলীগ থেকে আওয়ামী লীগে স্থান পাওয়া কয়েকজন নেতা।

অভিযোগ রয়েছে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া বিতর্কিত ওমর ফারুক চৌধুরীকে ম্যানেজ করেই অবৈধভাবে যুবলীগের নেতৃত্ব ধরে রেখেছেন সংগঠনটির জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

এ বিষয়ে জেলা যুবলীগের সাবেক আহবায়ক সাদুল্লাহ লিটন বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতার প্রভাবেই ফুলু এবং জিয়া অবৈধভাবে যুবলীগের নেতৃত্ব ধরে রেখেছে। তবে যুবলীগের গুরুত্বপূর্ণ এই পদ অবৈধভাবে আঁকড়ে থাকার কারণে সংগঠনটির কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি সংগঠনটির জেলা কমিটির ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ জিয়াউল আহসান জিয়া।

জেলা যুবলীগের ৩ নং সহ-সভাপতি জাহিদ হোসেন পিরুর দাবি, সংগঠনটির জেলা কমিটির সভাপতি এবং ১ ও ২ নং সহ-সভাপতি মূল সংগঠন জেলা আওয়ামী লীগে চলে যাওয়ায়, যুবলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারই সভাপতির দায়িত্ব পালন করার কথা। পাশাপাশি সাধারণ সম্পাদক জেলা আওয়ামী লীগে চলে যাওয়ায় ১ নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল আহসান জিয়া ওই পদের দায়িত্ব পাওয়ার কথা। কিন্তু তারা বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিকে লিখিতভাবে জানিয়েও কোন প্রতিকার পাননি।

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এম এ হাকিম হাওলাদার বলেন, পিরোজপুরে জেলা যুবলীগের কোন কার্যক্রম নাই যা দলের জন্য খুবই ক্ষতিকর। যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অবৈধভাবে বিভিন্ন উপজেলা কমিটির অনুমোদন দিচ্ছে। যুবলীগের বিষয়টি জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় ফোরামে আলোচনা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

যুবলীগের মত একই চিত্র জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের। দীর্ঘদিন ধরে একজন আহবায়ক দিয়েই চলছে সংগঠনটি।









Leave a reply