ইরাকের পার্লামেন্টে ভোটাভুটি আটকাতে চেষ্টা করেছে ওয়াশিংটন: সিএনএন

|

ইরানি সেনা কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি হত্যাকাণ্ডের পর উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন সেনাদের দেশ থেকে বের করে দিতে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে ইরাকের পার্লামেন্টে।

গত শুক্রবার ইরাকের রাজধানী বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন সোলাইমানি, যিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পর সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে আলোচিত।

ওই হামলার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি নানা পদক্ষেপের মধ্যে রোববার ইরাকি পার্লামেন্টের অধিবেশনে দৃশ্যত যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী প্রস্তাবটি পাস হয়।

রয়টার্স জানিয়েছে, এই প্রস্তাবে ইরাকের পার্লামেন্ট সদস্যরা দেশ থেকে সব বিদেশি সৈন্যকে ফেরত পাঠাতে সরকারকে কার্যকর ভূমিকা নিতে বলেছে।

“যে কোনো বিদেশি সেনার ইরাকে অবস্থানের ইতি অবশ্যই টানতে হবে সরকারকে। বিদেশি সেনাদের কোনো কারণেই ইরাকের মাটি ব্যবহার, আকাশ ও নৌপথ ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না।”

এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ইরাকের পার্লামেন্টে ভোটাভুটি আটকাতে জোর চেষ্টা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের চেষ্টা সফল হয়নি।

সিএনএন এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা ইরাকি নেতাদের এটা বুঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যে, এমন ধরনের ভোটাভুটি চূড়ান্তভাবে ইরাকের জন্য লাভজনক হবে না।

ইরাকি ও মার্কিনীদের মধ্যকার আলোচনা সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের এমন সাবধান বাণী ইরাকি নেতাদের ভোটাভুটি থেকে বিরত রাখতে পারেনি। একটি সূত্র বলেছে, পরিস্থিতি এমন জায়গায় গেছে যে ভোটাভুটি আয়োজন উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ ছিলো না।

এদিকে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন ইরাকি পার্লামেন্টের প্রস্তাব যদি দেশটির সরকার বাস্তবায়ন করতে যায় তাহলে এমন নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবে যা তারা (ইরাক) কখনো দেখেনি।

আগামী সপ্তাহে ইরাকের অন্তবর্তীকালীন সরকার পার্লামেন্টের প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করতে বসবে। মার্কিনীরা আশা করছেন সময় যত গড়াবে ইরাকিদের মনোভাব কিছুটা নমনীয় হয়ে আসবে। আর এতে সরকার পার্লামেন্টের প্রস্তাব বাস্তবায়ন থেকে সরে আসবে। যদিও বাস্তবে কী ঘটবে তা এখই বলা যাচ্ছে না।

২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাতে বহুজাতিক বাহিনীর অভিযান শুরুর পর ইরাকে ঘাঁটি গাড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যরা। ২০০৭ সালে সৈন্য প্রত্যাহার শুরু হয়ে ধাপে ধাপে অধিকাংশকে ফিরিয়ে আনা হলেও এখনও ৫ হাজার সৈন্য রয়েছে।









Leave a reply