সরকারি হাসপাতালে হাজিরা ‘ফাঁকি দিতে’ বায়োমেট্রিক মেশিনে ইনজেকশন!

|

হাজিরায় ‘ফাঁকি দিতে’ লঙ্কাকাণ্ড ঘটিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের এক ঝাড়ুদার। পানি ভর্তি সিরিঞ্জ দিয়ে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন নষ্ট করে দিয়েছেন ঝাড়ুদার ফারুক মিয়া। এই ঘটনায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় চলছে সংশ্লিষ্ট দফতরে।

অভিযোগ রয়েছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসক ও কর্মকর্তা কর্মচারীরা সব সময় ব্যস্ত থাকে অফিস ফাঁকি দেয়ার জন্য। এখানকার অধিকাংশ চিকিৎসক ও কর্মকর্তা ও কর্মচারী জেলা শহরের বেসরকারি ক্লিনিক ব্যবসা বাণিজ্যে জড়িত। হাসপাতালে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন বসানোর পর তারা এখন বিপাকে।

ধারণা করা হচ্ছে ঝাড়ুদার ফারুক মিয়াকে ব্যবহার করে এই মেশিন নষ্ট করা হয়েছে। যদিও প্রাথমিকভাবে ঝাড়ুদার ফারুক মিয়া কারও নাম বলেনি। ফলে আবারও বিতর্কে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপন করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতাল ভবনের অভ্যন্তরে গান-বাজনা ও আতশবাজি ফাটিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন চিকিৎসকরা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, চিকিৎসকসহ হাসপাতালের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিদিন (সরকারী ছুটির দিন ব্যতীত) সকাল ৮টার মধ্যে হাসপাতালে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিনে আঙুলের ছাপ দিয়ে হাজিরা নিশ্চিত করতে হয়।

এই হাজিরা সরাসরি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম বা এমআইএস শাখা তদারকি করে থাকে। এর ফলে হাজিরায় ফাঁকি দেয়ার সুযোগ থাকে না।

বুধবার সদর হাসপাতালের ঝাড়ুদার ফারুক মিয়া হাজিরায় ফাঁকি দিতে পানি ভর্তি ইনজেকশনের সিরিঞ্জ দিয়ে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিনটি নষ্ট করে ফেলেন। ওইদিন ভোর ৫টা ৫৭ মিনিটে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকে থাকা বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিনটি নষ্ট করেন বলে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় ধরা পড়ে।

এই ঘটনার খবর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতর পর্যন্ত পৌঁছায়। অভিযুক্ত ঝাড়ুদার ফারুক মিয়াকে বরখাস্ত করার জন্য নির্দেশনাও দেয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

অভিযুক্ত ফারুক মিয়ার মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও সেটি বন্ধ পাওয়ায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শওকত হোসেন জানান, ঘটনার পরপরই তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। যেহেতু ভিডিও ফুটেজ আছে সেহেতু ঘটনা তদন্তের কিছু নেই।

তবে এ ঘটনার পেছনে কেউ রয়েছে কি-না সেটি জানতে আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলাম কিন্তু সে কিছু বলেনি। তবে ঝাড়ুদার ফারুক মিয়াকে অধিকতর তদন্তের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাধ্যমে তদন্ত করার দাবি জানান।









Leave a reply