শান্তিনগর বাজার রোডে মহাদুর্ভোগ, মূল সড়কে রিকশা ও বাইকের স্ট্যান্ড

|

শান্তিনগর এলাকায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ড্রেনেজ সংস্কার কাজ ধীরগতিতে চলায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকাবাসী।

রাস্তায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে দুই মাস ধরে চলছে সংস্কার কাজ। রাস্তার মাঝে বসানো স্ল্যাবগুলো রাস্তা থেকে উঁচু হয়ে থাকায় রিকশা উল্টে যাচ্ছে, অনেকেই আহত হচ্ছেন।

শুক্রবার পীরসাহেবের গলির এখানে ড্রেনেজের জন্য করে রাখা গর্তে পড়ে পা ভেঙেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ফরুক মিয়ার স্ত্রী। শান্তিনগর বাজারের দক্ষিণ পাশের প্রবেশের রাস্তাটি সব সময়ই কিছুসংখ্যক মোটরসাইকেল ও রিকশার দখলে থাকে।

রাস্তার মাঝখানে রাখা হয় তেলের ড্রাম ও মালামালের ভ্যান। যানবাহন ও মানুষ চলাচলের সদর রাস্তাটি এখন বাইক ও রিকশার স্ট্যান্ড। ফলে ওই এলাকায় অবস্থিত কয়েকটি হাউজিং থেকে যানবাহন বের হতে হলে সৃষ্টি হয় অসহনীয় যানজট।

চৌরাস্তার এই যানজট নিরসনে উদ্যোগ নেই শান্তিনগর বাজার কমিটির। সিটি কর্পোরশেন বলেছ আরএফএলের পাইপ লাইনের কাজ চলায় রাস্তা ঢালাইয়ের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।

সরেজমিন দেখা যায়, শান্তিনগর বাজার রোডে ডিএনসিসির ড্রেনেজ সংস্কারের কাজ করার পর পুরো রাস্তা খানাখন্দে ভরা, স্ল্যাব বসানোর পর তার আশপাশ মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়নি। রাস্তা থেকে চার থেকে ছয় ইঞ্চি উঁচু হয়ে আছে এসব স্ল্যাব। যাতায়াতকারী যানবাহনে প্রতিনিয়তই পড়তে হচ্ছে বিড়ম্বনায়।

শান্তিনগর প্রপার্টি এস্টেটের বাসিন্দারা বলেন, এখানে রাস্তার কাজ শুরু হওয়ার পর প্রায় দেড় মাস দুই শতাধিক গাড়ি প্রপার্টি অঙ্গনে আটকা পড়া ছিল।

এখনও বাসা থেকে বের হয়ে শান্তিনগর বাজার মোড়ে গাড়ি বের করতে কষ্ট হয়। শনিবার সকালে শান্তিনগর বাজার রোডে কিছুক্ষণ অবস্থান করে একই দৃশ্য দেখেছেন এ প্রতিবেদক।

বাজারের দোকানদার বলেন, এখানে যানজট লাগার কারণে ভালো কাস্টমার এদিকে আসতে চান না। বাজার কমিটির কাছে সবাই অভিযোগ দিয়েছেন, এতে কোনো কাজ হয় না।

শান্তিনগর পীরসাহেবের গলির পুরো রাস্তাজুড়ে ভোগান্তি, ড্রেনেজের কাজ হওয়ার পর রাস্তা সংস্কার করা হয়নি, পুরো রাস্তা ধুলাবালি, ইস্টার্ন পিসের সাননের চৌরাস্তার মাঝখানে ময়লার ড্রেনের ঢাকনা খোলা রাখায় সৃষ্টি হয়েছে বড় গর্ত, ইস্টার্ন পিসের সিকিউরিটি গার্ড জানান, মাসের বেশিদিন ধরে এই গর্ত, এই বাসা থেকে গাড়ি বের হতে অনেক সমস্যা হয়। দুই-তিনবার রিকশা পড়ে গেছে এই গর্তে।

ড্রেনেজের কাজ করা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাকুলদার এন্টারপ্রাইজের কর্মকর্তা সাইফুল বলেন, আনন্দ ভবন কমিউনিটি সেন্টার থেকে শুরু করে পীরসাহেবের গলি, শান্তিনগর বাজার পর্যন্ত আমাদের। রাস্তা এই সপ্তাহেই ঢালাই হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) উপ-সহকারী প্রকৌশলী মেজবা উদ্দীন রাসেল বলেন, আমাদের পাইপ লাইনের কাজ শেষ হওয়ার পর ওয়াসার আরএফএল লাইন বসানোর পর এক মাস পর আমাদের ক্লিয়ারেন্স দিলে আমরা রাস্তা ঢালাই করে দেই। কিছু বাড়িতে এই আরএফএল লাইন সংযোগ দেয়া বাকি আছে সেজন্য ঢালাই দিতে পারছি না।

আমিনবাগ কো-অপারেটিভ মার্কেট সোসাইটি লিমিটেডের (শান্তিনগর বাজার) সভাপতি আলহাজ মো. মজিবুল হক বলেন, আমরা সব সময়ই রাস্তা ক্লিয়ার রাখার চেষ্টা করি। তারপরেও জনগণের সুবিধার জন্য প্রয়োজনে এখানে একজন লোক নিয়োগ দেয়া হবে।









Leave a reply