ডাবিং রুমে সেদিন সালমান-শাবনূরের মধ্যে কী ঘটেছিল?

|

জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ যেদিন আত্মহত্যা করেন, তার আগের দিন শাবনূরের সঙ্গে তাকে ঘনিষ্ট অবস্থায় দেখেছিলেন তার স্ত্রী সামিরা। এ নিয়ে সালমান-সামিরার কলহ চরম আকার ধারণ করে। মানসিক যন্ত্রণা সইতে না পেলে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন ঢাকাই সিনেমার সেই সময়কার সবচেয়ে জনপ্রিয় এই নায়ক।

সালমানের রহস্যজনক মৃত্যুর তদন্ত প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

আত্মহত্যার আগের দিন সন্ধ্যায় এফডিসির ডাবিং থিয়েটারে ‘প্রেম পিয়াসী’ ছবির ডাবিং চলছিল। হঠাৎ সেখানে সালমানের স্ত্রী সামিরা উপস্থিত হন। তিনি সালমান-শাবনূরকে ঘনিষ্ট অবস্থায় দেখেন। এরপর রাগ করে সামিরা সেখান থেকে বেরিয়ে যান।

সেদিন ডাবিং রুমে সালমান-শাবনূর ও সামিরার মধ্যে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে ঢাকার একটি দৈনিকের সঙ্গে সম্প্রতি কথা হয় ‘প্রেম পিয়াসী’ সিনেমার পরিচালক রেজা হাসমতের।

তিনি বলেন, সেদিন সালমান-শাবনূর মনিটরিং করছিল, ডায়লগগুলো পড়ছিল, তখন ডাবিং রুমের দরজাও খোলা ছিল। সামিরা ও সালমানের বাবা আমার ডাবিং রুমে একসঙ্গে এসেছিলেন। এসেই সামিরা আমার রুমে ঢোকেন।

এই পরিচালক বলেন, কিন্তু সেখানে আসার পর ও (সামিরা) দেখল, ওরা (সালমান-শাবনূর) মনিটরিং করছে। আমি ওদের বলছিলাম, এটা এভাবে না, ওভাবে। তখন সামিরা বুঝতে পারে, ভেতরে আপাতত ডাবিং হচ্ছে না।

‘তখন ও ওই রুমটায় (ডাবিং রুম) ঢুকে পড়ে। আমার ওই রুমটায় তখন আবুল ছিল, আমার অ্যাসিস্টেন্ট, সাউন্ড অ্যাসিস্ট করার একটা ছেলে ছিল। ওখানে অনৈতিক কিছু করার মতো অবস্থা ছিল না। হ্যাঁ, কথা বলতে পারে, তবে অনৈতিক কিছু করার মতো অবস্থা ছিল না।’

তিনি আরও জানান, পিবিআই যে কথাটি বলছে, সালমান ও শাবনূরকে ঘনিষ্ট অবস্থায় দেখে সামিরা চলে গেছে, এমন কোনো অবস্থা হওয়ার প্রশ্নই আসে না।

রেজা হাসমত বলেন, ‘সেপ্টেম্বরের ৫ তারিখ সকালে (১৯৯৬) সালমান শুটিংয়ে আসে। বিকাল বেলা ডাবিংয়ে ঢোকেন। রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সে আমার এখানেই ছিলেন। এই ছিল ঘটনা। তারপর বাসায় গিয়ে কী ঘটেছে, সেটা আমি বলতে পারব না।’

রেজা হাসমত বলেন, সাধারণত ডাবিং রুমগুলোতে আর্টিস্ট ছাড়া আর কেউ ঢুকতে পারেন না। তবে যদি কারও গেস্ট আসে তবে ডাবিং সেটের ডিরেক্টরের আসন থেকে উল্টোদিকে তাদের জন্য আলাদা জায়গা থাকে, যেখানে তারা এসে বসতে পারেন।

‘সরাসরি তারা ডাবিং রুমে ঢুকতে পারেন না। ডাবিং চলা অবস্থায়ও কেউ তাদের রুমে ঢুকতে পারেন না। সেখানে একটি লাইট থাকে যেটা বন্ধ থাকলে বোঝা যায় ডাবিং চলছে। জ্বলে উঠলে বোঝা যায় ডাবিং বন্ধ রয়েছে। এ সময় আর্টিস্টরা স্ক্রিপ্টিং করেন। তখন কোনো গেস্ট চাইলে ওই রুমটিতে ঢুকতে পারেন।’

এদিকে চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা সালমান শাহর আত্মহত্যার অন্যতম কারণ বলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে চিত্রনায়িকা শাবনূরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই। তিনি পিবিআইকে ওই দিনের ঘটনা সম্পর্কে বলেছিলেন, কো-আর্টিস্ট হিসেবে যতটুকু ঘনিষ্ঠতার দরকার ছিল, তা-ই ছিল।

শাবনূর জানান, সালমানের সঙ্গে ৫ সেপ্টেম্বর রাতে ‘প্রেম পিয়াসী’ সিনেমার ডাবিং ছিল, সেসময় সালমানকে খুব স্বাভাবিকই লেগেছিল।

সালমানের মৃত্যুর খবর কখন পান- পিবিআইয়ের এমন প্রশ্নের জবাবে শাবনূর বলেন, ৬ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায় সালমানের মৃত্যুর খবর পাই। কিন্তু আমি সালমানের জানাজায় যাইনি এবং পরে কখনও সালমানের বাসায় যাইনি।

প্রসঙ্গত, রুপালি পর্দার সালমান শাহর আনুষ্ঠানিক নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন।সিলেটের জকিগঞ্জে নানাবাড়িতে ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর তার জন্ম।

আদমজি ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ড. মালেকা সায়েন্স ইনস্টিটিউট থেকে গ্র্যাজুয়েশন করা ইমন ১৯৯২ সালে বিয়ে করেন বিউটি পার্লার ব্যবসায়ীর মেয়ে সামিরাকে। তখন তার বয়স ২২ বছর।

মঈনুল আহসান সাবেরের লেখা ধারাবাহিক নাটক ‘পাথর সময়’-এর একটি চরিত্র দিয়ে ইমনের অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু। মাত্র সাড়ে পাঁচ বছরের চলচ্চিত্র-জীবনে ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করা সালমান শাহ ঢাকাই সিনেমার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন।

নব্বইয়ের দশকে যারা বয়সে ছিলেন কিশোর-তরুণ, তাদের অনেকের হৃদয়েই সালমান শাহ বাংলাদেশের ‘সেরা রোমান্টিক অভিনেতা’ হয়ে থাকবেন।


সম্পর্কিত আরও পড়ুন




Leave a reply