আসাম থেকে বাঙালিদের তাড়ানোর চেষ্টা করলে আমরা বসে থাকবো না: মমতা

|

আসামে গত রোববার রাতে প্রকাশিত বির্তকিত নাগরিক তালিকার বিরুদ্ধে সরব হয়ে নরেন্দ্র মোদির সরকারকে তুলোধনা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আজ বুধবার বীরভূমের আমোদপুরে এক জনসভায় ভারত সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আসাম থেকে বাঙালিদেরকে তাড়িয়ে দিতে চায় বিজেপি। আমি বলছি, আগুন নিয়ে খেলবেন না। এনআরসির মাধ্যমে লোকজনকে তাদের মাতৃভূমি থেকে তাড়ানোর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। যদি বাঙালিদেরকে আসাম থেকে বিতাড়নের চেষ্টা করা হয় তাহলে আমার বসে থাকবো না।’

বিতর্কিত এই নাগরিক তালিকা প্রণয়নের উদ্যোগকে ১৯৬০ সালের ‘বাঙাল খেদাও’ আন্দোলনের সাথে তুলনা করে মমতা ব্যানার্জী বলেন, এই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে।

গত রোববার মধ্যরাতে প্রকাশিত হয় আসামের নাগরিক তালিকার প্রথম খসড়া। এতে রাজ্যের ৩.২৯ কোটি নাগরিকের মধ্যে ১.৯ কোটিকে বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এর পর থেকে শুরু হয়েছে বির্তক, অশান্তি। অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আরো তালিকা আসবে শিগগিরই।

এদিকে বিজেপির প্রণয়ন করা তিন তালাক বিলের কড়া সমালোচনা করে মমতা বলেন, ‘এই বিল আইন হলে মহিলাদের সুরক্ষিত করার পরিবর্তে বিপদ আরও বাড়িয়ে দেবে। এই বিল নিয়ে বিজেপি আসলে রাজনীতি করছে।’

বীরভূমে আমোদপুরের সভামঞ্চ থেকে মমতা আরো বলেন, “মাথায় রাখবেন, আমরা কিন্তু এই বিলের কঠোর বিরোধিতা করিনি। কারণ, আমরা মেয়েদের পক্ষে। কিন্তু বিজেপির এই ত্রুটিপূর্ণ বিলের মাধ্যমে মহিলাদের সুরক্ষা দেওয়া তো দূরের কথা, উল্টে বিপদ আরও বেড়ে যাবে।”

প্রসঙ্গত, ২৮ ডিসেম্বর তাত্ক্ষণিক তিন তালাক বিল লোকসভায় উঠলে সভায় অনুপস্থিত থাকেন তৃণমূল সাংসদরা। ফলে এই বিলে সরকারিভাবে তৃণমূলের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হচ্ছিল। তবে, এদিন রাজ্যসভায় তিন তালাক বিল পেশ হওয়ার পর কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধীদের সঙ্গে একযোগে বিলটিকে সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর আবেদন জানান তৃণমূল সাংসদরা।









Leave a reply