তাসকিন নৈপুণ্যে জয় পেল রংপুর

|

জ্বলে উঠলেন তাসকিন আহমেদ। দেশের গতিময় এ পেসারের বোলিং নৈপুণ্যে রাজশাহী রয়েলসের বিপক্ষে ৪৭ রানের দাপুটে জয় পেয়েছে রংপুর রেঞ্জার্স। রংপুরের এটা টানা দ্বিতীয় জয়। আগের ম্যাচে সিলেট থান্ডারর্সকে হারিয়েছে তারা।

চলতি বিপিএলের শুরুতে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে পারেননি তাসকিন। বাজে পারফরম্যান্সের কারণে তিন ম্যাচ খেলার পর সাইড বেঞ্চে বসে থাকতে হয় তাকে। আগের তিন ম্যাচে ৭৬ রান খরচ করে সাফল্যহীন তাসকিন মঙ্গলবার স্বমহিমায় জ্বলে উঠেছেন। তার আগুন ঝরা বোলিংয়ের সামনে প্রতিরোধ গড়তে পারেননি লিটন দাস, আফিফ হোসেন, শোয়েব মালিক ও ফরহাদ রেজারা। ৪ ওভারে ২৯ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন জাতীয় দলে অনিয়মিত হয়ে যাওয়া এ পেসার।

রংপুরের বিপক্ষে ১৮৩ রানের বিশাল টার্গেট তাড়া করতে নেমে দলীয় ১২ রানে ওপেনার আফিফ হোসেনের উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় রাজশাহী রয়েলস। দ্বিতীয় উইকেটে ৩৯ রানের জুটি গড়েন লিটন দাস ও অলক কাপালি।

এক উইকেটে ৫১ রান করা রাজশাহী এরপর ১৩ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়। দলের এমন ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিনে হাল ধরতে পারেননি রবি বোপারা ও অধিনায়ক আন্দ্রে রাসেল। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতনের কারণে ২০ ওভারে ১৩৫ রানে ইনিংস গুটায় রাজশাহী।

মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রাজশাহী রয়্যালসের বিপক্ষে টস হেরে ব্যাটিং করে রংপুর। উদ্বোধনীতে ব্যাটিংয়ে নেমে শেন ওয়াটসনের সঙ্গে তাণ্ডব শুরু করেন রংপুর রেঞ্জার্সের ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম। জাতীয় দলের এ তরুণ ব্যাটসম্যান একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে তুলে নেন ফিফটি।

উদ্বোধনীতে ৪ ওভারে শেন ওয়াটসনের সঙ্গে ৩৮ রানের জুটি গড়েন নাঈম। ৮ বলে ৭ রান করে আউট হন রংপুরের অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার শেন ওয়াটসন।

এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা ব্যাটসম্যান ক্যামেরন ডেলপোর্টকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ৫৪ রানের জুটি গড়েন নাঈম। ১৭ বলে তিন চার ও ২ ছক্কায় ৩১ রান করে ফেরেন ডেলপোর্ট। দলীয় ১১০ রানে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরে ফেরেন নাঈম। তার আগে ৪৭ বলে করেন ৫৫ রান। চলতি বিপিএলে নাঈমের এটা দ্বিতীয় ফিফটি। এর আগে সর্বোচ্চ ৭৮ ও ৪৯ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি।

এরপর একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে যাওয়া রংপুরের ইংলিশ ক্রিকেটার লুইস গ্রেগরি ১৭ বলে ৩টি চার ও এক ছক্কায় ২৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন। ইনিংসের শেষ দিকে রীতিমতো তাণ্ডব চালান জহুরুল ইসলাম অমি ও আল-আমিন। স্থানীয় এ দুই ব্যাটসম্যান শেষ দিকে মাত্র ১৫ বলে ৩৪ রানের জুটি গড়েন তারা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

রংপুর রেঞ্জার্স: ২০ ওভারে ১৮২/৬ (নাঈম ৫৫, ডেলপোর্ট ৩১, গ্রেগরি ২৮, জহুরুল ১৯*, আল-আমিন ১৫*, মোহাম্মদ নবী ১৬; ইরফান ২/৩৫, আফিফ ২/৪০)।

রাজশাহী রয়েলস: ২০ ওভারে ১৩৫/৮ (কাপালি ৩১, বোপারা ২৮, নাহিদুল ১৯; তাসকিন ৪/২৯)।

ফল: রংপুর রেঞ্জার্স ৪৭ রানে জয়ী।









Leave a reply