৫ বছরে শত কোটি টাকার মালিক পাপিয়া দম্পতি!

|

শনিবার রাজধানী থেকে যুব মহিলা লীগের সদ্য বহিষ্কৃত নেত্রী পাপিয়া ও তার স্বামীসহ ৪ জনকে আটক করে র‍্যাব। পাপিয়া ছাড়া আটক অন্যরা হল তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমন, তাদের সহকারী এক তরুণী ত্যায়েবা ও আরেক সহযোগী সাব্বির খন্দকার।

নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শামিমা নূর পাপিয়া। তার বাবা ছিলেন এক অটো গ্যারেজ মালিকের মেয়ে। এক সময় তাদের তেমন কিছুই ছিল না। গত ৫ বছরে অর্থবিত্ত অর্জন করে আঙুল ফুলে গলা গাছ হয়ে গেছেন। গাড়ি, বাড়ি, ফ্ল্যাট কিনে বনেছেন শত কোটি টাকার মালিক।

দেশে গাড়ির ব্যবসার পাশাপাশি বিদেশে দিয়েছেন বার। আর সবই করেছেন, অন্যায় ও অপকর্মের ওপর ভর করে। ধনী ব্যবসায়ীদের ব্লাকমেইল, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও দেহ ব্যবসাই তাদের মূল পেশা।

২০১২ সালের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে নরসিংদী শহরের বাসাইল এলাকায় নিজ বাসার সামনে সুমনের ওপর গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। এ সময় সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিটি বিদ্ধ হয় তার স্ত্রী পাপিয়ার পেটে। এরপর তারা নরসিংদী ছেড়ে ঢাকায় পাড়ি জমান।

ঢাকায় এমপি সাবিনা আক্তার তুহিনের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে পাপিয়ার। এরপর থেকে পাপিয়া চৌধুরী ও তার স্বামী সুমন ওরফে মতি সুমন রাজধানীর সাবেক এক সংরক্ষিত এমপির আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। ওই এমপির সঙ্গে তার গাড়ির ব্যবসা আছে বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে পাপিয়া ও সুমনের অস্বাভাবিক উত্থান হয়।

২০১৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর জেলা যুব মহিলা লীগের সম্মেলনে তৌহিদা সরকার রুনা সভাপতি ও পাপিয়া চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। শুরু হয় অস্বাভাবিক উত্থান। আর এ সবই করেছেন রাজধানী ঢাকায় বসে। মাঝে মধ্যেই স্থানীয় আওয়ামী লীগের মিটিং-মিছিলে দলবল ও বহর নিয়ে যোগ দিতেন এই দম্পতি।

নরসিংদী শহরে সুমন চৌধুরীর কেএমসি কার ওয়াশ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। কার ওয়াশ ব্যবসার আড়ালে এখানে মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলে।

পাপিয়ার স্বামীর মালিকানায় থাইল্যান্ডে একটি বারও আছে। নরসিংদীর এসএমই শাখায় গত বছরের জুন পর্যন্ত ১ লাখ ২৩ হাজার ৮২৯ টাকা জমা ছিল।









Leave a reply