গোপনে করোনা পরীক্ষার কিট ও সুরক্ষা সামগ্রী সহায়তা চাইছে উত্তর কোরিয়া!

|

প্রকাশ্য করোনাভাইরাসের প্রকোপের কথা অস্বীকার করলেও গোপনে অন্য দেশের কাছ থেকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সহায়তা চাইছে উত্তর কোরিয়া। আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে এ তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া গোপনে অন্যান্য দেশের কাছ থেকে করোনাভাইরাস পরীক্ষার কিট ও সুরক্ষা সামগ্রী সহায়তা পেতে অনুরোধ করে আসছে। যদিও তারা প্রকাশ্যে, ঘরের মাটিতে কোনও ধরনের সংক্রমণের কথা স্বীকার করছে না।

ফিনান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, বিচ্ছিন্ন দেশটির কর্মকর্তারা বেসরকারিভাবে অন্যান্য দেশে তাদের প্রতিপক্ষের কাছে এই প্রাদুর্ভাবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য জরুরি সাহায্য চেয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের অপর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার কয়েকটি হাসপাতাল এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থার কাছে মাস্ক এবং করোনাভাইরাস পরীক্ষার কিট পেতে সহায়তা চেয়েছে কিম জং উনের দেশ।

উত্তর কোরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে করোনাভাইরাসের কোনও খবর দেয়নি। জানুয়ারির শেষ দিকে ভাইরাসটির কেন্দ্রস্থল চীনের সাথে সীমানা বন্ধ করে দেয় তারা।

ফিনান্সিয়াল টাইমস জানাচ্ছে, দেশটিতে কমপক্ষে ৫৯০ জন নাগরিকের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। যারা সকলেই জানুয়ারিতে দেশের বাইরে থেকে এসেছিলেন এবং তাদের ফলাফল নেতিবাচক এসেছে। তবে বিদেশি মিডিয়া এবং বিশেষজ্ঞরা সরকারি এই সংক্রমণের পরিমাণ সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ায় করোনাভাইরাসে মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, কিন্তু দেশটির সরকার বিষয়টি বাকি বিশ্ব থেকে গোপন করছে।

নিউজ সাইট ডেইলি এনকের দাবি, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ১৮০ জন সেনা এই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এছাড়াও ৩ হাজার ৭০০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার ‘চোসুন ইলবো’ পত্রিকা থেকে জানা যায়, চীন সীমান্তবর্তী সিনুইজু শহরে কমপক্ষে দুটি সন্দেহজনক ঘটনা রয়েছে। ডেইলি এনকে’র দাবি, এই সিনুইজু শহরটিতে করোনভাইরাসে পাঁচজন মারা গেছে।

বিজনেস ইনসাইডারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবা দুর্বল হওয়ায় করোনাভাইরাসের মতো প্রাদুর্ভাব পরিচালনায় তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউনিসেফের প্রাক্তন কর্মকর্তা নাগি শফিক বিজনেস ইনসাইডারকে বলেছেন, দেশটিতে পর্যাপ্ত ওষুধ নেই, তাদের মহামারির মুখোমুখি হওয়ার বিষয়ে আমি সত্যিই উদ্বিগ্ন।

ফিনান্সিয়াল টাইমসকে উত্তর কোরিয়ার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, দেশটিতে বর্তমানে নাগরিকদের জন্য করোনা পরীক্ষার পর্যাপ্ত কিট নেই। তবে, সরকার কোভিড-১৯’র পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে। এবং এ বিষয়ে তাদের যথেষ্ট দক্ষতা রয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা বিভিন্ন সংস্থার কাছে কিট ও সুরক্ষা সামগ্রীর চেয়েছেন।

রয়টার্স জানিয়েছে, বেসরকারি সহায়তা সংস্থাগুলিও উত্তর কোরিয়াকে করোনা মোকাবেলায় সহায়তা করার চেষ্টা করছে। তবে চীনের সাথে সীমান্ত বন্ধ থাকায় তাদের সহায়তা করতে বেগ পেতে হচ্ছে। সরবরাহে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে।
দুর্বলতার একটি বিরল স্বীকৃতি স্বরূপ, কিম 18 মার্চ স্বীকার করেছেন যে তার দেশে পর্যাপ্ত আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা নেই এবং সাহায্যের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রিত কোরিয়া কেন্দ্রীয় নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) এর বরাত দিয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস রিপোর্ট করেছে। কেসিএনএ জানিয়েছে কিমের নির্দেশে বুধবার নতুন পিয়ংইয়াং জেনারেল হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।
ম্যাডিসিনস সানস ফ্রন্টিয়ারস নিউজ এজেন্সিটিকে বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার জরুরী সরবরাহের জন্য বেইজিং এবং উত্তর কোরিয়ার সীমান্তবর্তী শহর ড্যান্ডং বন্ধ থাকা সত্ত্বেও কর্মকর্তারা সীমান্ত পেরিয়ে কিটটি পাওয়ার জন্য কাজ করছেন।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা (কেসিএনএ)’র বরাতে বার্তাসংস্থা এপি জানিয়েছে, গত ১৮ মার্চ কিম জং উন তার দেশে পর্যাপ্ত আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা না থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত করার তাগিদ দিয়েছেন। এটি উত্তর কোরিয়ার চিকিৎসা ব্যবস্থার নাজুক অবস্থা প্রমাণ করে।

কেসিএনএ জানিয়েছে, কিমের নির্দেশে বুধবার নতুন পিয়ংইয়াং জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।









Leave a reply