বাউফল আওয়ামী লীগে বিএনপি-শিবির, তালিকাসহ কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে অভিযোগ

|

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর বাউফলে আওয়ামী লীগের কমিটিতে ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে বিএনপি ও শিবিরের নেতাকর্মীদের স্থান দেয়া হয়েছে। এমন অভিযোগ এনে গতকাল রবিবার কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

পৌর ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটিতে স্থান পাওয়া বিএনপি ও শিবিরের ১২ অনুপ্রবেশকারীর তালিকাসহ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিমের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাউফল পৌরসভার মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল।

জানা যায়, গত ২৫ অক্টোবর থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত উপজেলার ১৫ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার এবং ২৮ নভেম্বর সম্মেলনের মাধ্যমে উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয়।

অভিযোগ করা হয়, বাউফল পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ইব্রাহিম ফারুক বাউফল ডিগ্রি কলেজে ছাত্রদলের মনোনিত জিএস ছিলেন। এছাড়া জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের ছাত্র সমাজের আহ্বায়কও ছিলেন। ওই সময় তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সভা, সমাবেশ, মিছিল ও মিটিংএ হামলা চালানো হয়।

কাছিপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি করা হয়েছে ছাত্রশিবিরের কর্মী বাবুল আক্তারকে। কালিশুরি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি করা হয়েছে স্বীকৃত রাজাকার পুত্র মোঃ নেছার উদ্দিন জামালকে।

বর্তমান ধূলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনিচুর রহমান রব বিএনপি আমলে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির সাবেক এমপি সহিদুল আলম তালুকদারের ঘনিষ্ট ছিলেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য করা হয়েছে ধুলিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা জহির উদ্দিন বাবর ওরফে বাবুলকে। তিনি বিএনপির প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন। ১৯৭২ সালে তার নেতৃত্বে কালিশুরী পুলিশ ক্যাম্প লুট করা হয়। খুন করা হয় ওই পুলিশ ফাঁড়ির সুবেদার খলিলুর রহমানকে। ৮১ সালে জিয়াউর রহমানের নির্বাহী ক্ষমতাবলে তাঁর ওই মামলাটি নিস্পত্তি করা হয়।

বাউফল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রিড়া বিষায়ক সম্পাদক করা হয়েছে মনিরুল ইসলামকে। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং বিএনপি জামায়াত ক্ষমতাকালীন সময়ে স্থানীয় বিএনপি এমপির পিএস ছিলেন।

নওমালা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি করা হয়েছে রত্তন আলী মৃধাকে। তিনি বিএনপি জামায়াতের এমপির ঘনিষ্টজন হিসাবে পরিচিত ছিলেন এবং ওই দলের জন্য কাজ করেন। একই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে আলমগীর সরদারকে। তিনি বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের সময় ওই ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

আবুল কালাম খানকে পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে বাউফল পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি।

পৌর আওয়ামী লীগের আরেক সদস্য করা হয়েছে রফিকুল ইসলাম তালুকদারকে। তিনি বিএনপি সময়ে অত্যন্ত ক্ষমতাধর ব্যক্তি ছিলেন। বিএনপির সাবেক এমপি সহিদুল আলম তালুকদারের ৪ খলিফার একজন ছিলেন।

বিএনপি জামাত জোট সরকারের সময় শিবিরের সক্রিয় নেতা মোঃ ইউসুফকে করা হয়েছে বাউফল পৌর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ। এক সময়ে ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ রিয়াজুল ইসলাম সিকদারকেও পদ দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়াও একসময় জামায়াতের রোকন ছিলেন, মরহুম আব্দুস সত্তারের ছেলে লুৎফর রহমান খোকনকে করা হয়েছে পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলির সদস্য জসিম উদ্দিন ফরাজি বলেন, আসম ফিরোজ এমপি নিজেই একজন অনুপ্রবেশকারী। ৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক স্ব পরিবারের নিহত হওয়ার পর থেকে ৭৯ সাল থেকে ওনি কোথায় ছিলেন? তিনি কি করে আওয়ামী লীগের মর্ম বুঝবেন।









Leave a reply