পানিশূন্য কেপটাউনে টয়লেটে ফ্লাশ করতে মানা

|

উপরের ছবিটি খেয়াল করুন। টয়লেট ব্যবহার করে ফ্লাশ করতে মানা করা হচ্ছে ! প্রতি ফ্লাশে একজন ব্যক্তির ৫ দিনের পান করার পানি খরচ হয়। তীব্র পানি সংকটের কারণে তাই এমন আহ্বান জানিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

অসময়ের শীতে কেপটাউন শহরে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। ডিসেম্বর মাঝামাঝি শহরের সংরক্ষিত জলাধারে পানি ধারণক্ষমতার ৩৩ ভাগে এসে ঠেকে। তা আরও দ্রুত কমে আসছে। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল শহরে কোনো সুপেয় পানি থাকবে না!

কেপটাউনের ‘ইউনিভার্সিটি অফ দ্যা ফ্রি স্টেটের’ পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক অধ্যাপক ড. অ্যান্থনি টারটন বলেন, বিশ্বের বড় শহরগুলোর মধ্যে কেপটাউনই প্রথম যেটি পানিশূন্য হতে যাচ্ছে। বিষয়টা এমন না, যে সংকট আসন্ন; ইতিমধ্যেই আমরা গভীর সংকটের মাঝে বাস করছি।’

এরমধ্যে বাসাবাড়িতে সাপ্লাই পানি বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ শহরের ২০০টি স্থানে পানি বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শহরের মেয়র অফিসের মুখপাত্র জারা নিকলসন জানান, শহরের বাসিন্দাদের দু’মিনিটের মধ্যে গোসল শেষ করতে বলা হয়েছে।পাশাপাশি বাগানে পানি দেয়ার কাজ বন্ধ করতে বলা হয়েছে। সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার পরবর্তে তারা এখন হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করবে।

কিন্তু তাতে যে উদ্বেগ কাটছে না তা বলাই বাহুল। শহরজুড়ে পানির জন্য হাহাকার বেড়েই চলছে। কেপটাউনবাসীর কাছে পানির মূল্য এখন সোনার চেয়েও বেশি। সম্ভাব্য নৈরাজ্য মোকাবেলায় শহরটিতে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। ৭০ বছর আগে বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন নাকি বলেছিলেন, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হবে পানির জন্য। কেপটাউন পরিস্থিতি হয়তো তেমন কিছুরই পূর্বাভাস।

যমুনা অনলাইন: টিএফ









Leave a reply