স্বপ্ন পূরণে ১৭৮ রান দরকার বাংলাদেশের

|

আকবর আলীর দলকে নিয়ে দেশের ক্রিকেট ভক্তদের প্রত্যাশাটা একটু বেশিই। দারুণ ধারাবাহিক এই দলটি ২ বছর ধরে একসাথে খেলছে। দলের বোঝাপড়াটাও বেশ ভালো। কিন্তু ঘর পোড়া গরু সিঁদূরে মেঘ দেখলে ডরায়। স্বপ্ন ভঙ্গ যাতনায় আশা করতেও যেন ভয় পায় ক্রিকেট ভক্তরা। কিন্তু আকবর আলীরা ভিন্ন ধাতুতে গড়া।

কিন্তু অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপকে রীতিমতো বিগড়ে দিয়েছে বাংলাদেশের যুবারা। সেটা এতটাই যে ৬ নম্বর উইকেটে (ম্যাচের ৪৩-তম ওভারে) প্রাণপণ লড়াইয়ে মেতে উঠলো দুই ভারতীয় তরুণ অথর্ব আঙ্কোলেকার ও ধ্রুব জুরেল। উদ্দেশ্য, বিপদে চাচা, আগে আপনা প্রাণ বাঁচা। দুজনই একই দিকে ছুটলেন। একই সাথে ক্রিজে ব্যাট ছোয়ালেন। কে আউট হয়েছেন সে সিদ্ধান্ত নিতে আম্পায়ারদের গলদঘর্ম হতে হলো। শেষ পর্যন্ত আউট দেয়া হলো জুরেলকে (৩৮ বলে ২২)।

পরের ওভারেই শরীফুল দারুণ এক রান আউট করেন রবি বিষ্ণুকে (৬ বলে ২)। ১৭০ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে ভারত। সেটি আরও বাড়িয়ে তোলেন অভিষেক দাস। ঠিক দু’বল পর অথর্বের (৭ বলে ৩) স্ট্যাম্প ভেঙে দিয়ে। একই ওভারের শেষ বলে কার্তিক ত্যাগীকে উইকেটের পেছনে আকবর আলীর মুঠোবন্দি করেন অভিষেক। এরপর দু্ই ওভারে আরও ৫ রান যোগ করে ভারতের যুবারা। ৪৮-তম ওভারে তানজিম হাসান সাকিবের বলে শরীফুলের হাতে ধরা পড়েন মিশ্র। ১৭৭ রানে গুটিয়ে যায় ভারত।

আগে, ম্যাচের প্রথমেই চাপে পড়ে ভারত। ম্যাচের ৭ম ওভারে জুনিয়র টাইগারদের প্রথম আনন্দের উপলক্ষ্য এনে দেন স্পিনার হাসান মুরাদের বদলে দলে আসা পেস অলরাউন্ডার অভিষেক দাস।

সেখান থেকে তিলক ভার্মাকে নিয়ে জুটি গড়েন যশস্বী জসওয়াল। এই জুটি যখন খোলস ছেড়ে রান রেটে বাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টায় তখনই ম্যাচে দারুণ বল করা তানজিম হাসান সাকিবের বলে আরেক পেসার শরীফুলের হাতে ধরা পড়েন তিলক ভার্মা। ৬৫ বলে ৩৮ রানে ফিরে যাওয়া তিলক ভার্মার পর মাঠে নামেন ভারতের অধিনায়ক প্রিয়ম গর্গ। কিন্তু ২ ওভার পরেই স্পিনার রাকিবুলের বলে সাকিবের হাতে ধরা পড়েন রানের চাকা সচল রাখার চেষ্টা করা গর্গ (৯ বলে ৭)।

৪০-তম ওভারে পরপর দু’বলে ভয়ংকর হয়ে ওঠা ওপেনার যশস্বী (১২১ বলে ৮৮) ও ভীরকে (০ ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাচের দিক পুরোপুরি ঘুরিয়ে দেন দারুণ বল করা পেসার শরীফুল। এরপর ভারতের ব্যাটসম্যানদের আসা যাওয়ার মিছিল। আর বাংলাদেশের স্বপ্নটা আরও গাঢ় হয়ে ওঠা। এখন ১৭৮ রান করলেই এদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ট্রফিটি হাতে উঠবে আকবর আলীদের। বিশ্বকাপ বলে কথা!









Leave a reply