সরকারি ত্রাণ বিতরণে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাধা!

|

বরিশাল ব্যুরো:

বরিশালের মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ত্রাণ বিতরণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোববার দুপুর ১২টার দিকে ইউনিয়নের রামারপোল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাপান সরদার ত্রাণ বিতরণ করতে গেলে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতার লোকজন সেগুলো বিতরণে বাধা দেয়। স্থানীয়রা বলছে, ওই গ্রামের একজন সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শুভ্রা দাসকে কল দিয়ে এলাকাবাসীর অসহায়ত্বের কথা জানান। এরপর তাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণের জন্য ওই ব্যক্তির কাছে একটি তালিকা চান ইউএনও। পরে তাকে তালিকা দেয়া হলে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে তাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণের নির্দেশ দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী রোববার সকালে চেয়ারম্যান ত্রাণ নিয়ে ওই এলাকায় পৌঁছান।

ত্রাণ বিতরণের প্রস্তুতির সময় তার সঙ্গে একজন গ্রাম পুলিশ সদস্য ও দু’জন কর্মকর্তা ছিলেন। এর মধ্যে সেখানে লাঠিসোঠা নিয়ে হাজির হন স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা জাকির ভূঁইয়ার সন্তান মনির, জোবায়ের ও নাঈম। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই তিনজন এসেই অকথ্য ভাষায় চেয়ারম্যানকে গালাগালি শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা জানতে চান, এই ত্রাণ সরকারি কিনা? চেয়ারম্যান হ্যাঁ-সূচক জবাব দিলে তারা বলেন, এখানকার আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি জাকির ভূঁইয়া, তাকে না জানিয়ে কীসের ত্রাণ বিতরণ । এসময় সেখানে ত্রাণ নিতে যাওয়া লোকজনকে লাঠি দিয়ে ভয় দেখালে তারা পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী জাকির ভূঁইয়া, সেতু ভূঁইয়া, বেল্লাল ভূঁইয়া ও বশির ভূঁইয়া সেখানে গিয়ে ত্রাণগুলো তাদের হেফাজতে নেন।

ইউপি চেয়ারম্যান জাপান সরদার বলেন, ইউএনও স্যারের নির্দেশে আমি ত্রাণ নিয়ে গিয়েছিলাম- কিন্তু জাকির ভূঁইয়ার ছেলেপুলের নির্দেশে আমি ত্রাণগুলো তাদের কব্জায় দিতে বাধ্য হই।

ইউএনও শুভ্রা দাস বলেন, আমি চেয়ারম্যানকে তালিকা দিয়ে ত্রাণ বিতরণের জন্য নির্দেশ দিয়েছিলাম। তিনি আজ গিয়েছিলেন। তবে তালিকাভুক্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি।

ত্রাণ ছিনতাইয়ের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি। বলেন, তালিকায় যাদের নাম রয়েছে- তাদের কাছে দ্রুতই ত্রাণ পৌঁছে দেয়া হবে।









Leave a reply