খাগড়াছড়িতে অজ্ঞাত রোগে শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৩০

|

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
সাজেকের পর এবার খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় দেখা দিয়েছে হামের প্রাদুর্ভাব। দূর্গম এলাকার লোকজন জানেনা রোগ এবং রোগের উপসর্গ সম্পর্কে। তাই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। দূর্গম পাহাড়ে ছড়াচ্ছে এ রোগ। এতে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, দূর্গম এলাকার লোকজন স্বাস্থ্য সচেতন কম বলেই ঝুঁকিতে রয়েছে তারা। এলাকায় চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে মেডিকেল টিম। আক্রান্ত সব শিশুর বয়স ১০ বছরের নিচে।

চলতি মাসের মাঝামাঝিতে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের শিয়ালদাহ গ্রামে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় পাঁচ শিশু। প্রথমদিকে এলাকার লোকজন জানতেন না রোগ সম্পর্কে। পরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় চিকিৎসা সেবার পর সুস্থ্য হয়ে উঠে হামে আক্রান্ত শতাধিক শিশু।

এর কিছুদিন পর নতুন করে অজ্ঞাত রোগ দেখা দেয় খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার দূর্গম রথিচন্দ্র কার্বারী পাড়ায়। এ রোগে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে আরও ৩০ জনের মত। ৯ বছর বয়সী মারা যাওয়া শিশুর নাম ধনিকা ত্রিপুরা। সে রথি চন্দ্র কার্বারী পাড়ার অমি রঞ্জন ত্রিপুরার মেয়ে বলে জানা গেছে।

রথিচন্দ্র কার্বারী পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ধনিময় ত্রিপুরা বলেন, গত কয়েক দিন ধরে এলাকার শিশুরা প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। পরে তাদের শরীরে লাল লাল গুটি দেখা দিচ্ছে যা হামের লক্ষণ। কিন্তু এলাকাটি দূর্গম হওয়ায় এখানে কোনো চিকিৎসাসেবা নেই। মারা যাওয়া শিশুটিও একই লক্ষণ নিয়ে শনিবার (২৮ মার্চ) মারা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আক্রান্ত ধনিকা ত্রিপুরার মৃত্যুর পর যোগাযোগ করা হলে ডাক্তার এসে আক্রান্তদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। বর্তমানে আক্রান্ত ৩০জন। রবিবার সকাল থেকে মেডিকেল টিম তাদের কার্যক্রম শুরু করে।

আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে শিশুটির চিকিৎসা চলছে। দ্রুত এলাকায় শিশুদের হাম টিকা দেয়া না হলে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও জানায় তারা।

দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. তনয় ত্রিপুরা জানান, খবর শুনে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। আমরা তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছি। হাম আক্রান্তের লক্ষণ থাকলেও পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়া তা বলা যাবেনা। ঢাকায় এদের নমুনা পাঠানো হবে। পরবর্তী প্রয়োজনে এখানে জরুরী ভিত্তিতে বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে হামের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, হাম-রুবেলা দূর করার জন্য একটি এমআর ক্যাম্পেইন করার কথা ছিল। কিন্তু দেশের বিশেষ পরিস্থিতির কারণে স্থগিত করা হয়েছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এখানে ক্যাম্পেইনটি চালু করা যায় কিনা দেখবো। আপাতত আক্রান্ত এলাকায় পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা গ্রহনের কথা জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসনের এই কর্মকর্তা।

খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন নুপুর কান্তি দাশ বলেন, পাহাড়ের প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকার মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা কম এবং তারা কুসংস্কারে বিশ্বাসী। স্থানীয়দের মধ্যে টিকাভীতিও রয়েছে। এসব কারণে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। তবে আক্রান্ত এলাকায় খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।









Leave a reply