বিমানবন্দরের ভেতরে মাওলানা সাদ, বাইরে বিক্ষোভ


শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেছেন ভারতের তাবলিগ জামাতের মুরুব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভী। আর এর প্রতিবাদে বিমানবন্দর চত্বরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে তাবলিগ জামাতের একাংশ। তাদের দাবি, বাংলাদেশে প্রবেশ না করে মাওলানা সাদকে নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। বেলা ১২ টার আগ থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির কারণে বিমানবন্দরের দু’পাশে ২০কিলোমিটারব্যাপী যানজট তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শাহজালালে পৌঁছান মাওলানা সাদ। তাকে স্বাগত জানানোর জন্য ঢাকার কাকরাইলের মুরুব্বি প্রকৌশলী সৈয়্দ ওয়াসিফুল ইসলামের নেতৃত্বে তাবলিগ জামাতের আরেক অংশের সমর্থকরা অবস্থান করছেন।মাওলানা সাদবিরোধীরা তাকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না ঘোষণা দিয়ে দুপুর ১২টা থেকেই বিমানবন্দর চত্বরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন।

বিক্ষোভকারীরা বলছেন, এবারের ইজতেমায় মাওলানা সাদের অংশ নেয়ার বিষয়ে তারা আগে থেকেই বিরোধিতা করে আসছেন। এ মোতাবেক তাদের আশ্বাসও দেয়া হয়েছিল যে, মাওলানা সাদ এবার আসছেন না। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত উপেক্ষা করে মাওলানা সাদকে নিয়ে আসায় তারা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন।

আন্দোলনকারীরা জানান, ইতিমধ্যে মাওলানা সাদ বিমানবন্দরের ভেতরে অবস্থান করছেন। কিন্তু তাকে বিমানবন্দরের ভেতর থেকে বাইরে আসতে দেয়া হবে না। তাকে ভারতে ফিরে যেতে হবে।

তাবলিগ জামাতের একাংশের এই বিক্ষোভের ফলে রাজধানীর ব্যস্ততম বিমানবন্দর সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখ্য, মাওলানা সাদ ‘তবলিগ করা ছাড়া কেউ বেহেশতে যেতে পারবে না’ বলে বক্তব্য দেয়ায় তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসার অনুসারীরা। তারা মাওলানা সাদকে এ বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়। কিন্তু তিনি উল্টো যুক্তি দেন। এ নিয়ে মাওলানা সাদের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে। দেওবন্দের অনুসারী বাংলাদেশের আলেমরা সাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তাকে টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমায় আসতে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাবলিগ জামাতের বাংলাদেশ শাখার ১১ শূরা সদস্যের মধ্যে ছয়জনই আলেমদের এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন।

গত ৬ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে আলেমরা সাক্ষাৎ করে মাওলানা সাদের ঢাকা সফরের ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবি জানান।

এর পর দিন যাত্রাবাড়ীর জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়ায় মাওলানা সাদকে নিয়ে বৈঠকে বসেন তবলিগ জামাতের মুরুব্বি ও কওমি আলেমদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি। এতে বাংলাদেশ তবলিগের শূরা সদস্য ও উপদেষ্টারাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উপস্থিত ২১ জনের মধ্যে ১৩ জন ইজতেমায় মাওলানা সাদের উপস্থিত না থাকার পক্ষে মত দেন। এরপরও  সাদকে বাংলাদেশে নিয়ে আসায় বিক্ষুব্ধ হয়ে সাদ বিরোধীরা।

উল্লেখ্য, আগামী ১২ জানুয়ারি ও ১৯ জানুয়ারি দুই দফায় বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে।









Leave a reply