ঝুঁকি নিয়েই মাঠে রয়েছেন মশক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা

|

মশককর্মী, ছবি-সংগৃহীত

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে এখন ঘরবন্দি রাজধানীর সিংহভাগ মানুষ। এরই মধ্যে শহরের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের কিছু মানুষ বাইরে কাজ করছেন। জীবনবাজি রেখে নগরের জনস্বাস্থ্য ঠিক রাখতে কাজ করা এ মানুষের তালিকায় রয়েছেন মশকনিধন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চিরচেনা রুটিন অনুযায়ী রাত ১টা থেকে কাকডাকা ভোরে এবং সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত নগর পরিষ্কার করছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিচ্ছন্নতা এবং মশকনিধন কর্মীরা ঝুঁকিভাতার দাবি জানিয়েছেন।

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিতভাবে দাবি জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের স্ক্যাভ্যাঞ্জার্স অ্যান্ড ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবদুল লতিফ।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, সিটি কর্পোরেশন এবং পৌরসভা এলাকার পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং মশকনিধনকর্মীরা করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যেও তাদের রুটিন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এজন্য তাদের ধন্যবাদ দেই। আর তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপকরণ এবং সঠিক সময়ে বেতনভাতা পরিশোধ করতে সিটি কর্পোরেশন এবং পৌরসভাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছি; কিন্তু এ মুহূর্তে তাদের জন্য ঝুঁকিভাতার ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। কেননা, সবার বেতন-ভাতা নিশ্চিত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। পৃথিবীর অনেক দেশ এ অবস্থায় সবার বেতন-ভাতাও নিশ্চিত করতে পারছে না।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করতে কাজ করছে প্রায় ৩ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী। আর মশকনিধন কাজে নিয়োজিত রয়েছে ৮৬৪ জন কর্মী।

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত রয়েছে ৫ হাজার ৩০০ জন এবং মশকনিধন কাজে নিয়োজিত রয়েছে ৪২৪ জন। রোববার বেলা ১১টায় সরেজমিন হাজারীবাগ বউবাজারসংলগ্ন সেকেন্ডারি ট্রান্সপার সেন্টার (এসটিএস)সংলগ্ন এলাকায় ময়লা পরিষ্কার করতে দেখা যায় কয়েকজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে।

তাদের একজন রহিমা খাতুন। তিনি বলেন, অফিস থেকে মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়েছে। পিপিই (পারসোনাল প্রটেকশন ইক্যুইপমেন্ট) দেয়ার কথা থাকলেও এখনও দেয়নি। আমরা ঝুঁকিভাতার দাবি জানিয়েছি।

পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) স্ক্যাভ্যাঞ্জার্স অ্যান্ড ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বলেন, আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপকরণ হিসেবে মাস্ক, হ্যান্ডগ্লাভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেয়া হচ্ছে। অতি ঝুঁকিপূর্ণ কাজ হওয়ায় আমাদের পিপিইও দেয়ার কথা ছিল; কিন্তু দেয়া হয়নি।

ডিএসসিসির মশকনিধন সুপারভাইজার মনিরুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত মাস্ক এবং হ্যান্ডগ্লাভস ব্যতীত অন্য কিছুই পাইনি।









Leave a reply