করোনা নিয়ে ট্রাম্পের যত বেফাঁস কথা

|

বিষয় যা-ই হোক, বেফাঁস মন্তব্য করতে জুড়ি নেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের। জুড়ি নেই উল্টাপাল্টা কিছু বলে, মুহুর্তে ভোল পাল্টাতেও। করোনার ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যেও, হচ্ছে না ব্যতিক্রম।

করোনা মহামারীর দুর্যোগের মধ্যেও একের পর এক বেফাঁস মন্তব্য করে, বিনোদনের খোরাক হচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য যখন সমালোচনা হচ্ছে তার, তখনও অন্যদের ওপর দোষ চাপিয়ে বাঁচতে চাইছেন তিনি। প্রতিদিনই নতুন কাউকে করছেন আক্রমণের নিশানা। বিরোধীদের মতে, উল্টাপাল্টা বলে নিজের ভুল আড়াল করার চেষ্টা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

শুরু থেকেই, ট্রাম্পের আক্রমণের নিশানায় চীন। তার অভিযোগ, তথ্য গোপন করে মহামারী পরিস্থিতি জটিল করেছে বেইজিং। চীনঘেঁষা আখ্যা দিয়ে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দিকেও।

ট্রাম্প বলেন, বিতর্ক খারাপ কিছু নয়। আমি নিজের মতামতের বিষয়ে বরাবরই সৎ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অবশ্যই গ্রহণ করবো। তবে মতের অমিল হতেই পারে।

অন্যদিকে ট্রাম্পের এইসব বেফাঁস মন্তব্য নিয়ে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম রীতিমতো বিবৃতি দিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া-চীন বিজনেস কাউন্সিলের ন্যাশনাল বোর্ড মেম্বার ডার্লি গাপ্পি বলেন, শুরু থেকেই চীন করোনার ভয়াবহতার কথা বলে এসেছে। তখন পশ্চিমারা ব্যবস্থা নেয়নি কেন? আসলে বিষয়টি আমলে নেয়নি তারা।

প্রথমে করোনাকে ‘চীনা ভাইরাস’ আখ্যা দিয়ে অবহেলা করেন ট্রাম্প। পরে, যুক্তরাষ্ট্রে মহামারি আকারে ছড়ালে তিনি বলেন, দ্রুত ঠিক হয়ে যাবে সব। তবে করোনাকে তেমন পাত্তা দিতে আগ্রহী না হলেও, প্রতিদিন নিজে ব্রিফিং করে আলোচনায় থাকছেন ট্রাম্প।

উইলসন সেন্টার বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি উদ্ভাবক নিনা জাঙ্কউইজ বলেন, এসময় সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, পরীক্ষা, চিকিৎসাকে গুরুত্ব না দিয়ে চীনকে দোষারোপের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেয়া। এটা তো আপনি দু’মাস পরেও করতে পারতেন।>

কিসিঞ্জার ইনন্সিটিউটের সহকারি প্রোগ্রামার রুই ঝং বলেন, আমি নিশ্চিত না, প্রেসিডেন্টের ডেইলি ব্রিফিংয়ের উদ্দেশ্য কী? তিনি বরং একেকদিন একেক কথা বলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন এক কথা, কর্মকর্তারা বলেন আরেকটা।>

বিশ্লেষকদের মতে, নভেম্বরের নির্বাচনের আগে করোনা ব্রিফিং-কে প্রচারণার কাজে লাগাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।









Leave a reply