চিকিৎসক স্বাস্থ্যসচিব, শিক্ষক শিক্ষাসচিব চাই

|

নাজমুল হোসেন:

কে বেশি সৌভাগ্যবান? বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নাকি কানাডার প্রধানমন্ত্রী? নিঃসন্দেহেই কানাডার প্রধানমন্ত্রী। কারণ ট্রুডোর দেশের জনগণ করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের কথা মেনে চলেন। আর বাংলাদেশি আমজনতা প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা না করে নিজেদের খেয়ালখুশি মতোই চলতে পছন্দ করেন। আর দোষ সব সরকারের।

সেদিন এক ব্যাংকার ছোটভাইয়ের অভিজ্ঞতা শুনে তাজ্জব বনে গেলাম। লকডাউনের মধ্যে একজন গ্রাহক সাড়ে ছয় লক্ষ টাকার ব্যালান্স থাকলেও মাত্র দুই হাজার টাকা তুলতে এসেছেন। জিজ্ঞাসা করতেই সোজা উত্তর, ঘরে বোর ফিল করছিলাম। তাই পুলিশকে চেক দেখিয়ে ব্যাংকে এসেছি। পরেরদিন আসবেন এই দুই হাজার টাকা জমা দিতে।

এবার মূল প্রসঙ্গে আসি। বাংলাদেশের দুইটি খাতে এনজিওদের দাপট বেশি। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাত। কারণ দাতাগোষ্ঠী খুব ভালো করেই জানে, এই দুই খাতের উন্নয়ন মানেই বাংলাদেশ স্বাবলম্বী হয়ে যাবে। তাই উন্নয়নের বদলে বাংলাদেশকে গরীব দেখতেই তারা পছন্দ করে। একশ্রেণির বাংলাদেশি আছেন যারা বিদেশি ভিক্ষায় বেঁচে থাকতে পছন্দ করেন। এনজিওগুলোর বেশিরভাগই নিয়ন্ত্রণ করেন সাবেক বাম নেতারা। মুখে সুন্দর বুলি আর স্বার্থের প্রশ্নে সবাই একাট্টা।

দেশের বেসরকারি হাসপাতাল ও প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি লাভজনক। তাই মালিকেরা এই সেক্টরের সুরক্ষার জন্য রাজনীতিতে জড়িয়ে যান। আর নিজেদের ফায়দা রক্ষা করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন বেসরকারি হাসপাতাল নামক কসাইদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাবেন তখন বেসরকারি একটি হাসপাতালের মালিকরা এক হয়ে সরকারের কাছে লোকদেখানো নাকে খত দিচ্ছেন। এসবকিছুর নেতৃত্ব দিচ্ছেন সরকারের এক ডাক্তার প্রতিমন্ত্রী।

অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় করোনার সময় অনলাইনে ক্লাস-পরীক্ষা নিচ্ছেন। কারণ সেমিস্টার ফি মওকুফ করতে তারা নারাজ। অথচ এসব শিক্ষা ব্যবসায়ীরা করোনার অজুহাতে শিক্ষকদের বেতন কম দিচ্ছেন।

করোনা সংকটের সময় কোনো বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা হাসপাতাল নিজেরাই স্বউদ্যোগে গবেষণা করতে নারাজ। বরং ফেসবুকে ত্রাণের নামে শিক্ষক সমিতি, বিএমএ, স্বাচিব নেতারা ব্যস্ত সময় পার করছেন।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে নৈরাজ্যের কারণে প্রতিবছর অসংখ্য মেধাবী জনগণের ট্যাক্সের টাকায় প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা মেডিকেলে পড়ালেখা শেষ করেই উন্নত ভবিষ্যতের জন্য বিদেশ চলে যান। সেখানেই স্থায়ী আবাস গড়ে তুলেন। বাংলাদেশি কমিউনিটি শক্তপোক্ত হয়। এরপর বৃদ্ধ বাবা-মাকে বিদেশে নিতে টানাপোড়েন শুরু হয়।

মাত্র বিশ লক্ষ টাকার শিক্ষাবৃত্তি দিয়ে সাদা চামড়ার অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, আমেরিকা, নেদারল্যান্ড, জার্মানি কিংবা জাপান বাংলাদেশের মেধাবীদের নিজেদের আজীবনের সম্পদ বানিয়ে নেয়। আর কিছুদিন পরপর পত্রিকায় হেডলাইন দেখি, অমুক আবিস্কার করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত বিজ্ঞানী কিংবা চিকিৎসক। আমরা খুশিতে আত্মহারা হই। তৃপ্ত হই। অথচ গরীব দেশের টাকা খরচ করে এসব মেধাবীরা বিদেশেই স্থায়ী হচ্ছেন বাধ্য হয়ে। সরকার সুযোগ করে দিলে এই রত্মগুলো বাংলাদেশে ফিরে আসতো। কিন্তু সেই ব্যবস্থা বাংলাদেশে নেই।

