করোনা মহামারি: আমাদের সংকট কেন বেশি?

|

মানজুর মোরশেদ:

১) উন্নত বিশ্ব ও আক্রান্ত দেশগুলোতে মানুষ টাকার ব্যবহার বন্ধ করে ফেলেছে; সমস্ত খরচ নির্বাহ করছে কার্ডে। অথচ, আমাদের টাকা হাতে-হাতে ঘোরে! আমাদের মতো টাকার এত নোংরা অবস্থা পৃথিবীর খুব কম দেশেই আছে। নানা গবেষণায় উঠে এসেছে আমাদের টাকায় কী পরিমাণ জীবাণু থাকে। টাকা করোনার সবচে বড় পরিবাহী হতে পারে।

২) আমাদের দেশের উচ্চ জনঘনত্ব করোনার জন্য ব্যাপক উৎসাহের! কারণ আমরা জানি এটা ৩ ফুট দূরত্বে মধ্যে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হতে পারে। জনমিতির হিসেব বলে শতকরা ১০ জন মানুষেরও ব্যক্তিগত একটি একক ঘর নেই এদেশে! তাহলে ‘হোম কোয়ারেন্টাইন’ কীভাবে সম্ভব?

৩) চীন আক্রান্ত এলাকায় বরফের মধ্যে এক সপ্তাহে হাসপাতাল দাঁড় করিয়েছে- হোক সেটি অস্থায়ী। এরকমটা আমাদের জন্য অসম্ভব। আমাদের হাসপাতাল ও ডাক্তারদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি অপ্রতুল। এমনকি আক্রান্তের হার বেড়ে গেলে টেস্ট করাই অসম্ভব হয়ে যেতে পারে!

৪) পশ্চিমা বিশ্বে ৬০-৭০ ভাগ মানুষের নিজের গাড়ি আছে। সেখানে ঢাকাতে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার ৬ শতাংশ; আরা সারাদেশের হিসেবে মাত্র ১ শতাংশ। সুতরাং ঘর তো বটেই, আইসোলেশন বাইরেও প্রায় অসম্ভব।

৫) আক্রান্ত উন্নত দেশগুলোতে মানুষ ৩ মাস থেকে ১ বছরের খাদ্য মজুদ করে ফেলেছে। আমাদের এখানে কটি পরিবারের পক্ষে সেটি সম্ভব? কটি পরিবারের সেই আর্থিক সক্ষমতা রয়েছে? ‘দিন আনি দিন খাই’ মানুষের সংখ্যা ৬-৭ কোটির মতো; এরমধ্যে দিনে সর্বোচ্চ দেড়শ’ টাকা আয় করতে পারে এরকম মানুষের সংখ্যা আড়াই কোটি! আমাদের ঝুঁকির শেষ নেই!

৬) আক্রান্ত লোকের সংখ্যা বেড়ে গেলে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য চীন, তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়া যেরকম সফলতার পরিচয় দিয়েছে; সেটি করার মতো প্রশিক্ষিত নয় আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসন। ঘাটতি আছে জনসচেতনতায়ও।

উটের মতো এখন আর বালিতে মুখ লুকিয়ে থাকার সময় নয়। ৬/৭ সপ্তাহ আগে ইতালি ঠিক আমাদের মতো এরকম একটা সময় পার করেছিল; খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি দেশটি। আজ তাদের পরিণতি আমরা দেখছি!

লেখক: বিশেষ প্রতিনিধি, যমুনা টেলিভিশন।









Leave a reply