শীতে বাড়ছে রোগের প্রকোপ: কী করবেন?


প্রচণ্ড শীতে রোগের প্রকোপ বাড়ছে রাজধানীতে। এজমা, ব্রঙ্কাইটিসসহ ঠান্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। বক্ষব্যাধি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়েকদিনে প্রায় দেড়গুণ বেড়েছে রোগীর সংখ্যা। চিকিৎসকরা বলছেন, দিনে তিন সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রার পার্থক্যই মানব শরীরে প্রভাব ফেলতে যথেষ্ট। তাই চলমান শৈত্য প্রবাহে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ তাদের।

দেশের বিভিন্ন স্থানে তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। সেই তুলনায় ঢাকায় তাপমাত্রা বেশি হলেও প্রভাব কম নয় মোটেও। মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে ঠান্ডাজনিত নানান রোগ।

চিকিৎসকরা বলছেন, শুকনো মৌসুমে বাতাসে ধুলো-বালির পরিমাণ বেশি থাকে। তার ওপর তীব্র শীত। দুইয়ে মিলে ঠান্ডাজনিত রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়ার প্রভাব পড়ছে; সাইনোসাইটিস, ব্রঙ্কাইটিস, শ্বাসতন্ত্রের রোগ বাসা বাঁধছে শরীরে।

ঠাণ্ডায় সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হয় শিশুরা। বেশি ঠাণ্ডায় অনেক সময় শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে। হালকা জ্বর, বাচ্চার খেতে না চাওয়া, বুকের পাঁজরের মধ্যে চামড়া বা মাংস ঢুকে যাওয়া নিউমোনিয়ার লক্ষণ। এই অসুখ হলে শিশু প্রতি মিনিটে ৪০ বারের বেশি শ্বাস নেবে। তখন বুঝতে হবে এটি সাধারণ ঠান্ডা লাগার সমস্যা নয়। এ রকম হলে শিশুকে নিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

শ্বাসকষ্ট হলে শিশু সারা রাত কান্নাকাটি করবে। শুয়ে থাকতে পারবে না, বসে থাকবে। নেবুলাইজার বা ইনহেলার ব্যবহার করলে শিশু ভালো থাকে। তবে হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট শুধু শীতকালীন রোগ না। শীতকালে এর প্রকোপটা বেশি হয়।

শীতে ঘাম কম হয়। তাই চর্মরোগের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তবে শীতের আবহাওয়ায় ত্বক শুষ্ক হয়ে ফেটে যেতে পারে। অলিভ অয়েল বা লুব্রিকেন্ট-জাতীয় কিছু ব্যবহার করলে এই সমস্যা থেকে রেহাই মেলে। শীতকালে মাথায় প্রচুর খুশকি দেখা যায়। শরীরের অন্যান্য জায়গার মতো মাথার ত্বকে কিন্তু আমরা লোশন বা এ রকম কিছু মাখি না। তাই অন্য সময়ে যদি মাথায় আমরা সপ্তাহে দুবার শ্যাম্পু ব্যবহার করি, শীতকালে করা উচিত চার বা পাঁচবার। তাহলে ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু শীতে আমরা অনেক সময় তাড়াতাড়ি গোসল সারতে গিয়ে শ্যাম্পু ব্যবহার করি কম। মাথার খুশকি মুখে পিঠে পড়ে এর প্রকোপে ব্রণও দেখা দিতে পারে।

রেসপিরেটরি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বশীর আহাম্মদ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক বেশি সতর্কতা প্রয়োজন। কান-বুক ও গলায় ঠাণ্ডা না লাগার বিষয়ে সর্বোচ্চ যত্নশীল হতে হবে। তবে কোনো জঠিলতা তৈরি হলে নিজে নিজে ঔষধ সেবনে বারণ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার কথা বললেন তিনি।

 









Leave a reply