ধরা যাক, পাটের জন্মরহস্য আবিস্কারক ড. মাকসুদুল আলমের কথা। বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত বলেই উনি জীবন সায়াহ্নে দেশকে প্রতিদান দিয়ে গিয়েছেন। কারণ তাঁকে সরাসরি সহযোগিতা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নইলে আমলাতান্ত্রিক মারপ্যাঁচে ভদ্রলোকের জীবন কাহিল হয়ে যেত। অনেক প্রবাসী মেধাবী বাংলাদেশি মাতৃভূমির জন্য কিছু করতে চান কিন্তু রাষ্ট্রযন্ত্রের সিস্টেম তাকে স্বাগত জানায় না।

বঙ্গবন্ধু আমলাতন্ত্রকে ভাঙতে চেয়েছিলেন বলেই বাকশাল পদ্ধতি চালু করেছিলেন। কিন্তু বাকশাল সফল করার আগেই তাঁকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। পাকিস্তান আমলে প্রতাপশালী ছিলো আর্মি অফিসাররা। আর বেশিরভাগ সিএসপি অফিসার আর্মিদের কাছ থেকে ফায়দা নিতো কিন্তু বাঙালির উন্নয়নে কিছুই করেনি। আর্মি আর আমলাতন্ত্রের কারণে সবসময় অবহেলিত ছিলো গোটা পূব পাকিস্তান। বাঙালি সিএসপি অফিসারদের কিছু ছিলেন দেশপ্রেমিক।

শোষণ আর বঞ্চণার বিষটি বুঝতে পেরে ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু দিয়েছিলেন ছয় দফা প্রস্তাব। বঙ্গবন্ধুর মতো রাজনীতিবিদদের কাছে ছয়দফা প্রস্তাবের বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন বাঙালি শিক্ষক এবং আমলারা। বঙ্গবন্ধুর সাথে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় ফাঁসির মঞ্চে যেতে প্রস্তুত ছিলেন বাঙালি সেনা আর আমলারা। অথচ স্বাধীনতার পর সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে আমলাতান্ত্রিক দৌরাত্ম্যের অবসান হয়নি ।

বঙ্গবন্ধু সরকারের শিক্ষা সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির অধ্যাপক ড. কবীর চৌধুরীকে। কিছু আমলা সেই সিদ্ধান্ত মানতে পারেননি। তারা মাস্টার মশাইকে ফেল করাতে ষড়যন্ত্র শুরু করেন। দশজন আমলা গিয়ে ছলে বলে ড. কবীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর কাছে নালিশ জানাতে শুরু করেন। পরবর্তীতে তাঁকে সরিয়ে নিয়মিত আমলাকেই শিক্ষা সচিবের দায়িত্ব দেয়া হয়।
আমলাতান্ত্রিক মারপ্যাঁচ বন্ধ করতেই বঙ্গবন্ধু বাকশাল গঠন করেন। সেনা, অ্যাডমিন, পুলিশ, শিক্ষক সবাইকে তিনি এক কাতারে নিয়ে আসেন। কিন্তু সফল হতে পারেননি। তাইতো বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর আমলাদের চরিত্র বদলাতে সময় লাগেনি।

জিয়া এবং এরশাদের আমলে আমলাদের গায়ে আঁচড় লাগেনি। কারণ সেনাবাহিনী শুধু অ্যাডমিন ক্যাডারকেই ভয় পায়। এ কারণেই ক্ষমতায় পোক্ত রাখতে সাবেক সেনা অফিসারদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় মন্ত্রী কিংবা উপদেষ্টা পদে বসালেও সচিব পদে হাত দিতে পারেননি। কোনো ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাহেব সচিবের চেয়ারগুলো দখল করতে পারেনি।

সামরিক স্বৈরশাসক হিসেবে পরিচিত এরশাদ উপজেলা সিস্টেমকে সফল করতে ১৯৮৪ এবং ১৯৮৫ সালে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নয় শতাধিক উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করেন। এরপর শুরু হয় মাথাভারি প্রশাসনের যাত্রা। চেয়ার নেই কিন্তু অফিসার অনেক। অফিসারদের সাহেব বানাতে সাভারে লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। যেখানে একজন তরুণ-তরুণীকে মানুষ থেকে অফিসার বানানোর ট্রেনিং দেওয়ার রেওয়াজ চালু আছে।

