বিশ্বজুড়ে ২০১৭ সালের আলোচিত ঘটনাসমূহ

|

বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে ঘটনাবহুল ২০১৭ সালের। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত পদক্ষেপ, সৌদি-ইরান উত্তেজনা ও রোহিঙ্গা নিপীড়ন ছিল বিদায়ী বছরের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা। পিয়ং ইয়ং-ওয়াশিংটন উত্তেজনায় দেখা দেয় পরমাণু যুদ্ধের শঙ্কা। যদিও বিশ্ববাসীকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে সিরিয়া ইরাকে আইএস’র পতন।

বছরজুড়ে আলোচনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত ও একতরফা অনেক সিদ্ধান্ত দেখেছে বিশ্ববাসী। যার মূল নায়ক নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।২০১৭ সালে বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত চরিত্রও তিনি। জলবায়ু চুক্তিসহ আন্তর্জাতিক নানা চুক্তি থেকে নাম প্রত্যাহার, অভিবাসীদের ওপর কড়াকড়ি, প্রশাসনে ঘনঘন রদবদলসহ নানা কারণে বছর জুড়ে সংবাদ শিরোনামে ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। দৃষ্টিকটুভাবে মিত্রদের সাথে বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দূরত্ব।


ফিলিস্তিন-ইসরায়েল

কয়েক বছর শান্ত থাকার পর ফের উত্তপ্ত ফিলিস্তিন পরিস্থিতি। পবিত্র নগরী জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা স্বীকৃতির প্রতিবাদে ফুঁসছে গোটা ফিলিস্তিন।


বছর শেষে আলোচনায় সৌদি ক্রাউন প্রিন্স সালমান  

আলোচনা কম হয়নি সৌদির নতুন ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে নিয়েও। মাত্র ৩২ বছর বয়সী যুবরাজ এ বছর হয়ে ওঠেন সৌদি আরবের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু। তার আক্রমণাত্মক নীতিতে নতুন মাত্রা পেয়েছে সৌদি-ইরান টানাপোড়েন।

সিরিয়া ইয়েমেনের পর অস্থিরতা ছড়ায় লেবাননেও। কাতারের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের নেপথ্যেও কলকাঠি নাড়েন যুবরাজ মোহাম্মদ। বিশ্বজুড়ে শিরোনাম হন দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে আত্মীয় স্বজনদের আটক করে।


ইরাক-সিরিয়ায় আইএস’র পরাজয়

অবশ্য মধ্যপ্রাচ্যে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে ইরাক-সিরিয়ায় জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস’র পরাজয়। স্বঘোষিত খেলাফতের রাজধানী রাক্কা কিংবা মসুলের মতো শক্তিশালী ঘাঁটির পতন হয়েছে। যদিও নানা দেশে বিচ্ছিন্ন হামলায় নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছে জঙ্গিরা। মিশর-সোমালিয়ায় জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারায় শত শত বেসামরিক মানুষ ।


উত্তর কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র টানাপোড়েন

বছর জুড়েই আলোচনায় ছিলো উত্তর কোরিয়ার পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। প্রথমবারের মতো মার্কিন ভূখণ্ডে সরাসরি হামলার সামর্থ্য অর্জন করে পিয়ং ইয়ং। কিম জং উন-ট্রাম্প বাকযুদ্ধে পরমাণু যুদ্ধের শঙ্কায় গিয়ে গড়ায়।


কাতালুনিয়ার স্বাধীনতা আন্দোলন

ইউরোপে প্রায় সারাবছরই উত্তেজনা ছিলো কাতালুনিয়ার স্বাধীনতা আন্দোলন নিয়ে। গণভোটে স্পেন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পক্ষে রায় এলেও আন্তর্জাতিক সমর্থনের অভাবে স্বাধীন হতে পারেনি কাতালানরা। উল্টো বাতিল হয়েছে স্বায়ত্ত্বশাসন। স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট হয় ইরাকের কুর্দিস্তানেও।


জিম্বাবুয়ের স্বৈরশাসক রবার্ট মুগাবের পতন

নেতৃত্বের পরিবর্তন নিয়ে কেনিয়াসহ  আফ্রিকার কয়েকটি দেশে সহিংসতা দেখা যায়। জিম্বাবুয়েতে সামরিক অভ্যুত্থানে অবসান ঘটে রবার্ট মুগাবের দীর্ঘ ৩৭ বছরের স্বৈরশাসনের। আফ্রিকার নানা দেশে এখনও জাতিগত সংঘাতে ইউরোপ অভিমুখী ঢল বন্ধ হয়নি বিদায়ী। বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলে লিবিয়ায় অভিবাসীদের দাস হিসেবে বেচাকেনার খবর।


রোহিঙ্গা সংকট

যদিও মানবাধিকার ইস্যুতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলো রোহিঙ্গা সংকট। মিয়ানমারের রাখাইনে সেনা নিপীড়নে মাত্র ৪ মাসে দেশ ছাড়া হয় সাড়ে ৬ লাখের বেশি মানুষ, প্রাণ হারায় কয়েক হাজার রোহিঙ্গা। সু চি প্রশাসনের নজিরবিহীন এ জাতিগত নিধনে নিন্দার ঝড় ওঠে বিশ্বজুড়ে। অন্যদিকে, বাস্তুহারা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে বাংলাদেশ।

যমুনা অনলাইন: এলবিএন/আরএস/টিএফ

 









Leave a reply