পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোতে এখন আতঙ্কের নাম পঙ্গপাল

|

পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোতে এখন আতঙ্কের নাম পঙ্গপাল। গেল সাতদিনে কেনিয়ার এক লাখ একরের বেশি জমির ফসল নষ্ট করেছে পতঙ্গের দল। একই অবস্থা পাশের দেশ উগান্ডাতেও। পরিস্থিতি সামলাতে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে দেশ দুটিতে। বিপুল খাদ্যশস্য নষ্ট হওয়ায় দুর্ভিক্ষের শঙ্কা জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই পঙ্গপালের এমন প্রকোপ।

প্রথম দেখায় মনে হয় পাখির ঝাঁক, তবে ভুল ভাঙে এই গাছের দিকে তাকালেই। শত শত, বা হাজার হাজার নয়, কোটি কোটি পঙ্গপালে ছেঁয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলের ক্ষেত; বনাঞ্চল। পঙ্গপালের নজিরবিহীন এ আক্রমণে, রীতিমতো বিপর্যস্ত পশ্চিম আফ্রিকা।

সবচেয়ে খারাপ অবস্থা কেনিয়ার। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে, দেশটির পূর্বাঞ্চলে পঙ্গপালের রাজত্ব। এরইমধ্যে আক্রান্ত হয়েছে দেশটির এক লাখ একরের বেশি এলাকা। ইথিওপিয়ার মরু অঞ্চল থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ছুটে আসছে পঙ্গপালের দল।

কেনিয়ার এক কৃষক বলেন, অক্টোবরে আমরা ফসল লাগিয়েছিলাম। আগামী মাসে ফসল ঘরে তুলবো। অথচ তার ঠিক আগে এই বিপদ। মাঠের পর মাঠ, শস্য খেয়ে ফেলছে পঙ্গপাল কিন্তু তাদের দমাতে কিছুই করতে পারছি না।

কেনিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রধান কর্মকর্তা স্যালেট টুট্যানা বলেন, পঙ্গলপালগুলো ডিম পারছে মাটির ভেতরে। যারফলে বিমান থেকে যত কিটনাশকই ছেটানো হোক না কেন, এদের দমন করা যাচ্ছে না। প্রতি সপ্তাহেই জন্ম নিচ্ছে কোটি কোটি পঙ্গপাল।

পাশের দেশ উগান্ডাতেও, একই অবস্থা। মাইলের পর মাইল এলাকাজুড়ে পঙ্গপালের একেকটি ঝাঁকের বিস্তার। এর আক্রমণ থেকে খেতের ফসল বাঁচাতে নানা চেষ্টা করছেন বাসিন্দারা। এমনকি বিমান থেকেও ছেটানো হচ্ছে ওষুধ। যদিও তাতে সাফল্য নেই বললেই চলে।

হঠাৎ পঙ্গপালের প্রকোপের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করছে কর্তৃপক্ষ। বলা হচ্ছে, হঠাৎ তাপমাত্র কমে বৃষ্টি হওয়ায় মাটির নিচে বেড়েছে আদ্রতা। যে কারণে জন্ম নিচ্ছে পঙ্গপাল। এ আক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হলে ব্যাপক খাদ্য সংকটের আশঙ্কা জাতিসংঘের। পঙ্গপাল দমনে, ৮ কোটি ডলার জরুরি সহায়তা চেয়েছে এফএও।

এফএও’র খাদ্য ও কৃষি বিভাগ কর্মকর্তা ডমিনিক বারগুয়েন বলেন, যে স্থানে পঙ্গপালের আক্রমণ হয়েছে সেই এলাকাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তিন দেশের প্রায় ১ কোটি মানুষের বসবাস। এভাবে যদি পঙ্গপালের আক্রমন অব্যাহত থাকে তাহলে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে এই অঞ্চলে।

পতঙ্গ বিশ্লেষকরা বলছেন, দ্রুত আবহাওয়া ভালো না হলে, এখনকার চেয়েও ৫০০ গুণ বাড়তে পারে পঙ্গপালের পরিমাণ। যে আশঙ্কায়, এরইমধ্যে সতর্কতা জারি করেছে সুদান, দক্ষিণ সুদানসহ বেশ কয়েকটি দেশ।









Leave a reply