শুধুমাত্র উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ পাওয়া অফিসাররা পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন দপ্তরের চেয়ার দখল করা শুরু করেন। এই ধারা এখনও অব্যাহত আছে। যেমন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের শুরু থেকেই চেয়ারম্যান পদে শিক্ষকরাই আসীন ছিলেন। ওয়ান ইলেভেনের পর ড. সা’দত হোসাইন চেয়ারম্যান হওয়ার পর শিক্ষকেরা তাদের হারানো চেয়ারে আর বসতে পারেননি। একই অবস্থা সায়েন্স ল্যাবের চেয়ারম্যান। অদূর ভবিষ্যতে ইউজিসির চেয়ারও হয়তো হাতছাড়া হয়ে যাবে। কারণ সংস্থাটির সাংগঠনিক কাঠামো প্রশাসন ক্যাডারের আদলে করা হয়েছে।

চিকিৎসকদের একই অবস্থা। তাদের সর্বোচ্চ পদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি। সরকারি হাসপাতালের পরিচালক এবং ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের বড় চেয়ারগুলো অনেক আগেই চিকিৎসকদের হাতছাড়া হয়ে গেছে। এরমধ্যে, চিকিৎসকরা নিজেরাই সকাল আটটা থেকে দুপুর ২টা অফিস নিয়ম চালু করেছেন। যাতে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করে অল্পদিনেই কোটিপতি হওয়া যায়। হাসপাতালের অফিসাররা কলুর বদলের মতো দায়িত্ব পালন করেন কিন্তু প্রফেসর সাহেব মাসে একটা অপারেশন করতে নারাজ। তিনি ব্যস্ত ব্যক্তিগত ধান্ধা আর বড় গলাবাজি নিয়ে। বিএমএ, স্বাচিব, ড্যাব নামের সংগঠনগুলো আছে ডাক্তারদের দলবাজ বানাতে।

ক্লাসের মেধাবী ছেলে কিংবা মেয়েটি কিন্তু বুয়েট অথবা মেডিকেলে পড়ালেখার সুযোগ পায়। কিন্তু সার্ভিসে এসে দেখে তাদের সর্বোচ্চ পদ প্রধান প্রকৌশলী কিংবা ডিজি হেলথ। তখন একধরনের হতাশা তৈরি হয়। সবাই তখন নিজের সার্ভিসকে ভালোবাসার বদলে নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত থাকেন। একারণেই হতাশা তৈরি হয়। একারণে এখন একজন বুয়েট স্নাতক কিংবা ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসকের বিসিএস পরীক্ষায় প্রথম পছন্দ থাকে অ্যাডমিন কিংবা পুলিশ। কারণ হাসপাতালের পরিচালকের জন্য বরাদ্দ হাইস গাড়ি আর একজন ডিসি কিংবা এসপি পান পাজেরো গাড়িসহ অনেক সুযোগ সুবিধা।

আমাদের সমাজব্যবস্থা সরকারি আমলাদের ক্ষমতাকে কুর্নিশ করে। যেকারণেই একজন রাজনীতি করা ত্যাগী সৎ নেতার পাশে কেউই থাকে না। ছাত্ররাজনীতি করে মূল রাজনীতিতে আসা তৃণমূলের রাজনীতিবিদ মানুষটি অল্পতেই কোটিপতি হতে চান। কারণ তার কাছে মানি মানেই পাওয়ার। সেই পলিটিক্যাল পাওয়ারের কারণে পুচকা আমলারা ভালো পোস্টিং কিংবা সুবিধার রাজনীতিবিদের পেছনে ছোটেন। আর রাজনীতিবিদ কোনোমতে গ্রুপিং সাইজ হলেই আমলারাও পল্টি নিতে সময় লাগে না।

একজন ডিসি কিংবা এসপি সাহেব মাঠপ্রশাসনে নিজেদের কর্তৃত্ব জাহির করতে ব্যস্ত থাকেন। কারণ তাদের হাতেই রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা। এমন একটা বলয় তৈরি করেন যখন প্রধানমন্ত্রীর বাধ্য হয়ে নিজ দলের নেতা-কর্মীদের পরিবর্তে ডিসি-এসপি সাহেবদের উপর আস্থাশীল হতে হয়। সমালোচকরা বলেন, ডিসি সাহেবরা এখন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আর এসপি সাহেবরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ওসি সাহেব থানা আওয়ামী লীগের মা-বাপ।

