কেকে ক্রিসমাস শুভেচ্ছা লিখতে অস্বীকার ইন্দোনেশিয়ান বেকারির

|

খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের কাছে বড়দিনের আয়োজনের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হলো কেক। ক্রিসমাসটা ইন্দোনেশিয়ায় কাটানো হাঙ্গেরির নাগরিক আর্নল্ড সেরেস্টেইন সেটাই কিনতে গিয়েছিলেন মাকাসসার শহরের একটা পেস্ট্রি শপে। যথারীতি একটা কেক পছন্দও হয় তার। কিন্তু বিপত্তি বাধে, কেকের ওপর লিখতে গিয়ে। সেরেস্টেইন সেখানে ক্রিসমাসের শুভেচ্ছা হিসেবে Merry Christmas লিখতে বললে, তাতে অস্বীকৃতি জানান ‘চকোলিকোস ইন্দোনেশিয়া’ দোকানের কর্মীরা। অর্ডারটি বাতিল করে জানায়, তারা কোনো ধরণের ক্রিসমাস শুভেচ্ছা লিখেন না।

সেরেস্টেইনের স্ত্রী ল্যানি এসময় বেকারি কর্তৃপক্ষের সাথে তার স্বামীর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। দ্রুত এটি ভাইরাল হয়ে পড়ে। ওঠে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। অনেকে বেকারি কর্তৃপক্ষকে বর্ণবাদী ও ধর্মান্ধ বলেছেন। কেউ কেউ তো বলেই ফেলেছেন, এমন দোকানের ইন্দোনাশিয়ায় থাকারই কোনো দরকার নেই। বিষয়টি গুরুত্ব পায় স্থানীয় গণমাধ্যমেও। দেশটির ভোক্তা ফাউন্ডেশন বলেছে, বেকারিটি ভোক্তা অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে।

এতোকিছুর পরিপ্রেক্ষিতে ওই বেকারি কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করেছে। তবে একই সাথে জানান, ধর্মীয় আচারের পরিপন্থি হওয়ায় তারা এমনটি করেছেন। ইন্দোনেশিয়ার ধর্মীয় আইন ও বিধান বিষয়ক সর্বোচ্চ পর্ষদ ‘উলেমা কাউন্সিল’ গত বছরে মুসলিমদের ভিন্ন ধর্মালম্বীদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ততা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়েছে। যার প্রেক্ষিতেই এ ঘটনার অবতারণা।

আইনে বলে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা অন্য অক্ষমতা… এসব কোনো কিছুর ভিত্তিতেই ভোক্তাদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করা যাবে না। কিন্তু বিষয়টি এতো সরলও নয়। যদি একজন খ্রিস্টান তার কেকে ক্রিসমাস শুভেচ্ছা লিখতে চান তবে তার এই অধিকার আপনি কীভাবে অস্বীকার করবেন ? আর যদি তার অধিকার স্বীকার করে নেয়া হয়, তবে সেই বেকারির কর্মীদের কী বলবেন, যারা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে ক্রিসমাস শুভেচ্ছাবাণী লিখতে অস্বীকার করেছিলেন ?

ক্রিসমাস শুভেচ্ছা বিতর্ক সম্পর্কে ‘চকোলিকোস ইন্দোনেশিয়া’ তাদের দরজায় লিখে রেখেছিল, ‘এর মানে এই নয় যে তোমাদের ধর্মকে আমরা অসম্মান করি, সম্মানের সাথে আমরা তোমাদের শুধু জানাতে চাই যে আমাদের ধর্মের নিয়মনীতি আমাদের মেনে চলতে হবে।’

ভিন্নধর্মীদের উৎসবে অংশগ্রহণ নিয়ে আলেমরা নানাবিধ মত দিলেও, অন্য ধর্মের প্রতি সহিষ্ণুতার ব্যাপারে সবাই একমত। ইন্দোনেশিয়ার আলেম সমাজ,  যারা ক্রিসমাস আয়োজন থেকে মুসলমানদের দুরে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন, তারাই ইতোপূর্বে বলেছেন ‘মুসলিমরা যদি খ্রিস্টানদের ক্রিসমাসের শুভেচ্ছা পাঠায় তবে তা ধর্মবিরোধী হবে না।’

 

যমুনা অনলাইন: এনপি

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 









Leave a reply