ফারমার্স ব্যাংকে একাই ধ্বসিয়েছেন সাবেক অডিট চেয়ারম্যান মাহবুবুল

|

কখনো কাগজে প্রতিষ্ঠান তৈরি আবার কখনো বেনামে। কারসাজির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার ঋণ দিয়েছেন ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতি। এসব ঋণের সুবিধাভোগী তিনি নিজে, না হয় তার পরিবার। ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত উঠে এসেছে এই চিত্র। বলতে গেলে তিনি একাই শেষ করে দিয়েছেন লাভজনক অবস্থানে থাকা ব্যাংকটিকে।

ঋণ অনুমোদনে এমন কোন অনিয়ম নেই যা করেনি মাহবুবুল হক চিশতি। সীমার অতিরিক্ত ঋণ দেয়া ছাড়াও জামানতকেও অতিমূল্যায়ন করে দেখিয়েছেন তিনি। জালিয়াতির মাধ্যমে দেয়া এসব ঋণ আদায় অনেকটাই অনিশ্চিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খেলাপি মোট ঋণের ৭২ শতাংশের বেশি। বিতরণকৃত ঋণের ৫৫১৯ কোটি টাকার মধ্যে ৩ হাজার ৬শ’ কোটি টাকাই আদায় অযোগ্য। এসব অনিয়মের জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

ওয়েল টেক্স। বেসিক ব্যাংকের খেলাপি গ্রাহক। কারখানাটি গেল কয়েক মাস ধরে বন্ধ। এর সহযোগী কোম্পানি শাবাবা এ্যাপারেল এবং এডিএম ডাইং। বাস্তবে আলাদা কোন কারখানা না থাকলেও শুধু কাগুজে কোম্পানি খুলে বর্তমান পদ্মা এবং সাবেক ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে ঋণ নেন মালিক মাজেদুল হক চিশতি। এ কাজে সহযোগিতা করেন তার ভাই ফারমার্স ব্যাংকের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতি। ঋণ সীমা ৪৬ কোটি টাকা হলেও এর দায় দাড়িয়েছে প্রায় ১১৫ কোটি টাকা। এর পুরোটাই এখন খেলাপি।

শুধু শাবাবা কিংবা এডিএম ডাইং নয়, কেএমজে প্যাকেজিং, মেসার্স আলী ট্রান্সপোর্ট এবং ক্যানাম প্রোডাক্টস এমন একাধিক কোম্পানি খুলে গুলশানা শাখা থেকে নামে-বেনামে কয়েশ’ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন চিশতি। শুলশান ছাড়া মতিঝিল শ্যামপুরসহ বিভিন্ন শাখা থেকে তার এমন অনিয়মের চিত্র ধরা পড়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে।

পদ্মা ব্যাংকের অভ্যান্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ব্যাংকিং নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে, ৫৯টি ঋণ নথিতে স্বাক্ষর করেন চিশতি। এর মাধ্যমে অনিয়ম হয়েছে প্রায় ৬৭৮ কোটি টাকা। এখানে শেষ নয়, ৫৩ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন ছাড়া। জামানত ছাড়াই দেয়া হয় ৯০ কোটি টাকা। আর অনেকের ক্ষেত্রে নেয়া হয়নি ঋণের হালনাগাদ তথ্য।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আমানতকারীদের টাকা এভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে সরিয়ে নেয়ার ঘটনা নজিরবিহীন। জনগণের অর্থ আত্মসাৎ করায় তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত মূলক ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ।

ঋণ জালিয়াতি এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের মামলায় কারাগারে আছেন মাহবুবুল হক চিশতি।









Leave a reply