বিশ্বে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু ও আক্রান্তের নতুন রেকর্ড

|

করোনাভাইরাসে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে গত ২৪ ঘণ্টায়। বিশ্বজুড়ে প্রাণ হারিয়েছে ৮ হাজারের বেশি মানুষ। নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে প্রায় ৮৫ হাজার মানুষের।

এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। প্রতিদিনই মৃত্যুর নতুন রেকর্ড গড়া দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ২৪৮২ জন। যা আগের দিন ছিল ২৪০৭ জন।

যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্র করোনাভাইরাস সংক্রমণের সর্বোচ্চ পর্যায় অতিক্রম করে ফেলেছে। চলতি মাসেই কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে কড়াকড়ি শিথিল করার কথাও ভাবছেন তিনি।

মৃত্যুর মিছিল বয়ে গেছে ইউরোপের দেশগুলোতেও। একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে ফ্রান্স ও জার্মানি। অন্যদিকে, এশিয়ায় দেশগুলোর মধ্যে জাপান ও সিঙ্গাপুরে করোনার সংক্রমণ বেড়েছে। সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর্যন্ত বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ১০৮ জন, নতুন আক্রান্ত হয়েছেন ২১ লাখ ১ হাজার ৮৬৬ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫ লাখ ২৩ হাজার ৯৯২ জন।

বলাই বাহুল্য, করোনায় মৃত্যুতে সবাইকে ছাপিয়ে শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এ পর্যন্ত ২৮ হাজার ৫৭২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৮০৬ জন। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটেছে নিউইয়র্কে। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সেখানে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৭৮৬ জন। মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৮৪২ জনে। আক্রান্ত হয়েছে দুই লাখেরও বেশি মানুষ। পাশ্ববর্তী নিউজার্সিতে আক্রান্ত হয়েছে ৬৮ হাজার ৮৩৪ জন, মারা গেছে ২ হাজার ৮০৫ জন।

তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তবু আশাবাদী। হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আমরা আমাদের দেশকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে চাই। পরিসংখ্যান দেখে বোঝা যাচ্ছে, আমরা সংক্রমণের শীর্ষ পর্যায় পার করেছি। আশা করছি, এটি অব্যাহত থাকবে এবং আমরা দুর্দান্ত অগ্রগতি অব্যাহত রাখব।

এদিকে, স্পেনের ২৭ হাজারেরও বেশি চিকিৎসাকর্মীর করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির এক কর্মকর্তা। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে জরুরি সমন্বয় কেন্দ্রের পরিচালক ফার্নান্দো সাইমন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মহামারি মোকাবেলা করতে গিয়ে বহু সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। এদের বেশিরভাগই সুস্থ হয়ে আবারও কাজে যোগ দিয়েছে।

দেশটিতে লকডাউন শিথিলের পর আক্রান্তের হার বাড়তে শুরু করেছে। দেশটিতে ১ লাখ ৮০ হাজার ৬৫৯ জন করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ১৮ হাজার ৮১২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৫৫৭ জনের।

সিঙ্গাপুরে বুধবার একদিনে ৪৪৭ জনের দেহে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দ্বীপরাষ্ট্রে একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক করোনা রোগী শনাক্তের রেকর্ড। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া হিসাব অনুযায়ী, এর মধ্যে ২৫৬ জনই প্রবাসী বাংলাদেশি। এ নিয়ে সিঙ্গাপুরে কোভিড-১৯-এ আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৬৯৯ জন।

ইউরোপের দেশে জার্মানিতে প্রথমবারের মতো ২৪ ঘণ্টায় তিন শতাধিক করোনায় আক্রান্ত মানুষ মারা গেছে। এ নিয়ে দেশটিতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৩ হাজার ৮০০ জনে। বুধবার একদিনে ৩১৫ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে মোট আক্রান্ত ১ লাখ ৩০ হাজার ৪৫০ জন। এদিকে করোনা প্রতিরোধে মানুষের চলাচলে যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ রয়েছে আগামী ৩ মে থেকে তা প্রত্যাহার করার পরিকল্পনা করছে জার্মান সরকার।

করোনায় বিপর্যস্ত আরেক দেশ ইতালিতে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে আরও ৫৭৮ জন। তবে, এতেও আশার আলো দেখছেন চিকিৎসকরা। কারণ, এর আগের দিনের তুলনায় আক্রান্ত ও মৃতের হার কমেছে দেশটিতে। দেশটিতে করোনায় মোট মৃত্যু হয়েছে ২১ হাজার ৬৪৫ জনের, মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ১৫৫ জন।









Leave a reply