করোনা নিয়ন্ত্রণে যেভাবে সফলতা পেয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া

|

কার্যকর ব্যবস্থার মাধ্যমে যে গুটি কয়েক দেশ করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সাফল্য পেয়েছে তার শীর্ষে দক্ষিণ কোরিয়া। চীনের প্রতিবেশী হয়েও দেশটিতে কোভিড নাইন্টিন আক্রান্তে মৃত্যুহার এক শতাংশের নিচে। উল্লেখযোগ্য হারে কমছে সংক্রমণও।

সোমবার দেশটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয় ৬৪ জন। যা এ মাসে সর্বনিম্ন। ২০ জানুয়ারি প্রথম কোভিড-নাইন্টিন আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় দক্ষিণ কোরিয়ায়। ২৯ ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ ৯০৯ জন আক্রান্ত হয় দেশটিতে। তখন চীনের পরই করোনার বড় কেন্দ্র ছিলো দক্ষিণ কোরিয়া।

তবে কার্যকর ব্যবস্থা আর কঠোর পদক্ষেপে এরপরই কমতে শুরু করে সংক্রমণের হার। টানা ১২ দিন ধরে নতুন সংক্রমণ ১শ’র নিচে। অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় মৃত্যুহারও দক্ষিণ কোরিয়ায় অনেক কম। তবে এতেই সন্তুষ্ট নয় প্রশাসন। বিস্তার ঠেকাতে কড়াকড়ি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা তাদের।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান ইয়ুন তে হো বলেন, ইউরোপ থেকে আসা প্রতিটি যাত্রীর করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের বিষয়েও আমরা সচেতন। আমরা বিদেশ থেকে আগতদের জন্য কোয়ারেন্টাইনের মেয়াদ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছি।

মূলত চীনে করোনার তাণ্ডব শুরুর পরই সচেতন হয় প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়া। শুরুতেই দ্রুততম সময়ে রোগ নির্ণয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করে দেশটি। বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে গড়ে তোলে ছোট ছোট বায়োটেক প্রতিষ্ঠান। যেখানে তৈরি হয় করোনা শনাক্তকরণ কিট। এ মুহূর্তে দিনে ২০ হাজার মানুষের ভাইরাস পরীক্ষার সুযোগ আছে কোরিয়ায়।

বিনামূল্যে পরীক্ষার পাশাপাশি সুরক্ষামূলক পোশাক, মাস্ক এগুলোও সহজলভ্য করা হয়। এগিয়ে আসে অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও।

রেডক্রস কর্মী বে ই সিউল বলেন, বৃদ্ধ ও শিশুসহ যারা বেশি ঝুঁকির মুখে তাদের মাস্ক ছাড়াও সুরক্ষামূলক পোশাক সরবরাহ করছি। চীন সরকার অনেক অনুদান পাঠিয়েছে।

কড়া নিয়ম মানা হয় কোয়ারেন্টাইন আর আইসোলেশনেও। এমনকি সিসিটিভি ফুটেজ দেখেও খুঁজে বের করা হয় আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে কারা এসেছিলো। বিমানবন্দর বন্ধ না করলেও স্ক্রিনিং ও কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক করা হয় যাত্রীদের জন্য।

কেবল দক্ষিণ কোরিয়া নয়, সিঙ্গাপুর, হংকং ও তাইওয়ানও বিশ্বব্যাপী প্রশংসা পাচ্ছে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকানোর সাফল্যে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সাফল্য থেকে শিক্ষা নিতে পারে পশ্চিমারাও।









Leave a reply