অনেকে বলেন, এখন জেলায় হয় ডিসি মেলা আর উপজেলায় হয় ইউএনও মেলা। অমুক দিবস, তমুক দিবস, অমুক স্কুল কমিটির চেয়ারম্যান, তমুক কমিটির সভাপতি ইত্যাদি। অনেক অপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যস্ত সময় পার করতে হয় মাঠ প্রশাসনের অফিসারদের। এর মধ্যে আছে প্রটোকল নামক জবরদস্তিমূলক সম্মান নেয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতা। মাঠ প্রশাসনের মূল কাজ বাদ দিয়ে অনিচ্ছা সত্ত্বেও ইউএনও কিংবা ওসি সাহেব হুকুম বাস্তবায়ন করতেই ব্যস্ত সময় পার করেন। অথচ এখন অনেক মানবিক ডিসি-এসপিদের আমরা দেখতে পারি। আবার উদ্ভাবনী ক্ষমতা নিয়ে অনেক ইউএনও-এসিল্যান্ড-ওসিরা বিভিন্ন উপজেলার চিত্র বদলে দিচ্ছেন।

আমি বিশ্বাস করি, ইদানীং মাঠ প্রশাসনের অফিসারদের সেবার মানসিকতাই বেশি। নইলে করোনাভাইরাসের সময় উনারা যেভাবে জীবন বাজি রেখে দায়িত্ব পালন করছেন সেটা হতো না। তাদের স্যালুট দেই। পুলিশ সদস্যরা একাত্তরের রাজারবাগের শহীদ পুলিশ সদস্যদের উত্তরসূরি হিসেবে কাজ করছেন। করোনা মহামারিতে পুলিশ নিয়ে মানুষের নেতিবাচক ধারণা বদলের পরীক্ষায় নেমেছেন তারা। আমার বিশ্বাস, পুলিশ এই যুদ্ধে সফল হবেই।

আমার মতে, শিক্ষা ও চিকিৎসা দুই খাতকে ক্যাডার সার্ভিস থেকে বাদ দিয়ে স্বতন্ত্র কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা সময়ের দাবি। তাহলে অ্যাডমিন-পুলিশ ক্যাডারের সাথে তুলনা করে শিক্ষক কিংবা চিকিৎসকেরা দ্বিধায় ভুগবেন না। ব্যাংকারা নিজেদের মতো করেই চলতে পারলে মাস্টার-ডাক্তার মশাইরাও পারবেন। সমাজে চিকিৎসক এবং শিক্ষক দেবতাতূল্য। তাদের সেই সম্মানের আসনে বসানো উচিত।

আমার মতে, আমলাতন্ত্রের চাবিকাঠি অ্যাডমিন ক্যাডারের হাতেই থাকা উচিত। জুনিয়রদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া উচিত। গাইবান্ধার ডিসি সাহেব সাদুল্লাপুরের ইউএনও নবী নেওয়াজের সাথে যেটা করেছেন তা খুবই দুঃখজনক। সাহসী ইউএনও সাহেব ২২ মাচ উপজেলা লকডাউন করলে ডিসি সাহেব তা অস্বীকার করে নিজেদের দৈন্যতা প্রকাশ করেছেন। আমার বিশ্বাস, ডিসি সাহেবকে কোনো সচিব হয়তো ধমক দিয়েছেন।

প্রশাসন কতটা চমৎকার হয় তার উদাহরণ প্রতিবেশী দেশ ভারত। দেশটির মন্ত্রিপরিষদ সচিব রাজিব গাউবা করোনাভাইরাস যুদ্ধের প্রধান সেনাপতি। তবে সেদেশের জুনিয়র অফিসাররা রাজনৈতিক দলাদলির মধ্যে নয়, নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ পান। বাংলাদেশেও নিশ্চয়ই আমতান্ত্রিক লালফিতার দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে একদিন। উদ্যোমী অফিসাররা এগিয়ে নিয়ে যাবে মাঠ প্রশাসনকে।

শেষে বলতে চাই, তথ্য কাডারের অফিসার কামরুন নাহার যেমন তথ্য সচিব হয়েছেন, আইন সচিব যেমন মাঠে বিচারকাজ করে আসা বিচারক ঠিক একইভাবে শিক্ষা ক্যাডার থেকে শিক্ষাসচিব, চিকিৎসকদের মধ্য থেকে স্বাস্থ্যসচিব, প্রকৌশলী কেউই গণপূর্ত সচিব হওয়া এখন সময়ের দাবি।

আর চিকিৎসকদের মধ্যে সিনিয়রদের উপদেষ্টা রেখে পুরো স্বাস্থ্যখাতকে তরুণদের হাতে ছেড়ে দেন। সাফল্য আসবেই। কারণ এই করোনা পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। আর প্রথম শহীদ চিকিৎসকের নাম ডাঃ ফেরদৌস, যার বয়স ছিলো মাত্র ৩১ বছর।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী।









Leave a reply